নওগাঁ স্টেডিয়ামের বেহাল দশা
আন্তর্জাতিকমানের স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি
নওগাঁ স্টেডিয়ামের বেহাল দশা
সবুজ ঘাসে ছেয়ে আছে মাঠ। ঘাসের মধ্যে থৈ থৈ করছে হাঁটু সমান পানি। দেখলে বিশ্বাসই হবে না যে এটাই নওগাঁ জেলার একমাত্র স্টেডিয়াম। সাকিব, মুশফিক, সৌম্যরা যখন মাতিয়ে রাখছেন দেশ তখন বছরের অর্ধেক সময়ই পানির নিচে ডুবে থাকে এ মাঠ। স্যাঁতসেঁতে মাঠে নিয়মিত খেলা কিংবা অনুশীলন করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না।

কিন্তু এ মাঠেই ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবলসহ জেলা ও বিভাগীয় খেলা অনুষ্ঠিত হয় একই সাথে। তাই মাঠের এ অবস্থার জন্য খেলোয়াড়দের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। নিয়মিত খেলতে না পারায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই সমস্ত পানি নেমে আসে স্টেডিয়ামের মাঠে। বন্ধ হয়ে যায় সব খেলা। বর্ষা মৌসুমে ছয় মাসই মাঠ পানির নিচে ডুবে থাকে। পানি জমে থাকায় ইতিমধ্যে স্টেডিয়ামের প্রচীরও ভেঙ্গে গেছে।

জেলার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলে সুনাম অর্জন করলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে স্টেডিয়ামটির বেহাল অবস্থা কাটছে না। তৈরি করার ৫৬ বছর পরও স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিকমানে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। দেশের অন্যান্য জেলার মত এ স্টেডিয়ামটিকেও আন্তর্জাতিকমানে নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য আরো একটি ভাল স্টেডিয়াম মাঠের প্রয়োজন নওগাঁবাসীর।

নওগাঁ জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁয় ১৯৫৯ সালের পয়লা জুন নওগাঁ স্টেডিয়ামটি পাঁচ একর ১৩ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয় । বর্তমানে মাঠের আকার ১৬ একর। ১৯৮৪ সালে তিন হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশে ৩০০ ফুট এবং দক্ষিণ পাশে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের গ্যালারি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামটিতে মাত্র ৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যালারি রয়েছে। এর মধ্যে একটি গ্যালারিতে শেড থাকলেও অপরটি শেড ছাড়া। এছাড়া একটি প্যাভেলিয়ন বিডি রয়েছে।

অফিস সহকারী শামসুর রহমান জানান, মাঠ নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর প্রায় পাঁচ-ছয় মাস সব ধরনের খেলা বন্ধ থাকে। স্টেডিয়াম মাঠের পূর্ব দিকে রয়েছে একটি পুকুর। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়াম বৃদ্ধির জন্য পুকুর ভরাট কাজ পর্যায়ক্রমে চললেও ১৬ বছরেও সেটি ভরাট করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পুকুরটি কচুরিপানার বাগানে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কয়েক জায়গায় সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরও জানান, এ মাঠে বাংলাদেশ ফেডারেশন, স্থানীয় লীগের, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের জেলা ও বিভাগীয় লীগের খেলা হয়। সবকটি খেলা মাত্র চার-পাঁচ মাসের মধ্যে শেষ করতে হয়। এ ছাড়াও বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন মেলাও হয়ে থাকে এই মাঠে।

এছাড়াও এই মাঠ থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন ফুটবলার এনামুল হক, মোছাদ্দেক হেসেন, উত্তম চক্রবর্তী, মনোয়ার হোসেন, ক্রিকেটার রুবায়েত হক সুনান এবং হকিতে আলমগীর আলম বর্তমানে বিকেএসপির প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

চারপাশের এলাকার চেয়ে মাঠটি অনেক নিচু হওয়া পানি জমে থাকে। আর পানিতে গজিয়েছে সবুজ ঘাস। দু’জন মহিলা হাঁটুপানিতে নেমে ঘাস কাটছিলেন। তারা বলেন, গরু ও ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য কাটছেন।

মাঠে ক্রিকেট খেলোয়াড় সোহাগ হোসেন এবং আহসান হাবীব জানান, নওগাঁয় একটি মাত্র স্টেডিয়াম। প্রধান দুটি খেলা ফুটবল এবং ক্রিকেট। বর্ষার সময় ক্রিকেট খেলোয়াড়দের বসে থাকতে হয়। এছাড়া শহরের যে স্কুলের কয়েকটি ছোট মাঠ আছে গুলোতেই অনুশীলন করতে হয়। মাঠে এ অবস্থার জন্য ভাল কোন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। মাঠে পানি জমে থাকায় কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে দায়ী করেছেন।

স্টেডিয়ামে ফুটবল প্রশিক্ষক বেলাল হোসেন জানান, মাঠে পানি জমে থাকায় প্রশিক্ষণের জন্য খুবই অনুপযোগী। এ মাঠে বছরে ৩ মাস প্রশিক্ষণ হয়। বাকি সময় জিলা স্কুল মাঠ এবং শহরের নওযোয়ান মাঠে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে না বলে জানান।

নওগাঁ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জানান, আশপাশ এলাকার চেয়ে মাঠ নিচু হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। আয়ের উত্স না থাকায় মাঠ সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। মাঠটি ভরাট করার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে এক কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মাঠের পানি নামলে এর কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ৩৪ জেলায় জাতীয়মানের ষ্টেডিয়াম নির্মাণ করার যে সরকারি নির্দেশনা আছে সেখানে নওগাঁ থাকলেও প্রশাসনিক ও জমি অধিগ্রহণের জটিলতা রয়েছে। বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করেও সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ষ্টেডিয়ামের উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জেলার সাংসদরা উদ্যোগ নিলে দ্রুত এ ষ্টেডিয়ামের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে জানালেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, স্টেডিয়ামের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন