তৃপ্ত, তবে খুশি নয় বাংলাদেশ
স্পোর্টস রিপোর্টার১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
তৃপ্ত, তবে খুশি নয় বাংলাদেশ
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম, বিশ্লেষক সবাই বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে কমবেশী মুগ্ধ।

ম্যাচশেষে ভারতীয় কোচ অনিল কুম্বলে পর্যন্ত বললেন, যে বাংলাদেশকে তারা চিনতেন, এটা সেই দল নয়। এত নাটকীয় প্রতিরোধ তারা কল্পনা করেননি। এসব প্রশংসা এক ধরনের তৃপ্তি দিলেও বাংলাদেশ দল তৃপ্ত নয় ঠিক। দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বললেন, অনেক সুযোগ এসেছিল হায়দরাবাদ টেস্টে; সেগুলো কাজে না লাগানোর আফসোস আছে। পাশাপাশি এটাও অবশ্য স্বীকার করলেন যে, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে টেস্ট ক্রিকেটটা ভালো খেলতে শিখে গেছেন তারা। 

টেস্টে ঠিক কী ধরনের উন্নতি হয়েছে, সেটা ব্যাখ্যা করেই বলেছেন মুশফিক, ‘আগে যেটা হতো আমরা মাঝেমধ্যে একটি-দুটি টেস্ট ভালো খেলতাম। এখন নিয়মিত ভালো খেলছি। আরও এগিয়ে যেতে হলে যেটি প্রয়োজন, ধারাবাহিক ভাবে পাঁচদিন ভালো খেলা।’

তবে এই নিয়মিত ভালো খেলাটাও সন্তুষ্ট করতে পারছে না অধিনায়ককে। তিনি সুযোগ নিতে না পারায় বেশ হতাশ। মনে করেন যে, ভালোভাবেই ড্র অন্তত করার সুযোগ ছিল এই ম্যাচে, ‘আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছি। সুযোগগুলো হাতছাড়া করেছি। প্রথম ইনিংসে ওদের যদি সাড়ে ৫০০ রানেও আটকাতে পারতাম, তাহলে হয়তো তাহলে দ্বিতীয় ইনিংসে ওরা হয়তো আরেকটু সময় ব্যাট করত। আমাদের ছাড়তো শেষ দিনে। তখন দ্বিতীয় ইনিংসে চার সেশনের বদলে তিন সেশন ব্যাট করতে হতো আমাদের। তখন ব্যাপারটি অন্যরকম হতে পারত।’ তবে এই অন্যরকম না হওয়ার জন্য বাইরে থেকে যেমন ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচের দায় দেওয়া হচ্ছে, সেটাতে একমত নন অধিনায়ক। মুশফিক বলছেন, তিনি বা সাকিব ডিফেন্স করেও পরিস্থিতি বদলাতে পারতেন না, ‘ডিফেন্স করে কখনোই কোন ম্যাচকে বাঁচানো কিংবা জেতা সম্ভব নয়। সাকিবতো আজকে একটা বলও মারতে যায়নি, তারপরও আউট হয়ে গেছে। আমি প্রথম ইনিংসে একটা বাজে বলও খেলেনি। তারপরও আউট হয়ে গেছি। এটা আসলে ব্যালেন্স হয়। এটা আসলে বলা যায় না কখনো কে কীভাবে আউট হবে। অনেকে বলতে পারে বলটা মারা উচিত হয়নি। না পারলেই যে সারাদিন খেলা সম্ভব সেটা বলা কঠিন। দিনশেষে একজন ব্যাটসম্যানকে রান করতে হবে।’

এখন এই ম্যাচের খুটিনাটি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। মুশফিক বলছেন, সে জন্য ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে উন্নতি করার বিকল্প নেই, ‘আমার মনে হয় বোলিং ইউনিটে আমাদের উন্নতি করা দরকার এবং ফিল্ডিং ইউনিট। আমাদের এই দুই জায়গাটায় উন্নতি দরকার। কারণ আমাদের যে সাতজন ব্যাটসম্যান খেলছে তারা আল্লাহর রহমতে যে কোনো কন্ডিশনে কিছু হলেও রান করছে। আমাদের বোলিং ইউনিট যদি আরেকটি সাহায্য করে এবং আমাদের ফিল্ডিং ব্যাকআপ করতে পারি তাহলে আমরা দুই এক বছরের মধ্যে আমরা আরও ভালো টেস্ট টিম হতে পারব।’

বাংলাদেশ-ভারত

টেস্ট

টস: ভারত (ব্যাটিং)

ভারত:

১ম ইনিংস: ১৬৬ ওভারে ৬৮৭/৬ (ডিক্লেয়ার)

এবং

২য় ইনিংস: ২৯ ওভারে ১৫৯/৪ (ডিক্লেয়ার)

বাংলাদেশ:

প্রথম ইনিংস : ১২৭.৫ ওভারে ৩৮৮/১০

এবং দ্বিতীয় ইনিংস

তামিম ক কোহলি ব অশ্বিন        ৩        ১১    ০     ০

সৌম্য ক রাহানে ব জাদেজা       ৪২      ৬৬   ৭     ০

মুমিনুল ক রাহানে ব অশ্বিন        ২৭      ৬৩   ৩     ০

রিয়াদ ক কুমার ব শর্মা             ৬৪      ১৪৯  ৭     ০

সাকিব ক পুজারা ব জাদেজা     ২২      ৫০   ৪      ০

মুশফিক ক জাদেজা ব অশ্বিন     ২৩      ৪৪    ২      ১

সাব্বির এলবিডব্লু শর্মা              ২২      ৬১   ৩     ১

মিরাজ ক সাহা ব জাদেজা         ২৩      ৬১   ৪      ০

রাব্বি নট আউট                       ৩        ৭০   ০     ০

তাইজুল ক রাহুল ব জাদেজা      ৬        ২৪    ১      ০

তাসকিন এলবিডব্লু                  ১        ৭     ০     ০

অতিরিক্ত (বা-৪, লেবা-৭, নো-৩)        ১৪

মোট: ১০০.৩ ওভারে              ২৫০/১০

বোলিং

বিনয় কুমার ৮-৪-১৫-০, অশ্বিন ৩০.৩-১০-৭৩-৪, ইশান্ত ১৩-৩-৪০-২, উমেশ ১২-২-৩৩-০, জাদেজা ৩৭-১৫-৭৮-৪

ফল: ভারত ২০৮ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বিরাট কোহলি

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন