অন্যায় আচরণের শিকার গ্যাটলিন!
২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
অন্যায় আচরণের শিকার গ্যাটলিন!
g  স্পোর্টস ডেস্ক

জাস্টিন গ্যাটলিন এমন সব আচরণের শিকার হচ্ছেন যেটা কোনভাবেই তার পাওনা নয়। সব ডোপপাপীর কলঙ্কের দায়ভার তাকে একাই বহন করতে হচ্ছে। ১১০ মিটার হার্ডলসের সাবেক বিশ্বরেকর্ডধারী এবং আমেরিকান এই স্প্রিন্টারের এজেন্ট রেনাল্ড নেহেমিয়া গতকাল এমনভাবেই গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

বোল্টের চোট এবং গ্যাটলিনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় চলতি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয় একশো মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টটি। একই সঙ্গে বোল্টের পরিষ্কার ভাবমূর্তি আর গ্যাটলিনের দু’বার ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার অতীত ইতিহাস মনে রেখে এটিকে গণমাধ্যম ‘ভালো বনাম মন্দ’র লড়াইয়ে পরিণত করে। সেই লড়াইয়ে বোল্ট জেতায় আরো যেন বেশি সমালোচনা শুরু হয় গ্যাটলিনকে নিয়ে। অথচ, গত সপ্তাহে দ্রুততম মানবের ঐ লড়াইয়ে অংশ নেয়া আটজনের মধ্যে চারজনই ক্যারিয়ারের কোন না কোন সময় ডোপ নেয়ার অপরাধে শাস্তি ভোগ করেছেন।

নেহেমিয়া তুলে ধরেছেন এই বিষয়টিই। কেবল গ্যাটলিনই সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই কেবল সব সমালোচনা আর বাজে আচরণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। অথচ এমনটা হওয়া মোটেই উচিত নয়। আমাদের মনে রাখা উচিত সেই একমাত্র ব্যক্তি যে উসাইন বোল্টের সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছে।’

দু’বারের ডোপ পাপী গ্যাটলিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। বিবিস, গার্ডিয়ানের মতো বিখ্যাত সংবাদ মাধ্যমগুলো ক্ষুরধার লেখনিতে প্রায়শই তীব্র সমালোচনা করে গ্যাটলিনের। পাঠকদের বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় গ্যাটলিনের অতীত স্মৃতির কথা। গ্যাটলিনের মতে, তাদের এই আচরণ যথেষ্টই পক্ষপাতদুষ্ট। এর প্রতিবাদ স্বরূপ চলতি টুর্নামেন্টে ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে বর্জন করছেন ৩৩ বছর বয়সী এই আমেরিকান।

গণমাধ্যমের এই আচরণে আইএএএফও নিরবতায়ও অসন্তুষ্ট নেহেমিয়া। গ্যাটলিন তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি বলে গণমাধ্যমে যে বিষয়টি প্রচলিত সেটাও পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন নেহেমিয়া। তিনি বলেন, ‘গ্যাটলিন মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঘুরেছে। শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহতা এবং নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়েছে। মাসের পর মাস সে অনুতাপে ভুগেছে। কিন্তু এই বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তেমনভাবে আসেনি বলে মানুষ এ সম্পর্কে জানে না।’

স্প্রিন্টের সেরাদের মধ্যে গ্যাটলিন নিজেকে জানান দেন ২০০০ সালের পরপরই। এর মধ্যেই প্রথমবারের মতো তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ বস্তু গ্রহণের প্রমাণ পায় অ্যাথলেটিক্সের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএএএফ। নিষিদ্ধ অ্যামফিটামিন নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে। প্রথমে দুই বছরের জন্য হলেও পরে গ্যাটলিনের আইনজীবী প্রমাণ করতে সক্ষম হন, মনোযোগ ঘাটতির ওষুধ হিসেবে সেটা নিয়েছেন তিনি। শাস্তির মেয়াদ কমে দাঁড়ায় এক বছর।

হেলসিংকিতে ২০০৫ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে স্প্রিন্ট ডাবল জেতার পরই আবারো অভিযোগ ওঠে গ্যাটলিনের বিরুদ্ধে। এই আমেরিকানের রক্তে পারফরম্যান্স বর্ধক হরমোন টেস্টোস্টেরনের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়। প্রথমে আজীবন এবং পরে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি। না জেনে নিয়েছেন বলে, সেই মেয়াদ শেষ পর্যন্ত কমে দাঁড়ায় চার বছরে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন