ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটন খাত
০৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ইং
ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটন খাত
আবীর বসাক

শুরু হয়েছে পর্যটন মৌসুম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যাচ্ছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। প্রাণ ফিরে পাচ্ছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলো।

অজানাকে জানা এবং অচেনাকে চেনা মানুষের চিরায়ত স্বভাব। নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে উপভোগ আর জ্ঞানার্জনের নেশায় মানুষ ছুটে চলে অবিরাম। ভিড় করে দর্শনীয় স্পটগুলোতে। বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়টুকুকে পর্যটন মৌসুম বলা হয়। তাইতো বছরের অন্যান্য সময়েও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও সাধারণত এইসময়ে পর্যটন স্থানগুলোতে তাদের ঢল নামে। দিনরাত মুখর হয়ে থাকে পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

বর্তমানে পর্যটন শিল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। তবে বিগত বেশ ক’বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভুগতে হয়েছে এই শিল্পকে। তাছাড়া অনুন্নত যোগাযোগ, অবকাঠামো-গত অসুবিধা, পর্যটন স্পটে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য, নিরাপত্তা সমস্যা তো রয়েছেই।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অপার হলেও এই খাতটি বরাবরই অবহেলিত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কোনো সুষ্ঠু নীতিমালা অনুসরণ এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ আজও গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের গৃহীত যত্সামান্য পদক্ষেপও আশাব্যঞ্জক নয়। তাইতো বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটননির্ভর দেশের তুলনায় বাংলাদেশ যেন ক্রমশ পিছিয়েই পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন পর্যটন খাত থেকে প্রচুর অর্থ আয় করছে, তখন কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

সরকার ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পর্যটন বর্ষ উপলক্ষ্যে ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক আনার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এতো বড় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ট্যুর অপারেটর, গাইড, হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইনস, বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানসহ পর্যটনের সাথে জড়িত সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগুতে হবে।

বাংলাদেশে পর্যটন খাত যে কতোটা সম্ভাবনাময় তা বুঝা যাবে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)-এর প্রতিবেদন দেখলেই। ২০১৩ সালে তৈরিকৃত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ২০১২ সালে পর্যটন খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন প্রায় ১২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ জন কর্মজীবী মানুষ; যা ঐ বছরে দেশের মোট কর্মসংস্থানের এক দশমিক আট শতাংশ। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় ২৭ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ জন; যা দেশের মোট কর্মসংস্থানের তিন দশমিক সাত শতাংশ।

ডব্লিউটিটিসি আরো জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পর্যটন খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবেন প্রায় ১৭ লাখ ৮৫ হাজার জন। আর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মিলে সর্বমোট ৩৮ লাখ ৯১ হাজার জন; যা হবে দেশের মোট কর্মসংস্থানের চার দশমিক দুই শতাংশ। কর্মসংস্থানের এই হার প্রতি বছর দুই দশমিক নয় শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলেও জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।

পার্শ্ববর্তী দেশ মালদ্বীপ কিংবা সিঙ্গাপুরের ন্যায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও পাল্টে দিতে পারে। তুলে ধরতে পারে এদেশকে মডেল হিসেবে গোটা বিশ্বের সামনে। তবে সত্যিই এই খাতের বিকাশ ঘটাতে হলে প্রয়োজন কৌশল নির্ধারণ করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। সেই সাথে প্রয়োজন পর্যাপ্ত নজরদারি এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও। সুষ্ঠু দেখভাল করা হলে ভবিষ্যতে পোশাক শিল্প খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হবে দেশের সম্ভাবনাময় এই খাতটি। মন্দাভাব কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে দেশের পর্যটন খাত এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

n লেখক:শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বিটেক)

কালিহাতী, টাঙ্গাইল

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৭ জানুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:০৫
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩০
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:২৫
পড়ুন