আলোকপাত
ব্যর্থ অভ্যুত্থান এবং গণতন্ত্রের জয়
আহমেদ গুরবুজ২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
গত ১৫ জুলাই দুর্ভাগ্যবশত একটি সামরিক অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয় তুরস্কের গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকার। ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ২৪৬ জন প্রাণ হারান। যাদের বেশিরভাগই নিরীহ জনগণ। বাকিরা সেনাবাহিনীর সদস্য। ওই কলঙ্কজনক অভ্যুত্থান চেষ্টায় আরো প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। জনগণের স্বত:স্ফূর্ত প্রতিবাদ ও অংশগ্রহণের কারণে এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং গণতন্ত্রের বিজয় সূচিত হয়েছে।

এ ঘটনার পর তুরস্কের বন্ধু দেশ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফোন করে তুর্কি সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর লিখিত বার্তায় গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেওয়া মানুষদের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শক্ত হাতে গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানান। আমরা বাংলাদেশি ভাই ও বোনদের ধন্যবাদ জানাই, যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো বার্তার মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং সমর্থন জানিয়েছেন।

১৫ জুলাই তুরস্ক যার মধ্য দিয়ে গেছে সেটা গোপন ষড়যন্ত্রের চেয়েও বেশি ছিল। ফেতুল্লাহ গুলেনের জঙ্গি সংস্থা ‘ফেতো’ এর নির্দেশনায় এই অভ্যুত্থানের অপচেষ্টা হয়। এই ষড়যন্ত্রকারীরা যারা ফেতো’র সঙ্গে জড়িত তারা নিজেদের মানুষদের ওপর গুলি চালায়, নিজেদের কমান্ডারদের পিছনে ছুরি চালায় এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও জাতীয় পার্লামেন্ট ভবনে বোমা হামলা চালায়। আক্রমণকারীরা তুরস্কের জাতীয় টেলিভিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের পক্ষে সংবাদ প্রচার করতে থাকে এবং বেসরকারি গণমাধ্যমের উপরেও আক্রমণ চালায়। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের এই পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে তুর্কি জনগণ। যারা গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আস্থাশীল। গণতান্ত্রিক সংস্থা এবং সংবিধানের সঙ্গে কঠিনভাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছে তারা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে তুরস্কের জনগণ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দলে দলে রাস্তায় ও এয়ারপোর্টে নেমে আসে এবং অভ্যুত্থানকারীদের ট্যাঙ্কের সামনে অবস্থান নেয়। বিপথগামী সেনাদের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর তুরস্কের সকল রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে এসে নির্বাচিত সরকারের প্রতি তাদের একাত্মতা প্রকাশ করে এবং যুক্ত বিবৃতিতে ঘোষণা করেন যে, গণতন্ত্রই বজায় থাকবে।

এই বিপথগামী সেনা সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফেতুল্লাহ গুলেনের ফেতো’র সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২১ জুলাই ২০১৬ থেকে তুরস্ক সরকার সারাদেশে তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। তুরস্কের যেসব সরকারি কর্মচারী ফেতো’র  সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৫ জুলাই থেকে এবং এখন এটা চলতে থাকবে মানবাধিকার, স্বাধীনতা এবং আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে।  জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক হুমকি। এর বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধতা এবং একাত্মতা বাড়াতে হবে। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশের সমর্থনের বার্তাকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আশ্বস্ত করি যে, জঙ্গিবাদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে আমরা একাত্ম থাকব যেটা মানবতার অন্যতম শত্রু।

n লেখক :চার্জ দ্য এফেয়ার্স, তুর্কি দূতাবাস ঢাকা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন