নতুন চুক্তি করবেন না এন্ডু্র
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত নতুন চুক্তি করার সবকিছু চূড়ান্ত করেও বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন না এন্ডু্র অরড। বৃটিশ বংশোদ্ভূত অষ্ট্রেলিয়ান কোচ এন্ডু্র থাইল্যান্ডের ক্লাব ফুটবল দল এয়ার ফোর্স ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনা করেই দায়িত্ব ছেড়েছেন বলে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন। গত ৩০ মার্চ শুক্রবার বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান তাবিথ আওয়াল জানিয়েছিলেন এন্ডু্র তার প্রথম বছর মেয়াদ শেষ করে নতুন বছরের জন্য চুক্তি করবেন। আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে আছে। আনুষ্ঠানিকতা বাকি। তবে দ্বিতীয় বছরের জন্য সুযোগ-সুবিধা কিংবা বেতন বাড়বে না।

ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা চূড়ান্ত করেও না আসার কারণ অন্য কোথাও আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক পেয়ে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন এন্ডু্র অরড। বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে ক্লাব ফুটবলে যোগ দিয়েছেন তিনি।

বাফুফের সঙ্গে এক বছরের চুক্তির মেয়াদ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ৩১ মার্চ পর্যন্ত বেতনও দিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে। তারপরও চুক্তি অনুযায়ী দুই মাস বাকি আছে এখনো। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন মে এবং জুন মাসের বেতন দিতে হবে না। তবে চুক্তির মেয়াদ সম্পন্ন না করে চলে যাওয়ার বিষয়টি ফিফার কাছে জানানো হবে কিনা সেটা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এন্ডু্র তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য কাতার গিয়েছিলেন কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে। এরপর থাইল্যান্ডে দুটি ক্লাব ফুটবলের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচ খেলে গত ২৭ মার্চ লাওসে বাংলাদেশ ফুটবল দল লাওসের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। ২ গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ ২ গোল শোধ করে ম্যাচটা ড্র করে। এরপর এন্ডু্রকে ছুটি দেয়া হয়। ছুটি কাটিয়ে ২ জুলাই জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। কিন্তু হঠাত্ করে এন্ডু্রর চলে যাওয়ায় বাফুফে ধাক্কা খেয়েছে। কারণ এন্ডু্রকে ঘিরে বাফুফে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল এবং এশিয়ান গেমস ফুটবল দল গঠনের পরিকল্পনা করেছিল। এখন সবকিছুই নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। আবু নাঈম সোহাগের কথা হচ্ছে কোচ যাবে কোচ আসবে। এটাই ফুটবল দুনিয়ার নিয়ম।

এন্ডু্র অরড চলে যাওয়ার আরো কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেছে বাফুফে। বৃটিশ বংশোদ্ভূত অষ্ট্রেলিয়ান এই মানুষটির পরিবার থাকে অষ্ট্রেলিয়ায়। কাজ করতেন অষ্ট্রেলিয়া ফুটবল দলে। কোচিং পেশায় ছিলেন না। প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে তাদের সন্ধান দেয়া। কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেনি তিনি। বাফুফে জানিয়েছে এন্ডু্র অরডের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সব সময় সজাগ ছিল ঢাকাস্থ অষ্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। হাইকমিশন হতে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে যেসব বার্তা এন্ডু্রকে দেয়া হতো সেসব বাফুফেকে দেখানো হতো। আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন এন্ডু্র তার পরিবার নিয়ে এক সঙ্গে অবস্থান করতে চান। কিন্তু তার পরিবার বাংলাদেশে আসতে রাজি না। প্রশ্ন উঠেছে তা হলে কি নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এন্ডু্র? সোহাগ জানিয়েছেন নিরাপত্তার বিষটিও ছিল। সে (এন্ডু্র) থাইল্যান্ডে থাকতে চান হয় তো।  

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন