নিজেকে চিনেছেন মিঠুন
জান-ই-আলম০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
নিজেকে চিনেছেন মিঠুন
ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত পারফরমারদের একজন। চার বছর আগে অভিষেক হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিভা মেলে ধরতে পারছিলেন না মোহাম্মদ মিঠুন। অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর এশিয়া কাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জমিন খুঁজে পেয়েছে মিঠুনের ব্যাট। দলের বিপদে ত্রাতা হয়ে খেলা দুই হাফ সেঞ্চুরি যুগিয়েছে ২২ গজে লড়াইয়ের প্রবল আত্মবিশ্বাস। সঙ্গে বাংলাদেশ দলও পেয়েছে মিডল অর্ডারে ভরসা করার মতো ব্যাটসম্যান।

প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন রানে দুই উইকেট নেই। সঙ্গে তামিমও আহত হয়ে অবসরে। ধ্বংসস্তূপে মুশফিকের সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়লেন মিঠুন। গড়লেন ১৩১ রানের জুটি। প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর থামলেন ৬৩ রানে। যা এখন তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

সুপার ফোর পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াই। আবুধাবিতে এবার ১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ১৪৪ রানের ম্যাচ বাঁচানো জুটিতে মিঠুনের অবদান ৬০।

গতকাল মুঠোফোনে মিঠুন বলছিলেন, এশিয়া কাপের দুটি ইনিংস তাকে পাইয়ে দিয়েছে ভবিষ্যতে পারফর্ম করার আত্মবিশ্বাস। নিজের সামর্থ্যের উপরও বিশ্বাস খুঁজে পেয়েছেন তিনি। ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি আগে আমি একটু দ্বিধায় থাকতাম, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনো আমার ওইরকম সাফল্য আসেনি। আমি নিজের মধ্যে নিজে একটু দোটানায় থাকতাম, আসলে আমার সামর্থ্য আছে কি না, বা আমি কতটুকু পারবো- ওই জিনিসটা থেকে আমি আল্লাহর রহমতে একটু বের হতে পেরেছি।’

নিজের সামর্থ্যকে জানতে পেরে পরিতৃপ্ত এখন মিঠুন। তিনি বলেন, ‘অন্তত আমি এখন জানি যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো অবস্থায় আমার ব্যাটিং করার মতো সামর্থ্য আছে। আপনি নিজের সাথে নিজে যত যুদ্ধ করেন, একটা সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত কিন্তু আপনি পুরোপুরি নিজের প্রতি বিশ্বাসটা আসবে না যে, আপনি পারেন। কারণ এটা একটা নতুন জায়গা। ঘরোয়ায় অনেক কিছুই আছে, করছি, কিন্তু আন্তর্জাতিকে করতে পারিনি। অন্তত সেই জায়গা থেকে নিজের আত্মতৃপ্তি আছে। নিজের আত্মবিশ্বাসটা আরো ভালো জায়গায় আছে যে, আমি পারবো।’

নিজের দুটি ইনিংসের পেছনেই অগ্রজ মুশফিককে কৃতিত্ব দিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, ‘মুশফিক ভাই আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। যখনই কোনো রকম অস্বস্তিবোধ করেছি, উনি এসে বুঝিয়েছেন। বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই। সময় কাটা, পরে ঠিক হয়ে যাবে। দুইটা ভালো ইনিংসে মুশফিক ভাইয়ের কৃতিত্ব অনেক। আমি খেলেছি ঠিক আছে, সিনিয়র প্লেয়ার হিসেবে উনি অনেক ভালো ভূমিকা রেখেছেন।’

উইকেটে সময় কাটানোর ব্রত নিয়েই ব্যাটিংয়ে গিয়েছিলেন মিঠুন। দুই ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের সময় নিজের চিন্তার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় প্রথম টার্গেট ছিল উইকেটে যত বেশি সময় কাটানো যায়। মুশফিক ভাই অনেক সাহায্য করেছে। কারণ উনি এমন অবস্থা অনেকবার সামাল দিয়েছে। আমি তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন। আগে খুব বেশি ম্যাচও খেলিনি। এসব অবস্থা কখনোই সামাল দেইনি।’

টুর্নামেন্ট চলাকালীন অধিনায়ক মাশরাফিও আড্ডায় বলছিলেন, এশিয়া কাপে একটা প্রাপ্তি মিডল অর্ডারে মিঠুনকে পাওয়া। অধিনায়কের কথা উজ্জীবিত করছে এই তরুণকে। গতকাল তিনি বলেন, ‘যদি এমনটাই হয় তাহলে আসলেই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। আমাকে যদি সেইভাবে চিন্তা করে তাহলে আমার দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেল। আমার উপর অন্তত আস্থা রাখছে দল। অবশ্যই সেই আস্থার প্রতিদান দেয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন