নারী এশিয়া কাপ
ব্যর্থতার মধ্যেও প্রাপ্তি দেখছেন আতাহার
স্পোর্টস রিপোর্টার০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
ব্যর্থতার মধ্যেও প্রাপ্তি দেখছেন আতাহার
শুরুর লগ্ন থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের দুর্বলতার স্বাক্ষর বয়ে বেড়াচ্ছে অধোগতির ব্যাটিং। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ব্যাটিংয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার আশাবাদ জানিয়েছিলেন দলটির নতুন কোচ ডেভিড জন ক্যাপেল। দেশ ত্যাগের আগে এই ইংলিশ কোচের আত্মবিশ্বাসের স্বরূপটা অবশ্য টুর্নামেন্টে ধরা পড়েনি।

পাঁচ ম্যাচের তিনটি হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। ফাইনাল খেলার টার্গেটও উবে গেছে ব্যাটিং ধসের তোপে পড়ে। ভারতের কাছে ৫৪ ও পাকিস্তানের কাছে ৪৪ রানে অলআউট হয়ে নারীদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানের লজ্জা সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাইল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে জয়েই শেষ হয়েছে রুমানা-সালমাদের এশিয়া কাপ।

টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বিশেষ করে ব্যাটিং নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন দলের নির্বাচক ও ম্যানেজার আতাহার আলী খান। তারপরও কয়েকটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে অবলম্বন করে ইতিবাচক চিন্তা করতে চান তিনি। একটা লড়াকু দল হিসেবে গড়ে উঠার জন্য রুমানা-জাহানারাদের আরও সময় দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের এই সাবেক ক্রিকেটার।

গত অগাস্টে নারী দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আতাহার আলী খান। অক্টোবরে দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন কোচ ক্যাপেল। কক্সবাজারের ক্যাম্পের পর মিরপুরে কয়েকদিনের অনুশীলন শেষে থাইল্যান্ড গিয়েছিল রুমানা আহমেদের দল।

এশিয়া কাপে নারী দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করেনি জানিয়ে আতাহার আলী খান বলেন, ‘এই সফরে অবশ্যই আমাদের দিক থেকে যে আশা ছিল, তা আমরা পূরণ করতে পারি নাই। ব্যাটিং নিয়ে আমি হতাশ। কিন্তু আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে। আমরা যদি সময় পাই, ঘরোয়া ক্রিকেট দেখতে পারি, আমি এখনও ঘরোয়া ক্রিকেট দেখতে পারিনি। আমরা এখন ক্যাম্প দেখি, ক্যাম্পের মাধ্যমে তাদের চেনা এবং ক্যাম্পের মাধ্যমেই তাদের নির্বাচন করি।’

এশিয়ার তিন পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমই খেলে বাংলাদেশ। নারী দলের নির্বাচক বলেন, ‘থাইল্যান্ড, নেপাল ছাড়া আমরা যাদের বিরুদ্ধে খেলি, তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ক্রিকেট খেলে। ভারত অনেক খেলে, পাকিস্তানও নিউজল্যান্ড সফর থেকে এসে খেলেছে, শ্রীলঙ্কাও প্রচুর খেলছে।’

ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দল হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে অভিজ্ঞ ও ভালো দল বলে অভহিত করেছেন তিনি। ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যাটিং ধসের বিষয়ে আতাহার আলী খান বলেন, ‘অনুশীলনে যে ধরনের কাজ করেছি, ম্যাচে আমরা তা দেখি নাই, কম দেখেছি। সে কারণে আমাদের ব্যাটিং ধসটা হয়ে গেছে। সাথে সাথে আমাদের বিরুদ্ধে যারা বোলিং করেছে, তারা কিন্তু খুব ভালো বোলিং করেছে। ভারত, পাকিস্তান আমাদের সাথে অসাধারণ বোলিং করেছিল।’

উইকেট, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতেও সংগ্রাম করতে হয়েছে রুমানাদের। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ইতিবাচক দিক জানাতে গিয়ে আতাহার আলী খান বলেন, ‘টুর্নামেন্টের দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর (১৩৩) আমরা করেছি নেপালের সঙ্গে। এদের সাথে কিন্তু ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাও খেলেছে। তারা এত রান করতে পারে নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘টুর্নামেন্টে ৭টা মেডেন ওভার করেছে আমাদের বোলাররা। টুর্নামেন্টে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ জুটি আমাদের। সানজিদা ইসলাম-নিগার সুলতানা ৭১ রানের জুটি করেছিল সেটা নেপালের সঙ্গে। ফাহিমা ৮ রানে, পান্না ঘোষ ৯ রানে চারটি করে উইকেট নিয়েছে। সানজিদা ইসলাম ১০০’র বেশি রান (১১০) করেছে। এই টুর্নামেন্টে আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স এসেছে।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন