মেসির ওপরই নির্ভরশীল আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস রিপোর্টার০৪ জুন, ২০১৮ ইং
মেসির ওপরই নির্ভরশীল আর্জেন্টিনা
গত মার্চেই হোর্হে সাম্পাওলি বলে রেখেছিলেন, ‘এটা মেসির দল। এখানে যারা মেসির সাথে মানিয়ে নিতে পারবে তারাই টিকে থাকবে।’ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পুরনো কথাটাই আবারো ঘুরিয়ে বললেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

এক সাক্ষাত্কারে এই কোচ জানান, মেসিই এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। আর তাকে কেন্দ্র করেই বিশ্বকাপের ছক কষছে আর্জেন্টিনা। আর এবার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মেসি অনেক ফিট বলেই আশা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা।

সাম্পাওলি বলেন, ‘মেসি শুধু এই সময়ের সেরা না সর্বকালেরই সেরা ফুটবলার। গত বিশ্বকাপে লম্বা লা লিগা খেলে এসে ক্লান্ত ছিল ও। এবার বার্সেলোনা আগেই শিরোপা জেতায় আমরা অনুরোধ করেছিলাম ওকে বিশ্রাম দিতে। শেষ দিকে বিশ্রাম পেয়ে অনেক সতেজ এখন মেসি। ফিট মেসি স্বপ্ন দেখাচ্ছে আর্জেন্টিনাকেও। এই দলের মাসচেরানো, আগুয়েরো, হিগুয়াইন এমনকি মেসিরও হয়তো এটা শেষ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটা স্মরণীয় করে রাখতে নিজেদের প্রস্তুত করছে সবাই।’

এই মুহূর্তে স্পেনের বার্সেলোনায় চলছে আর্জেন্টিনার কঠোর অনুশীলন। গতকাল সকালে বার্সেলোনার জোয়ান গ্যাম্পার ট্রেনিং সেন্টারে দল নিয়ে অনুশীলন চালিয়েছেন সাম্পাওলি। দল নিয়ে আশাবাদী হলেও সাম্পাওলির দুশ্চিন্তা গোল পোস্ট নিয়ে। কারণ সার্জিও রোমেরোর ইনজুরি। আর এখন অবধি পছন্দসই ‘এক নম্বর’ গোলরক্ষক খুঁজেও পায়নি আর্জেন্টিনা।

সাম্পাওলি বলেন, ‘এটাই ফুটবল। অনেক বড় ধাক্কা রেমেরোকে হারানোটা। তবে বিকল্প যারা আছে তার যথেষ্ট যোগ্য। তিনজনই দাবি রাখে একাদশে জায়গা পাওয়ার। কে দলে জায়গা পাবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।’

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ ডি-তে এবার আর্জেন্টিনার সঙ্গী আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া এবং চিরচেনা প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া। আগামী ১৬ জুন মস্কোতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৩২ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর মিশন শুরু করবেন মেসিরা। পাঁচদিন পরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে আকাশি সাদারা। গ্রুপ পর্যায়ে সম্পাওলির দলের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের দাবি, এই বিশ্বকাপে মাউরো ইকার্দির অভাব বোধ করবে আর্জেন্টিনা দল।

যদিও, সাম্পাওলি ইকার্দিকে ‘মিস’ করছেন। তিনি বলেন, ‘ইকার্দি ভালো। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ না পেলেই তো আর কেউ খারাপ ফুটবলার হয়ে যায় না। যে খেলোয়াড়দের ডেকেছি তারা আমাদের স্টাইলের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। যতটা সম্ভব মেটাতে পারে আমাদের চাহিদাও। যেমন উদাহরণ হিসেবে আনসালাদিকে নেওয়ার কথা বলি। ও ফুল ব্যাক আবার খেলতে পারে দুই সাইডেই। ওকে যখন যেখানে খুশি খেলাতে পারি। সবচেয়ে বড় কথা আমার সুযোগ আছে মাত্র ২৩ জন দলে নেওয়ার। বাছাই পর্বে আমাদের সাহায্য করা অনেককে নিতে পারিনি এ জন্য। ডারিও বেনেদেত্তোর কথাই বলি। বাছাই পর্বে অনেক সাহায্য করেছে আমাদের। অথচ চোটের জন্য ওর বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না।’

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা। মারাকানায় জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ। এরপর টানা দু’টি কোপা ফাইনালে টাইব্রেকারে হার। হতাশা আর ক্ষোভে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়েই দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আবার ফিরেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) অনুরোধে। আর বলা হচ্ছে ৩০ বছর বয়সী মেসির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে সাম্পাওলির অধীনে মেসি কি পারবেন আর্জেন্টিনার ৩২ বছরের বিশ্বকাপ আক্ষেপ ঘুচাতে? উত্তর জানতে সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন