‘অবশ্যই ব্রাজিল ফেবারিট’
স্পোর্টস ডেস্ক০৪ জুন, ২০১৮ ইং
‘অবশ্যই ব্রাজিল ফেবারিট’
চার বছর আগের কথা। সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ১-৭ সাতের লজ্জাজনক হার। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। ‘মারাকানাজো’র সাথে মিল রেখে গণমাধ্যম নাম দিয়েছিল ‘মিনেইরাজো’। বোঝাই যাচ্ছে, হারের বেদনাটা কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল ব্রাজিলিয়ানদের জন্য। ম্যাচটা অবশ্য মাঠের বাইরে থেকেই দেখেছিলেন সুপারস্টার নেইমার। কারণ কলম্বিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই হুয়ান জুনিগার ট্যাকলে পিঠের ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় নেইমারের।

 সেদিন রেফারি এই ট্যাকলকে ফাউল হিসেবেও গণ্য করেননি। যদিও তারপরও জুনিগা হয়ে গিয়েছিলেন ব্রাজিল সমর্থকদের দুই চোখের বিষ। চার বছর কেটে গেলেও, সেই জখম এখনো টিকে আছে মনে। দুয়ারে বিশ্বকাপ। নেইমারের সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের সামনে ‘মিশন হেক্সা’। নেইমাররা কি পারবেন ২০০২ সালের পর আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরতে? - টাইমস অব ইন্ডিয়াতে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন খোদ নেইমার।

     আরেকটি বিশ্বকাপ, ব্রাজিল কি পারবে?

         - আমি সব সময় বিশ্বাস করি যে আমরা পারবো। আমাদের দলটা বেশ ভাল। এক সাথে মিলে আমরা যথেষ্ট ঘাম ঝরাচ্ছি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্যতা আছে।

     একটু ভেঙে বলবেন...

         - দেখুন, আমরা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রথম দল হিসেবে বাছাইপর্বের বাঁধা এড়িয়েছি। কোয়ালিফাই করতে দলটাকে ১৮ টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। আর ম্যাচগুলো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দেশে, ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে। এটা ফুটবলারদের জন্য বড় একটা পরীক্ষা ছিল। আর সেটা আমরা বেশ দক্ষতার সাথেই করেছি, অনেকগুলো ম্যাচ হাতে রেখে। এটা সবার জন্যই বিশেষ একটা ব্যাপার। আশা করি রাশিয়াতেও ঠিক একই কাজটা করতে পারবো।

    বাছাইপর্বে আপনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। কিন্তু প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের হয়ে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন। তার জন্য আপনার অস্ত্রপচারও করাতে হয়। এটা কি বড় দুশ্চিন্তার কারণ?

         - আমি এখন পুরোপুরি ফিট আছি। হ্যাঁ, এটা অবশ্যই আমার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। যখন অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেই, তখন প্রথমেই বিশ্বকাপের কথা মাথায় আসে। তবে, এখন সব ঠিক আছে। আশা করি, সব কিছু ঠিকঠাক মতই চলবে এখন।

     ২০১৪ সালে আপনি ইনজুরির কারণে সেমিফাইনাল খেলতে পারেননি। ব্রাজিল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন হারের মুখোমুখি হয়েছিল...

         - যাই হোক, এরপর আমরা লম্বা সময় কাটিয়ে ফেলেছি।  হ্যাঁ, ওই পরাজয়টা হজম করে নেওয়া কঠিন, আর যখন এমন একটা ইনজুরির কারণে আমি খেলতে পারিনি যা কি না আমার ক্যারিয়ারও শেষ করে দিতে পারতো। ব্যথাটা আর দুই সেন্টিমিটার ডানে লাগলেই হয়তো আমার বাকি জীবন হুইলচেয়ারে কাটাতে হত। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে আমি দ্রুতই সুস্থ হয়ে ফিরে খেলা চালিয়ে যেতে পারছি। আর এবার আমি চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।

     গ্রুপ ‘ই’-তে ব্রাজিলকে সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা ও সার্বিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিপক্ষদের নিয়ে আপনার কি ভাবনা?

         -  এটা বিশ্বকাপ, আর এখানে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ৩২ টা দল খেলছে। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। সুইজারল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। আর সার্বিয়া নতুন একটা ফুটবল জাতি হিসেবে এসে বেশ ভাল করছে। আর কোস্টারিকা কতটা শক্তিশালী দল সেটা বোঝার জন্য একটা তথ্যই যথেষ্ট যে ওদের কারণেই এবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়ায় আসতে পারেনি। এটা শক্ত একটা গ্রুপ। বলা ভাল, বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন গ্রুপগুলোর একটি। নক আউট পর্বের টিকেট পাওয়ার জন্য আমাদের যোগ্যতার সেরাটাই দিতে হবে।

     স্পেনে আপনি লিওনেল মেসির সাথে খেলেছেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপক্ষে খেলেছেন। তাদের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাব্যতা নিয়ে আপনার কি মতামত?

         - দু’জনই গ্রেট ফুটবলার, বলা উচিত্ আমাদের প্রজন্মে ওরাই সেরা। আমি মেসির সাথে খেলেছি, খুব সৌভাগ্যবান বলে সুযোগটা পেয়েছি। ফুটবলার কিংবা একজন মানুষ - দুই ভাবেই আমি ওকে পছন্দ করি। ওর সাথে একই ক্লাবে খেলাটা আমার স্বপ্নের মত ছিল। আমার চোখে, ওই এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। তবে, যাই হোক এই লড়াই থেকে কখনো আপনি ক্রিশ্চিয়ানোকে ছিটকে দিতে পারেন না। ওর পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে ওর যোগ্যতা কতটা ওপরে। যাই হোক, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল - দু’টো দলই এবারের বিশ্বকাপে বাকিদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। এই দুই জাদুকর নিজেদের দেশের জন্য সেরা ফলাফল আনতে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলবেন।

     বিশ্বকাপে আপনার চোখে ফেবারিট কারা?

         - অবশ্যই ব্রাজিল ফেরাবিট। সত্যিই বলছি। আমাদের সাথে আরো অনেকে আছে। এই অঞ্চল থেকে আর্জেন্টিনা আর উরগুয়ে আছে। আর যেহেতু এবারের বিশ্বকাপটা ইউরোপে হচ্ছে, সেজন্য ওদের গোনায় ধরতে হচ্ছে। এর মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পতুর্গাল আছে। আসলে সবার মধ্য থেকে একটা ফেবারিট দলের নাম আলাদা করে বলা খুবই মুশকিল।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন