যুব গেমসের বর্ণিল উদ্বোধন
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
যুব গেমসের বর্ণিল উদ্বোধন

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশাল সব জায়ান্ট স্ক্রীন। প্রতিটি পর্দায় উঠে আসছে মনোরম ডিসপ্লে। সন্ধ্যার পর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার পর দেশের তারকা শুটার আসিফ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সামনে দিয়ে মশাল প্রজ্বলন করেন। মাঠের মাঝখানে ছোট একটি মশাল রাখা ছিল। আসিফ সেখানে থামলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আসন হতে হাত নাড়েন। আসিফ মশালে আগুন স্পর্শ করলে আতশবাজির স্ফুরণ হয়। চারদিক থেকে লেজার লাইটের আলো ছড়িয়ে পড়ে। স্পট লাইট চোখ কেড়ে নেয়। জ্বলে উঠে স্টেডিয়ামের মূল মশাল। শুরু হয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা ক্রীড়াবিদদের মার্চপাস্ট। মার্চপাস্ট শেষে ক্রীড়াবিদরা গ্যালারিতে ঠাঁই নেয়।

উদ্বোধনী অনুুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সেসব দেখাতে প্রতীকী পদ্মা সেতু দেখানো হয়। গেমসের মাসকাট কৃত্রিম বাঘের বাচ্চা তেজস্বী চলন্ত গাড়িতে মাঠ প্রদক্ষিণ করে। পাল তোলা নৌকা দেখানো হয়েছে। এলইডি লাইটে সাজানো নৌকার নিচে পানির স্রোত। মাসকাট প্যারেট, নাচ-গানের প্রথম পারফরমাররা ফুটিয়ে তুলবেন দেশের নানা ঐতিহ্য। বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত্ নিয়ে তুলে ধরা হয় বিভিন্ন প্রদর্শনী। দেশের গান দেশের নৃত্য মঞ্চ মাতায়। দেশের গান পরিবেশন করেন শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। ব্যান্ডের গান পরিবেশন করে শিরোনামহীন ব্যান্ড। একদিকে গান আরেক দিকে চলছিল খেলাধুলার প্রতীতি প্রদর্শন। ফুটবল, ক্রিকেট, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুটসহ নানা খেলার প্রদর্শনী। আর ঠিক তখনই নাটকীয় অনুকরণে পাকিস্তানী মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ মুখচ্ছবি। ড্রগানের মুখ নিয়ে জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। আর অমনি তাকে আক্রমণ করা হলে পালিয়ে যান জিন্নাহ।  শুরু হয় ভাষা নিয়ে যুদ্ধ। স্বাধীনতার যুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা। ভাষার মাস, যুদ্ধের বছর, এরপর বিজয় আসে। বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। সব কিছু নাটকীয় প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়। দেশের যেসব ক্ষেত্রে উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে তা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান শেষ হয় লেজার শো এবং আতশবাজির মধ্য দিয়ে।  

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যুব গেমস নতুন এক পথচলা। আগামীদিনের ক্রীড়াবিদের খোঁজে এর সূচনা। কয়েক হাজার ক্রীড়াবিদের নাম উঠে এসেছে এই গেমসের নতুন মঞ্চে। ২১টি খেলা নিয়ে আয়োজিত এই গেমস দেশের জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে শুরু হয়েছিল। ধাপে ধাপে উঠে আসে অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের ছেলে-মেয়েরা। যারা ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের নাম লেখাতে চায়, প্রতিষ্ঠা পেতে চায়। আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন যুব গেমসকে পুঁজি করে তারকা তৈরি করবে। যুব গেমসের প্রথম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যতটা হূদয় ছোঁয়ার কথা ছিল তা হতে পারত যদি সাধারণ দর্শককে প্রবেশ করতে দেয়া হতো। কড়া নিরাপত্তার কারণে গ্যালারি প্রায় ফাঁকা রাখা হয়। অনেক দর্শক পরিবার নিয়ে গিয়েছিলেন। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে কোলে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এই গেট ওই গেট দৌড়াতে দৌড়াতে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন তারা।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন