অলিম্পিক এবার সিমনের!
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
অলিম্পিক এবার সিমনের!
উসাইন বোল্ট বা মাইকেল ফেলপসের কথা ভুলে যান। এমনকি নেইমার বা নোভাক জোকোভিচও নন। এবার অলিম্পিকটা নাকি সিমন বাইলসের হতে যাচ্ছে!

বুঝতে পারছি, এই নামটা অপরিচিতই হওয়ার কথা।

এখনও অলিম্পিকে বলার মতো কিচ্ছু করেননি তো। অলিম্পিকের প্রথম দিনে কেবল নিজের একটা ইভেন্টের হিট পার করেছেন। তাতেই একজন জিমন্যাস্টকে নিয়ে মাতামাতি করারও কিছু নেই। কিন্তু পাশ্চাত্যের সংবাদ মাধ্যম অন্তত দাবি করছে, এবারের অলিম্পিকের সেরা আকর্ষণ হতে যাচ্ছেন আমেরিকান এই অষ্টাদশী।

এবার অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ও দলীয় সাতটি সোনার জন্য লড়বেন সিমন। এর মধ্যে অন্তত গোটা পাঁচেক সোনা না জেতাটাই অঘটন হওয়ার কথা। এমনটাই সত্যি হলে এবার ফেলপস বা বোল্টের থেকে সত্যিই আলো কেড়ে নিতে পারেন এই জিমন্যাস্ট।

সিমন এবার অলিম্পিকে সাতটি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে পাঁচটি ইভেন্টে তার সোনা জয়ের যে সম্ভাবনা, সেটা সত্যি হলে জিমন্যাস্টিকসেরই ইতিহাস বদলে যাবে। এর আগে এক অলিম্পিকে সর্বোচ্চ চারটি সোনা জয়ের রেকর্ড আছে তিনজন নারী জিমন্যাস্টের। ১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে চারটি করে সোনা জিতেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের লারিসা লাতানিনা এবং হাঙ্গেরির অ্যাগনেস কেলেটি। এরপর ১৯৬৮ সালে চারটি সোনা জেতেন চেকোস্লোভাকিয়ার ভেরা কাস্লাভস্কা। এবার এই সব রথীমহারথীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে চাচ্ছেন ‘অখ্যাত’ এক সিমন!

জিমন্যাস্টিকসের খবরাখবর যারা রাখেন, তাদের কাছে অবশ্য সিমন বাইলসের নামটা খুব অপরিচিত হওয়ার কথা নয়।

২০১২ অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেননি বয়স কয়েক মাস কম থাকায়। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকেই তিনি জিমন্যাস্টিকসে অপ্রতিরোধ এক তারকা হয়ে উঠেছেন। ১৯৭৪ সালের পর প্রথম কোনো আমেরিকান জিমন্যাস্ট অল-অ্যারাউন্ট ইভেন্টে টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তারচেয়েও বড় কথা এই খেলাটির ইতিহাসেই প্রথম কোনো জিমন্যাস্ট টানা তিনবার অল-অ্যারাউন্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ১৪টি পদক জিতেছেন; যার মধ্যে ১০টিই সোনা।

সাধে কী আর মার্কিন সংবাদ মাধ্যম বলছে যে, সর্বকালের সেরা জিমন্যাস্টের জন্ম হয়েছে তাদের দেশে!

সিমনের জীবনের গল্পটাও কম মজার নয়।

১৯৯৭ সালে ওহিয়োর কলম্বাসে জন্ম সিমনের। মদসহ নানারকম সর্বনাশা নেশায় পর্যুদস্ত ছিলেন তার জন্মদাত্রী মা। এ অবস্থায় সিমন ও তার ছোট বোন আদ্রিয়ার জীবনটা তছনছই হয়ে যেতো। কিন্তু সেটা হতে দেননি তার নানা রন ও সত্ নানী নেলি। এরা দত্তক নিয়ে টেক্সাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন এই দুই বোনকে। আর সিমন বলেন, এরাই তার আসল বাবা-বা।

মাত্র বছর তিনেক বয়সে উঠোনের ওপাশের ডাক বাক্সের ওপর থেকে উল্টোভাবে লাফ দিয়ে পড়ে আসলে জিসমন্যাস্টিকসের শুরু সিমনের; তখনো খেলাটার সঙ্গে তিনি বা তার নানা-নানী পরিচিত নন। সেই পরিচয়টা ঘটলো ডে কেয়ার সেন্টারের এক শিক্ষা সফরের ভেতর দিয়ে। বছর চারেক বয়সী সিমন শিক্ষা সফরে গিয়েছিলো এক জিমনেসিয়ামে। সেখানে কয়েক কিশোরীকে দেখলো বার, ফ্লোরে লাফালাফি করতে। ব্যস, জায়গায় সেগুলো অনুকরণও করতে শুরু করলো।

আর ওখানেই অপেশাদার জিমন্যাস্টিকস কোচ অ্যামি ব্রুম বিস্মিত হয়ে দেখলেন এই শিশু প্রতিভাকে।

বাকিটা ব্রুম আর সিমনের জুটির গল্প। এরপর থেকে আর কখনোই কোনো প্রতিযোগিতায় একা যেতে হয়নি তাকে; আজও রিওতে সিমনের পাশে আছেন ব্রুম। সিমন বলেন, তার ‘আরেক মা’ এই ব্রুম। শৈশবেই সিমন এতোটা সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ইভেন্টে যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছিলো ২০১২ অলিম্পিকেই খেলুন তিনি। কিন্তু কয়েক মাস বয়স কম থাকায় সেটা হলো না।

লন্ডন অলিম্পিকের পরপরই সিনিয়র ইভেন্টে খেলতে শুরু করে দেন সিমন। শুরুটা অবশ্য যাচ্ছেতাই ছিলো।

২০১৩ ইউএস সিক্রেট ক্ল্যাসিকে ভল্টে একটার পর একটা ভুল ও পড়ে যাওয়া মিলিয়ে ক্যারিয়ারই শেষ হতে বসেছিলো। সিমন নাকি সেদিন ভেবেই ফেলেছিলেন, আর কখনো জিমন্যাস্টিকস করবেন না। সেটা হতে দেননি ব্রুম। দেননি বলেই পরের তিন বছর তিনটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ দেখলো এক মহাউত্থান।

বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে দুটি সোনা এবং পরের দুই বছর ন্যানিং ও গ্লাসগোতে চারটি করে সোনা জিতলেন। হয়ে উঠলেন সমকালীন জিমন্যাস্টিকসে অপ্রতিরোধ্য এক খেলোয়াড়।

এবার তার সামনে সুযোগ ইতিহাসেই নিজেকে অমর করে ফেলা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন