ক্ষুধাটা জিইয়ে রাখতে চান মুমিনুল
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
ক্ষুধাটা জিইয়ে রাখতে চান মুমিনুল
g জান-ই-আলম

সামনে বিয়ে অথচ জামাইয়ের ব্যাটে রান নেই!

গতকাল সূর্য ডোবার আগে ড্রেসিংরুম থেকে বের হয়ে এসে কথাটা শুনতেই হেসে দিলেন মুমিনুল হক। বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরির পর আট ইনিংসে বড় রান না থাকলেও গত কয়েক মাসে অবশ্য এমন কথা শুনতে হয়নি তাকে।

কারণ বিয়েটা এ বছর আর হচ্ছে না। আগামী এপ্রিলে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথাই জানালেন কক্সবাজারের এই তরুণ।

এর মধ্যে স্বস্তির কথা আবার দেখা মিলেছে বড় ইনিংসের। গতকাল মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১৬১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছেন মুমিনুল। ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরির দিনে প্রতিকূলতা, চাপ জয়ের সঙ্গে অর্জনের ভারেও সমৃদ্ধ হয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

চাপের ফিরিস্তিগুলো এমন; আট ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর দুইশ’ পার হয়নি। গত আট ইনিংসে বিবর্ণ ছিল মুমিনুলের ব্যাট। সিলেটে হেরে বাংলাদেশের জন্য এটি সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। সকালে উইকেটে নেমে থিতু হওয়ার আগেই দেখলেন ২৬ রানে দলের তিন উইকেট নেই।

তারপরের গল্পটা চাপের বাঁধন খুলে ব্যাটিংয়ের রোমাঞ্চ উপভোগের। তামিম ইকবালকে টপকে মিরপুরে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক হয়েছেন মুমিনুল। এর আগে সেরা ছিল ২০১০ সালে ভারতের বিরুদ্ধে তামিমের করা ১৫১ রান। দেশের হয়ে টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকায় আশরাফুলকে (৬) ছাড়িয়ে তামিমের (৮) পরই এখন তার অবস্থান (৭)। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে গড়েছেন ২৬৬ রানের রেকর্ড জুটি।

এর বাইরেও ছিল টেস্ট ক্রিকেটে আলোড়ন তোলার সুযোগ। চলতি বছরে টেস্টে এখনো কোনো ডাবল সেঞ্চুরি হয়নি। মুমিনুলের সামনে সুযোগ ছিল ডাবল সেঞ্চুরির। সেটি করতে পারলে তিনিই হতে পারতেন বছরের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান।

সাত সেঞ্চুরির তিনটিই দেড়শ পেরিয়েছে। ডাবল সেঞ্চুরি তাহলে কবে? গতকাল দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলছেন, ‘এটা যত পরে হবে আমার খিদেটা তত বাড়বে। হয়ে গেলে তখন খিদেটা তো মিটে গেল।’

গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রাতার ভূমিকাতেই ধরা দিয়েছে মুমিনুলের ব্যাট। দ্রুত তিন উইকেট পড়ার ধাক্কা সামলে উঠেন মুশফিককে নিয়ে। ৯২ বলে ৫০ রান করেন। পরের ৫৮ বলে পঞ্চাশ রান তুলে পূর্ণ করেন সপ্তম সেঞ্চুরি। তখন মূলত খোলস ছাড়িয়ে স্বরূপে দেখা গেছে মুমিনুলকে। দ্বিতীয় সেশনে ৯০ রান করেছেন তিনি। দেড়শ রান পার হন ২৩৯ বলে। ১৯ চারে সাজানো ইনিংসের শুরুতে অনেক স্থিতধিও মনে হয়েছে ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে।

আগের মতো বাইরের বল তাড়া করেছেন কম। বল ছেড়েছেন। পায়ের কাজ ছিল চোখে পড়ার মতো। খুব বেশি তুলে মারেননি। ব্যাটিংয়ের কৌশলগত বিষয় অবশ্য মুমিনুল খোলাসা করলেন না। বলেছেন, ‘আমি খুব বেশি জটিল করার চেষ্টা করি না। ক্রিকেট যত জটিল করবেন তত কঠিন হয়। চেষ্টা করি যে বল দেখব আর খেলব, এটাই, আর কিছু না। এইসব জায়গায় মানসিকভাবেও একটু শক্ত হতে হয়, কারণ খারাপ খেললে অনেকে অনেক কথা বলে, এটাই স্বাভাবিক। আপনিও বলবেন, আমি আপনার জায়গায় গেলে আমিও বলতাম।’

এই সেঞ্চুরিতে যেমন শিখেছেন, তেমনই কষ্ট করেছেন। সার্বিক আবহ মিলে সেঞ্চুরিটা আকর্ষণীয় ছিল মুমিনুলের কাছে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমি এই সেঞ্চুরিতে অনেক শিখতে পেরেছি। আমার যতগুলো সেঞ্চুরি আছে এরমধ্যে এটা বেশ মজার।  কারণ অনেক কষ্ট করে ব্যাট করেছি। আমি যতক্ষণ ব্যাট করেছি কষ্ট করে ব্যাট করেছি। অন্যগুলোর চেয়ে এটা অনেক কঠিন ছিল।’

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন