বিপিএলকে সুযোগ ভাবছেন সৌম্য সরকার
সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের আসর। বিপিএলের চলতি আসরকে তাই নিজের জন্য তো বটেই বাংলাদেশ দলের সব ক্রিকেটারের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করার একটা ভালো সুযোগ বলে ভাবছেন সৌম্য সরকার।

গতকাল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে রংপুর রাইডার্সের জয়ে অবদান রাখার পর এই অভিমত জানান তিনি। সৌম্যর ভাষায়, ‘আমার দিনগুলো খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। ওয়ানডেতে ২৫/৩০ করে আউট হয়ে যাচ্ছিলাম। টি-টোয়েন্টিতেও একই অবস্থা ছিল আমার। চেষ্টা করছিলাম এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে। টিমের জন্য আমি কোনো চাপের মধ্যে ছিলাম না। নিজের পারফর্মেন্সের জন্যই চাপ অনুভব করতাম। বিপিএলে ভালো পারফর্ম করে নিজেকে যোগ্য করে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সামনে আরো ভালো কিছু করতে চাই। তবে কাজটা খুব সহজ নাও হতে পারে। তবে চেষ্টার ত্রুটি করবো না, কথা দিতে পারি।’

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক আসরে সৌম্য সরকারের অভিষেক ঘটে মাত্র আট মাস আগে। গত এপ্রিলে মিরপুরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৭ উইকেটে। কিন্তু অভিষেক ম্যাচের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিল না সৌম্য সরকারের। ওই ম্যাচে একটা বলও মোকাবেলা করতে পারেননি তিনি। প্রথম বলেই রান আউট হয়ে শূন্য হাতে প্যাভিলিয়নে ফিরে আসেন। সেই স্মৃতিটা হয়তো আজো পীড়া দেয় ২২ বছর বয়সী এই তরুণকে।  মিরপুরের সেই তিক্ত স্মৃতির পর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। চেষ্টা করেছেন অনেক রয়েসয়ে ধীর-স্থিরভাবে ইনিংসের গোড়াপত্তন করার। তবুও দিনটা ভালো যাচ্ছিল না তার। অবশেষে ভাগ্যের শিঁকে ছিড়েছে তার। সুদিন বুঝি হাতছানি দিচ্ছে এবার। গতকাল চট্টগ্রামের সাগরিকায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সৌম্য। চিটাগং ভাইকিংসকে হারাতে মাত্র ১১২ রান প্রয়োজন ছিল রংপুরের। খুবই সাদামাটা লক্ষ্য। তাই খুব একটা তাড়াহুড়ো করেননি রংপুরের দুই ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি ও সৌম্য সরকার। খেলায় ভাইকিংসকে অনেকটা হেসে-খেলেই ৯ উইকেটে হারায় সাকিব আল হাসানের দল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫৬ বলের  মোকাবেলায় ৫৮ রানের অসাধারণ এক ইনিংস উপহার দেন। সঙ্গত কারণেই ম্যাচ সেরার পুরস্কারটিও জিতে যান তিনি।

সৌম্য ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘চিটাগং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে আমাদের টার্গেট ছোট ছিল। তাই উইকেটে বেশিক্ষণ থাকতে চেয়েছিলাম। আগের ম্যাচগুলোতে খুব বেশিক্ষণ খেলতে পারিনি। টার্গেট ছোট থাকায় এবার কম শট খেলে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে চেয়েছিলাম। আসলে এটাও এক ধরনের প্র্যাকটিস। তবে মাঠের বাইরের প্র্যাকটিস আর ভেতরের প্র্যাকটিসে বিস্তর তফাত্ আছে বলে সৌম্য মনে করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাঠে খেলার সময় যে প্র্যাকটিসটা হয় সেখানে চাপ থাকে অনেক বেশি। আগের ম্যাচের চেয়ে পরের ম্যাচে চাপ বেশি থাকে। সেই চাপ কাটিয়ে ওঠার কৌশল রপ্ত করাটাও প্র্যাকটিসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সৌম্য বলেন, প্রতিটা ম্যাচেই আগের ভুলগুলোর কথা ভাবি। ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করি। প্রতিটা ম্যাচেই লক্ষ্য থাকে আগের তুলনায় ইমপ্রুভ করা, উন্নত পারফর্মেন্স করা।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন