রংবেরংয়ে রিও
০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
রংবেরংয়ে  রিও
ব্রাজিলের প্রথম

আয়োজকদের সাফল্য ছাড়া আসর জমে না। প্রথম দিনেই এবারের অলিম্পিক সে অর্থে জমিয়ে দিয়েছেন ফেলিপ উ। ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে রূপা জিতে ব্রাজিলকে রিও অলিম্পিকের প্রথম পদক এনে দিয়েছেন তিনি। উ বলছেন, তিনি ব্রাজিলকে যতটা গৌরবান্বিত করেছেন, তার চেয়ে বেশি ব্রাজিল সমর্থকরা ভূমিকা রেখেছেন তার পদক জয়ে। উ যতোক্ষণ রেঞ্জে দাঁড়িয়েছেন, ততোক্ষণ একটানা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে তাকে উত্সাহ দিয়ে গেছেন সমর্থকরা।

এই এক সাফল্যেই অবশ্য ব্রাজিল খুশি থাকেনি। দিনটা তাদের আরো ভালো গেছে। ইনডোর ভলিবলে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ব্রাজিলের মেয়েরা তাদের প্রথম খেলায় জিতেছে। এদিকে কোপাকাবানায় মেয়ে ও ছেলেদের দুটো ব্রাজিল ভলিবল দলই যার যার প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে। ছেলেরা জিতেছে কানাডার বিপক্ষে, মেয়েরা চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে।

সেই মারদিনির সাঁতার

অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জাতীয় পতাকা থাকে, জাতীয় সঙ্গীত থাকে। তাদের এগুলো নেই। তাদের জয়ে নির্দিষ্ট কোনো দেশের পতাকা উড়বে না, নির্দিষ্ট কোনো দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজবে না। ‘শরণার্থী দল’ নামের এই দলে সিরিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর বিভিন্ন সময়ে প্রাণের ভয়ে দেশ ছাড়া ক্রীড়াবিদরা অংশ নিচ্ছেন। সেই আলোচিত শরণার্থী দলের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়াবিদ সাঁতারু ইউসরা মারদিনি, যে কি-না যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে জীবন বাঁচাতে প্লাস্টিকের নৌকা করে বোনের সঙ্গে মাতৃভূমি ছাড়ে। ১০০ মিটার বাটার ফ্লাইয়ে গতকাল নিজের ১ মিনিট ৯.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাঁতার শেষ করেছেন। এই সময়টা সেমিফাইনালে জায়গা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো না। কিন্তু আনন্দিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো।

কারণ, মারদিনির এই সাঁতারের পেছনে আছে এক ইতিহাস। ডিঙ্গি নৌকা করে তুরস্ক হয়ে গ্রীসের লেসবস দ্বীপে পাড়ি দেওয়ার সময় মারদিনিদের দুই বোনের সঙ্গে ছিল আরো ২০ শরণার্থী। কিন্তু নৌকাটি ছিল আটজন বহন ক্ষমতাসম্পন্ন। ঢেউয়ে টালমাটাল নৌকাটিতে যখন পানি ওঠতে শুরু করল তখন বরফময় পানিতেই ঝাঁপ দেন মারদিনি ও তার বোন। একহাতে নৌকাটির একটি দড়ি ধরে এবং অন্য হাতে সাঁতরিয়ে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর লেসবস দ্বীপে পৌঁছান তারা।

ভেনাস ও সানিয়ার বিদায়!

অলিম্পিকে মেয়েদের টেনিসে প্রথম রাউন্ডেই অঘটনের শিকার মার্কিন টেনিস তারকা ভেনাস উইলিয়ামস। এছাড়া মেয়েদের ডাবলস থেকে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছেন ভারতের সানিয়া মির্জাও।

রবিবার সোনা জয়ের মিশনে প্রথম রাউন্ডে ভেনাসের প্রতিপক্ষ ছিল বেলজিয়ামের ৬২ নম্বর খেলোয়াড় কারস্টেন ফ্লিপকেন্স। প্রথম সেটে ৪-৬ ভেনাস জয় পেলেও এরপর ঘুরে দাঁড়ান ফ্লিপকেন্স। বাকি দুই সেট ৬-৩, ৭-৫ (৭-৫) গেমে জিতে নেয় বেলজিয়াম তারকা। এর আগে ২০০০ সিডনিতে প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের এককে সোনা জিতে ছিলেন ভেনাস।

তবে সোনা জয়ের আরো একটা সুযোগ পাচ্ছেন ভেনাস। বোন সেরেনার সঙ্গে ডাবলসে এখনো সোনার আশা বেঁচে আছে। অন্যদিকে ডাবলসে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় পুড়েছেন ভারতীয় তারকা সানিয়া মির্জা। অলিম্পিকে তার সঙ্গী ছিলেন প্রার্থনা থোমবারে। কিন্তু চীনের শুয়াং ঝেং ও শুয়াং পেংয়ের কাছে দুইজন হেরে গেছে এই জুটি।

আর্জেন্টিনার জুডোয় ইতিহাস

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথমবারের মত অলিম্পিক জুডো থেকে স্বর্ণ পদক জিতেছেন পাওলা পারেতো। রিও অলিম্পিকে এই ক্রীড়া থেকে ডোপিং কেলেঙ্কারিতে বিধ্বস্ত রাশিয়াকে প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন বেসলান মুদ্রানোভ। মেয়েদের ৪৮ কেজি ওজনশ্রেণির ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বোকিয়ং জিয়ংকে হারান পারেতো। ২০১৫ সালে আস্তানার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও এ ইভেন্টে সেরা হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ৩০ বছর বয়সী এই জুডোকা।

ডোপ কেলেঙ্কারির কারণে নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অনেক অ্যাথলেট রিও অলিম্পিকে আসতে পারেনি। কাটছাঁটের পর অংশ নেওয়া ২৭১ জন অ্যাথলেটদের মধ্যে মুদ্রানোভ পুরুষ ৬০ কেজি ওজনশ্রেণিতে সেরা হয়ে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিলেন। মুদ্রানোভের কাছে হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কাজাখিস্তানের ইয়েলদোস সেমেতোভ পেয়েছেন এই ইভেন্টের রুপা।

থাইল্যান্ডের শুভ সূচনা

রিও অলিম্পিকের ভারোত্তোলন বিভাগে প্রথম সোনা জিতেছেন থাইল্যান্ডের সোপিতা তানাসান। মেয়েদের ৪৮ কেজি ওজনশ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি ওজন তুলেছেন তিনি। শনিবার স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ২০০ কেজি ওজন তুলেছেন তানাসান। অলিম্পিক ভারোত্তোলনে সব মিলিয়ে চতুর্থ থাই নারী হিসেবে সোনা জিতলেন তিনি।

মোট ১৯২ কেজি তুলে রৌপ্য পদক পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার শ্রি ওয়াহিউনি আগুস্তিয়ানি। ব্রোঞ্জ জাপানের হিরোমি মিয়াকির (১৮৮ কেজি)। অলিম্পিকে স্বর্ণ পদকপ্রাপ্তির সংখ্যায় থাইল্যান্ডের পুরুষ বক্সারদের ছুঁলেন নারী ভারোত্তোলকরা। অলিম্পিক ইতিহাসে এই দুটি ক্রীড়ায় কেবল সোনা জিতেছে থাইল্যান্ড।

কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র

স্বাগতিক ব্রাজিল রিও অলিম্পিকে নারী ফুটবলে গত শনিবার সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে অধিনায়ক মার্তার দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মাঠে নামবে। শেষ আটের টিকিট পেয়েছে শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রও। কারলি লয়েডের একমাত্র গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে এ নৈপুণ্য দেখায় তারা।

এ ছাড়া নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড এবং কানাডা। দল দুটি হারিয়েছে যথাক্রমে কলম্বিয়া এবং কানাডাকে। পাশাপাশি অগ্রগতি ধরে রেখেছে অপর দুই দল হলো জার্মানি এবং চীন। জার্মানি প্রথমে পিছিয়ে পড়েও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। চীনের নারী ফুটবল দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে। নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষ হবে মঙ্গলবার। এদিন অস্ট্রেলিয়া লড়বে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে এবং নিউজিল্যান্ড খেলবে ফ্রান্সের সঙ্গে।—সকারওয়ে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন