উন্নত বাংলাদেশ
সাগর কর্মকার০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
একটি জাতির মুখ্য আকাঙ্ক্ষা অর্থনৈতিক মুক্তি। বাঙালিও এই একই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সকল শাসকশ্রেণিই বাংলার জনতাকে অর্থনৈতিক মুক্তির আশ্বাস দিয়েছে। তারা সবাই কারণে-অকারণে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। কেউবা সদিচ্ছায় আপামর জনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হলে তাকে পড়তে হয়েছে নানা বাধা বিপত্তিতে।

বাংলাদেশের অধিকাংশই খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। দেশকে নিয়ে ভাবতে হলে এদের নিয়ে ভাবাটাই স্বাভাবিক। কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার-কুমার, শিল্পশ্রমিক, চা-শ্রমিক; এরাই বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। যতোটুকুই দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হয় তার ভিত গড়ে দেয় কৃষি। কিন্তু স্মরণাতীত কাল থেকেই দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থাই সবচেয়ে নাজুক। বীজ, সার, কীটনাশকের সাথে কৃষকের শ্রমের মিশ্রণে যে বিনিয়োগ, সে বিনিয়োগের লাভ কৃষক পায় অতি সাধারণ অংকে। মজুতদার, ফটকা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকের প্রাপ্য লাভের অধিকাংশ অধরাই থেকে যায়। এছাড়া প্রকৃতিও কৃষকের সহায় নয়।

জনসংখ্যা বেশি হওয়ার দরুন দেশে শ্রমের যোগান অনেক তাই শ্রমের মজুরিও কম। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশের শ্রমকে কাজে লাগিয়ে তাদের লাভের পাল্লা ভারি করে। বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিশ্রমের বিনিময়ে যে মুনাফা অর্জিত হয় তার মূল অংশ ভোগ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এদেশে উত্পাদিত তৈরি পোশাক উন্নত দেশগুলোতে আমদানি খরচ অপেক্ষা ৫-১০ গুণ অধিক লাভে বিক্রি হয়। এই পরিমাণ মুনাফার ভাগ পাওয়ার কথা শ্রমিকেরা স্বপ্নেও ভাবে না। দেশি-বিদেশি মালিকপক্ষ যা করছে কার্ল মার্ক্সের ভাষায় তা হলো অনাপেক্ষিক মূল্য আত্মসাত্। অর্থাত্ শ্রমিকদের মজুরি কম দিয়ে শ্রমিকদের পাওনাটুকু মুনাফায় রূপান্তরিত করে আত্মসাত্ করা।

আরো আছে চা-শ্রমিকেরা। এদের জীবনযাত্রা মনে হয় সবচাইতে করুণ। ৬৯-৮৭ টাকা দৈনিক মজুরি, কতোই বা উন্নত হতে পারে এদের জীবনযাত্রা। টাকার অভাবে ভাতের বদলে কচু সিদ্ধ খেয়েও এরা ক্ষুধা নিবারণ করে। খেটে খাওয়া সব মানুষেরই এরূপ হাল। তাহলে যাদের নিয়ে দেশ, তাদের যদি নিঃশেষ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকে দেশ দাঁড়াবে কী উপায়ে?

বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৩১৪ মার্কিন ডলার। অর্থাত্ প্রায় ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকের আয় ঐরূপ হওয়া উচিত। প্রত্যেকের আয়ে কিছুটা তারতম্য থাকতে পারে বাজার অর্থনীতি, মিশ্র অর্থনীতির কল্যাণে। কিন্তু সেই কিছুটা তারতম্য কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা ভাবার বিষয়। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১১৪২৬৫ জন কোটি টাকার হিসাবধারী। তাদের আয়ের পরিমাণ ও দেশের আপামর শ্রমিক জনতার আয়ের পরিমাণ বিবেচনা করলে বৈষম্যটা অন্ধের চোখেও ধরা দেবে। আয়ের এই বিশাল পার্থক্য অবশ্যই অস্বাভাবিক। কৃষকদের স্বার্থে আঘাত দিয়ে, শ্রমিকের প্রাপ্য অংশ আত্মসাত্ করে যারা টাকা কামিয়েছে, ঐ হিসাবধারীদের অধিকাংশই তারা। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিবছর দেশের মাথাপিছু আয় বাড়বে ঠিকই, দেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ তারপর উন্নত দেশ হবে। কিন্তু সে দেশ হবে চরম বৈষম্যপূর্ণ উন্নত বাংলাদেশ।

n লেখক:ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন