বাইরে-ভেতরে হাজার প্রাণের স্রোত
স্পোর্টস রিপোর্টার০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
বাইরে-ভেতরে হাজার প্রাণের স্রোত
কানায় কানায় ভর্তি—শব্দটা যে প্রায়ই অপপ্রয়োগ করা হয়, তা বোঝা গেল গতকালকের মিরপুর স্টেডিয়াম দেখে।

আক্ষরিক অর্থে কোথাও দাঁড়িয়ে খেলা দেখার জন্যও আর এতটুকু জায়গা বাকি নেই। অথচ বাইরে তখনও আরও কয়েক হাজার মানুষ। চাইলে আরেকটা স্টেডিয়াম ভরিয়ে ফেলা যায়। মিরপুরে বাংলাদেশের খেলা থাকলে ভিড় রোজই হয়; তবে শেষ কবে এমন ভয়ানক মানুষের ঢল দেখা গেছে, বলা কঠিন।

সন্ধ্যার ম্যাচ দেখতে এই ভিড় শুরু হয়েছিল দুপুর বেলাতেই। খেলা শুরু হতে তখনও অনেক বাকি, গ্যালারির গেটও খোলা হয়নি। এর মধ্যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চারপাশ লোকারণ্য।

সবার হাতে যে টিকিট আছে, তা নয়। অনেকেই কোনোভাবে একটা টিকিট জোগাড় করে মাঠে প্রবেশ করে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলা দেখার স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন। এমনই একজন বাবুল। ব্যাংক থেকেই টিকিট কেনার কথা ছিল তার। কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট কিনতে পারেননি। এমনকি ব্ল্যাকেও যখন টিকিট কাটতে পারেননি, তখন চোখে মুখে হতাশা নিয়েই বাবুল হোসেন বাসায় ফিরেছেন। তার মতো এমন অনেক আগ্রহী দর্শককে গতকাল টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে মিরপুর থেকে।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসার আগে ব্ল্যাকে টিকিট কাটতে পারবেন কি না সেটা নিয়েও সন্দেহে ছিলেন। যার কারণে খেলা শুরুর চার ঘণ্টা আগে স্টেডিয়াম পাড়ায় এসেছেন জানিয়ে বাবুল বলেন, ‘খেলা শুরুর অনেক আগেই স্টেডিয়াম পাড়ায় এসেছি। এত আগে  এসেও তেমন কোনো ফায়দা হয়নি। টানা দুদিন একটা টিকিটের অনেক চেষ্টা করেছি। বলেন আর কী করব। কী করলে টিকিট মিলবে।’

বাবুলের মতো এমন অনেক আগ্রহী দর্শক গতকাল স্টেডিয়ামপাড়ায় এসেছেন খেলে দেখতে। কিন্তু টিকিট না কিনতে পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। সামনে যাকেই দেখেছেন উঁচু আওয়াজে না হলেও কানের কাছে ছোট করে বলেছেন, ‘ভাই একটা টিকিট দেয়া যাবে। টাকা যা চান তাই  দেবো। অনেক দূর থেকে শখের বশে খেলা দেখতে এসেছি। যদি একটু হেল্প করেন।’

যারা আগে টিকিট সংগ্রহ করেছেন তাদের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে মাঠে প্রবেশ করে খেলা দেখতে। তবে কিছু দর্শক আবার চড়া মূল্য দিয়ে ব্ল্যাকেও টিকিট কেটে খেলে দেখেছেন। মিরপুরের ফ্লাডলাইটের আলোয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খেলা শুরুর ঘণ্টা খানেক পরও মাঠের বাইরে হাজার হাজার আগ্রহী দর্শককে টিকিটের জন্য হাহাকার করতে দেখা গেছে। ব্যাংকে টিকিট না পেয়ে যারা ব্ল্যাকে টিকিট কেনার জন্য এসেছেন শেষ পর্যন্ত টিকিট কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। গাজীপুর থেকে খেলা দেখতে এসেছেন মমিনুল ইসলাম। ব্যাংকে টিকিট না পেয়ে বন্ধুর পরামর্শে ব্ল্যাকে টিকিট কাটার কথা শুনে এসে পড়েছেন মহাবিপদে। ১৫০ টাকার টিকিট কিনতে গুনতে হয়েছে ১০০০ টাকা। এত টাকা সঙ্গে না থাকায় শেষ পর্যন্ত বিকাশে টাকা এনে টিকিট কেটে মাঠে প্রবেশ করেছেন। তাতেও খুশি, ‘অনেক কষ্ট হয়েছে টিকিট নিতে। তারপরও যে পেয়েছি তাতেও আমি খুশি। আমার মতো এমন অনেকে এসেছে যারা টিকিট কিনতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে।’

সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতোই খেলা দেখতে এসেছেন প্রতিবন্ধী শরিফুল ইসলাম। পাবনার সুজানগরে জন্ম নেয়া শরিফুল অন্য সবার মতো ভালোভাবে জন্ম নিলেও সাত বছর বয়সে চাল মাড়াইয়ের কলে পড়ে তার ডান হাত এবং ডান পা কেটে যায়। সাকিব-তামিমদের ভক্ত শরিফুল হুইল চেয়ার নিয়েই মাঠে এসেছেন। 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন