নতুন রানি স্টিফেন্স
স্পোর্টস ডেস্ক১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
নতুন রানি স্টিফেন্স
ইউএস ওপেন

এই তো, সপ্তাহ ছয়েক আগেও র্যাংকিংয়ে ৯৫৭তম অবস্থানে ছিলেন তিনি। ১১ মাসের দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে এসেছেন মাত্র ৬৯ দিন হলো। গতকাল সোমবার পর্যন্ত র্যাংকিংয়ে ৮৩তম অবস্থানে উঠে আসাকেও মনে করছিলেন বিস্ময়কর। আর আজ তিনিই ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন!

না, বিশ্বাস হচ্ছে না স্লোন স্টিফেন্সের। ‘কেউ যদি কিছুদিন আগেও আমাকে এমনটা বলত, আমি বলতাম, পাগলের প্রলাপ’, বান্ধবী মেডিসন কেস-কে ৬-৩ ও ৬-০ গেমে হারিয়ে বলছিলেন ইউএস ওপেনের নতুন রানি। কিন্তু ক্রীড়াজগতে এমন পাগলাটে ঘটনা ঘটে বলেই হয়ত তা এত সুন্দর!

চার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছিলেন স্টিফেন্স। জন লিজেন্ডের মতো সঙ্গীত তারকারা বলেছিলেন, টেনিসের নতুন রানির উত্থান শুরু। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সে পথে ঠিকঠাকভাবেই এগুচ্ছিলেন তিনি। তিনটি শিরোপা জিতে র্যাংকিংয়ে ৩০ পর্যন্ত উঠে এসেছিলেন স্টিফেন্স। তারপর ছন্দপতন। বাম পায়ের ইনজুরি, এরপর সার্জারি। ক্রাচে ভর দিয়ে চলতে হতো তাকে। উইম্বলডন আসরের একমাস আগেও ‘প্রোটেক্টিভ বুট’ পরে চলাফেরা করতেন ২৪ বছর বয়সী আমেরিকান কন্যা। ফিরে এসে উইম্বলডন এবং ওয়াশিংটনে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয়ায় অবাক হয়নি কেউ।

কেসের বিপক্ষে ফাইনালেও ফেভারিট ছিলেন না স্টিফেন্স। বরং ১৫তম বাছাই কেসই প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠে শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেন, এমনটাই ভাবছিলেন সবাই। কিন্তু স্টিফেন্স দেখালেন ইচ্ছা শক্তির জোর কতটা। ফাইনালে জয়ের পর যেন উচ্ছ্বাস বাধ মানছে না তার, ‘এক পায়ে হাঁটার মাঝে কোনো আনন্দ নেই। এক পায়ে হাঁটা সহজ নয়। যখন সার্জারি করালাম, তখন ভাবতেও পারছিলাম না আমি ইউএস ওপেনের আশে-পাশে থাকব। এমনকি র্যাংকিংয়ে ১০০’র মধ্যে থাকাও কল্পনা করতে পারছিলাম না। অবিশ্বাস্য অর্জন।’ আর সেই অর্জনে অসাধারণ কয়েকটি রেকর্ডে নাম লিখিয়ে নিয়েছেন স্টিফেন্স। উন্মুক্ত যুগে পঞ্চম অবাছাই নারী হিসেবে ইউএস ওপেন জিতেছেন তিনি। ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জেনিফার ক্যাপরিয়াটির পর উইলিয়াম বোনদের বাইরে আমেরিকান হিসেবে কোনো একক মেজর জিতলেন স্টিফেন্স। এটাই তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্ল্যান্ড স্লাম। প্রাইজ মানি হিসেবে তিন মিলিয়ন ডলারের বেশি পেয়েছেন তিনি। যৌথভাবে ৯৯ র্যাংকিং নিয়ে ফাইনালে উঠেই ইতিহাস রচনা করেছিলেন স্টিফেন্স এবং কেস। হারলেও কেস-কে দেখে বোঝাই যায়নি কোনো দুঃখ আছে তার। বরং শৈশবের বান্ধবীর বিজয়ই যেন তার বিজয়। কেস বলেন, ‘আজ তার কাছে হেরেই আমি খুশি।’ স্টিফেন্সের কণ্ঠেও আফসোস: ইস, ফাইনালটা যদি ড্র করতে পারতাম!

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন