রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় : কিছু ভাবনা
৩১ মে, ২০১৫ ইং
মনোজ কুমার

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মজয়ন্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গত ২৫ বৈশাখ, ১৪২২ বঙ্গাব্দ (৮ মে, ২০১৫ খ্রি.) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সংবাদে আমরা বাঙালি রবীন্দ্রপ্রেমীসহ বিশ্বের রবীন্দ্রপ্রেমী সকল মানুষ যে আনন্দিত হয়েছি, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মানসিক উত্কর্ষ সাধনে রবীন্দ্র সাহিত্য তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান অনস্বীকার্য। ক্রমে ক্রমে তাঁর দর্শন চিন্তা-চেতনা ও সাহিত্যের ধারা বাংলা ভাষাভাষীদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিকশিত হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের এক বাঙালি পরিবারে (কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে) জন্মগ্রহণকারী এই শ্রেষ্ঠ সন্তান তাঁর জ্ঞান ও প্রতিভাবলে সৃষ্টি করেছেন বিশাল এক সাহিত্য ভাণ্ডার, যা বাঙালি ও বাংলা ভাষাকে করেছে সমৃদ্ধ। তাঁর অবদান বাঙালি জাতির জীবনধারা, সমাজ ও সংস্কৃতিকে করেছে পরিপূর্ণ। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অসাধারণ প্রতিভাধর এই ব্যক্তিত্ব প্রথম বাঙালি হিসেবে আজ থেকে শত বছর আগে অর্জন করেছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্মান নোবেল পুরস্কার। আমাদের বাঙালি জাতির পরম সৌভাগ্য যে তিনি বাঙালি হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বহুমুখী প্রতিভাধর বাঙালি সন্তান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহিমা আজ বিশ্বব্যাপী পরিব্যাপ্ত। তিনি শুধু ভারতীয় বা বাঙালি রবীন্দ্রনাথ নন, তিনি বিশ্বের সকলের রবীন্দ্রনাথ। শাহজাদপুরে কবিগুরুর নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও যেন তাঁর চিন্তা-চেতনা, দর্শন ও সাহিত্যের মতো বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করতে পারে, যেন একটি আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হতে পারে কর্তৃপক্ষের সেদিকে লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয়। বিশেষত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্য সাধারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত যেনতেনভাবে গড়ে তুললে তা হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির প্রতি উত্সর্গের পরিবর্তে অবমাননা, লাঞ্ছনা। এর অবকাঠামো যেমন- প্রশাসনিক, একাডেমিক, আবাসিক, এছাড়াও গ্রন্থাগার, খেলাধুলার মাঠ, সেমিনার কক্ষ, সাইবার সেন্টার, সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র প্রভৃতি যেন আন্তর্জাতিকমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিপাত করতে হবে। রবীন্দ্র ভাবাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি প্রাচীন ভারতীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ভাষার অনুষঙ্গ তথা সংস্কৃত-পালি, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, সংগীত-নাট্য ও কৃষি প্রভৃতি বিষয়ের উপর পাঠদান ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কেননা মানুষের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তির উত্কর্ষ সাধনে ও মানব সমাজের কল্যাণে এসব মৌলিক বিষয় সম্পর্কিত জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চির ভাস্বর হয়ে আছে। জ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিচরণ করেননি। কাজেই আধুনিক যুগের ব্যবহারিক শিক্ষা যেমন- জ্ঞান-বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, বাণিজ্য প্রভৃতি বিষয়ের পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য-সমাজ-সংস্কৃতি কলা-নাট্য-সংগীত, প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, দর্শন, কৃষিসহ পাঠদানের যত রকম শাখা আছে সকল বিষয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত। এই বিশ্ববিদ্যালটির প্রশাসনিক জনবল ও শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অধিকতর সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে সেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির সচিত্র প্রতিবেদন আমরা বিভিন্ন সংবাদ ও পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান ও সংস্কৃতি তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চার পীঠস্থান। তাই দলীয়করণ, স্বজন-প্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য পরিহার করে মেধাবী ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করে প্রশাসনিক ভিতকে যেমন মজবুত করতে হবে, তেমনি পণ্ডিত ও বিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী নিয়োগদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, পর্যাপ্ত গবেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিকমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির প্রতি উত্সর্গের প্রকৃত নিদর্শন হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি।

n লেখক : এম.এ পালি এন্ড বুদ্ধিষ্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল : [email protected]

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন