ক্রিকেটেও লাল কার্ড!
স্পোর্টস ডেস্ক০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
ক্রিকেটেও লাল কার্ড!
বিলি বাউডেন। আম্পায়ারিংটা যার কাছে কেবল শুধু ম্যাচের দায়িত্ব পালন করা নয়, ক্রিকেট ভক্তদের নিরন্তর আনন্দ বিলানোর মাধ্যম।

বছর ১১ আগে ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তার আম্পায়ারিংয়ের কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। আন্ডারআর্ম বল করার ছলের জন্য গ্লেন ম্যাকগ্রাকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের আম্পায়ার। জাবাবে অট্টহাসি হেসেছিলেন অজি কিংবদন্তি।

এত বছর পর বাউডেনের কৌতুকটা নিয়ে আলোচনা কেন? কারণ পরবর্তী বছরের ০১ অক্টোবর থেকে এই কৌতুকটাই হয়ে যেতে পারে বাস্তবতা। ক্রিকেটে শৃঙ্খলাজনিত কারণে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তাত্ক্ষণাত্ মাঠ ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন খেলোয়াড়রা।

তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো আইন হয়নি। ভারতে গত ০৬ ও ০৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কামিটির সভায় ক্রিকেট মাঠে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আম্পায়ারদের তাত্ক্ষণিকভাবে খেলোয়াড়দের বহিষ্কার (সেন্ড-অফ) করার ক্ষমতা প্রদান, ব্যাটের প্রান্ত ও পুরুত্বের আকার একটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করা এবং ফিল্ডারের হেলমেটে লেগে ক্যাচ কিংবা স্ট্যাম্পিং হলে ব্যাটসম্যান আউট হবেন, এমন কতগুলো সুপারিশ করা হয়েছে। মূল এমসিসি কমিটির সভায় সুপারিশগুলো অনুমোদিত হলেই মাঠে সেগুলোর প্রয়োগ দেখা যাবে।

ক্রিকেট মাঠ থেকে তত্ক্ষণাত্ খেলোয়াড়দের বহিষ্কার

ধরা যাক মাঠে কোনো খেলোয়াড় আম্পায়ারের সঙ্গে মারাত্মক বাজে আচরণ করলেন, তাকে হুমকি দিলেন কিংবা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের ব্যাট নিয়ে তাড়া করলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাত্ক্ষণিকভাবে মাঠে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে কোনো শাস্তি দিতে পারেন না আম্পায়াররা। এমন বড় ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য খেলেয়াড়দের ‘সেন্ড-অফ’ এর সুপারিশের বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যদি সুপারিশটি অনুমোদিত হয়, তাহলে ২০১৭ সালের ০১ অক্টোবর থেকে সব পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের তাত্ক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের ক্ষমতা বাস্তবায়িত হবে। ক্রিকেট গুটিকয়েক খেলাগুলোর একটি, যেখানে অসদাচরণের জন্য মাঠে কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। একজন অধিনায়ক তার সতীর্থকে মাঠ ছাড়তে বলতে পারেন। কিন্তু আম্পায়ারদের এমন কোনো ক্ষমতা নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন ব্যাটসম্যান ইচ্ছে করে প্রতিপক্ষের কোনো ফিল্ডারকে ব্যাট দিয়ে আঘাত করার পর সেঞ্চুরি করে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারেন। ফলে ক্রিকেটে এইসব বিষয়ে শাস্তির বিধান থাকা দরকার।’

ব্যাটের প্রান্ত ও পুরুত্বের সীমা

ব্যাটের প্রান্ত সর্বোচ্চ ৪০ মিলিমিটার চওড়া এবং পুরুত্ব সর্বোচ্চ ৬৭  মিলিমিটার বেঁধে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে সভায়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বর্তমানে কোনো কোনো খেলোয়াড় ৩৮-৪২ মিলি মিটার চওড়া প্রান্তের ব্যাট নিয়ে নামেন। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এই সীমাটা ৫০ মিলি মিটারেও পৌঁছে যায়। যেটা মাত্রাতিরিক্ত। তাই এখানেও একটি সীমারেখা প্রয়োজন।’

ফিল্ডারের হেলমেটে লাগলেও আউট

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ফিল্ডার কিংবা উইকেট রক্ষকের হেলমেটে লেগে ক্যাচ কিংবা স্টাম্পিং হলে ব্যাটসম্যান আউট হন না। এমসিসি কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আগামী বছরের অক্টোবর থেকে বোলাররা এক্ষেত্রে উল্লাসে মাতবেন।

বল টেম্পারিং

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিসের বল টেম্পারিং নিয়ে কম হৈচৈ হয়নি। মুখে চুইংগাম থাকা অবস্থায় বল উজ্জ্বল করে ফেঁসে যান তিনি। ভাবা হচ্ছিল বল টেম্পারিংয়ের আইনের ক্ষেত্রেও কোনো সুপারিশ আসতে পারে। কিন্তু বিদ্যমান বল টেম্পারিং আইনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তনের সুপারিশ করবে না এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটি।

-ক্রিকইনফো

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন