আপিল করবেন না স্মিথ-ব্যানক্রফট
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
আপিল করবেন না স্মিথ-ব্যানক্রফট

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি

স্পোর্টস রিপোর্টার

বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় পাওয়া শাস্তির বিপক্ষে আপিল করার জন্য আজকে পর্যন্ত সময় ছিল অস্ট্রেলিয়ান তিন ক্রিকেটারের। তার আগে গতকালই টুইটারের মাধ্যমে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া পুরো শাস্তিই মেনে নিয়েছেন। এই অপরাধ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে তবেই ফিরতে চান দুই ক্রিকেটার। তাই আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট। তবে আরেক শাস্তি পাওয়া ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার আপিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানাননি।

টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্মিথ বলেছেন, ‘এই ব্যাপারটা পেছনে ফেলতে এবং নিজের দেশকে আরেকবার প্রতিনিধিত্ব করতে আমি যে কোনো কিছু বিসর্জন দিতে পারি। তবে দলের ওই সময়ের অধিনায়ক হিসেবে আমি যেটা আগেও বলেছি যে, পুরো দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। ফলে আমি এই শাস্তি চ্যালেঞ্জ করছি না। সিএ (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) এই শাস্তি দিয়েছে একটা কঠিন বার্তা দেওয়ার জন্য। আর আমি সেটা মেনে নিচ্ছি।’

স্টিভ স্মিথ আপিল না করার মানে হলো, তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে। মানে, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের মাত্র মাস দুয়েক আগে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ঝুঁকিতে পড়ে গেল স্মিথের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাও।

একইরকম ভাবে সব শাস্তি মেনে নিয়ে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ব্যানক্রফট। তিনিও টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজ আমি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ায় আমার সব কাগজপত্র দাখিল করেছি। আমি যে শাস্তি পেয়েছি, সেটা পুরোটাই মেনে নেব। এই ঘটনা আমার পেছনে ফেলে দিতে চাই আমি। সেই সাথে অস্ট্রেলিয়ান মানুষের বিশ্বাস ফিরে পেতে যা করতে হয়, তাই করবো। আমাকে সমর্থন দিয়ে যারা মেসেজ পাঠিয়েছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য বল টেম্পারিংয়ের ঘটনাটি ঘটে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন বিকেলে। হঠাত্ করেই ম্যাচ সম্প্রচারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডার ক্যামেরন ব্যানক্রফট পকেট থেকে হলুদ কিছু একটা বের করে বল ঘষার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা মাঠে জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয়। সাথে সাথে ব্যানক্রফট সেই হলুদ জিনিসটা অন্তর্বাসের মধ্যে লুকিয়ে ফেলেন। এরপর আম্পায়ার তাকে ডাকলে তিনি একটা রুমাল বের করে দেখান। ফলে আম্পায়াররা সে সময় কোনো শাস্তি দেননি।

কিন্তু দিনের খেলাশেষে এই ঘটনার দায় স্বীকার করে নেন স্টিভেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট। তারা জানান, হলুদ টেপের ওপর ‘পিচ’ ধরনের কিছু একটা ব্যবহার করে বল টেম্পারিং করেছেন তারা। পরে জানা যায়, জিনিসটা সিরিশ কাগজ ছিল। পরে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ স্বীকার করেন যে, দলের নেতৃস্থানীয় যারা আছেন, তারা সবাই এই ঘটনা জানতেন এবং তাদের পরিকল্পনামতোই এটা করা হয়েছে।

এই স্বীকৃতির পর অস্ট্রেলিয়াতে ঘোরতর প্রতিক্রিয়া হয়। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। সাথে সাথে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এক তদন্ত কমিটি করে দ্রুত শাস্তি ঘোষণা করে। স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ১২ মাসের জন্য এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়াও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানায়, স্মিথ ও ব্যানক্রফট ফেরার পরের ১২ মাসেও অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বশীল কোনো পদে আসতে পারবেন না এবং ওয়ার্নার আজীবন আর নেতৃত্বসীন কোনো পদে আসতে পারবেন না।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন