বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার
মানুষের স্বাভাবিক ধারণা এ রকমই যে, অর্থ ও বিত্ত প্রবাহিত হওয়ার কথা যাদের এগুলো বেশি আছে তাদের কাছ থেকে যাদের তা কম আছে তাদের অভিমুখে। তা সে দেশে-দেশে, শ্রেণিতে-শ্রেণিতে, ব্যক্তিতে-ব্যক্তিতে—যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন। ধনী দেশগুলো বলে আসছে যে, আমরাই গরিব দেশগুলোকে ‘সাহায্য’ দিয়ে টিকিয়ে রেখেছি। বিত্তবান শ্রেণি বলছে যে, দরিদ্র মজুর শ্রেণিকে আমরাই ‘কাজ-কর্ম’ দিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ধনবান ব্যক্তিরা ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন যে, আমাদের দানের টাকায় কতো মানুষকে আমরা আজ বাঁচিয়ে রেখেছি। এসব কথাকে স্বতঃসিদ্ধ বলে যুগের পর যুগ ধরে সাধারণ মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ রকম ঘটানোটা সহজে সম্ভব হয়েছে এ কারণে যে, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মও হলো অনুরূপ। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নদীর পানি সব সময় ওপর থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়। তা কখনো নীচ থেকে ওপরের দিকে প্রবাহিত হয় না। অর্থবিত্তও তাহলে যে ওপর থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হবে, সেটিকে সত্য ধরে নেওয়াটা সেকারণে স্বাভাবিকভাবেই ঘটেছে। অথচ, বাস্তবে ঘটছে ঠিক উল্টো ঘটনা।

বলা হয়ে থাকে যে, যখন দেখা যাবে যে নদ-নদী-ঝর্ণার পানি ওপর থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার বদলে নীচ থেকে ওপরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, তখন বুঝতে হবে যে প্রকৃতির সব নিয়ম-কানুন ভেঙে পড়তে শুরু করেছে, কেয়ামত আসন্ন হয়ে উঠেছে। সে হিসেবে বলতে হয় যে সমাজ ও অর্থনীতিতে এখন ঘোর কেয়ামত-পূর্ব অবস্থা বিরাজ করছে। কারণ, ধনীর অর্থ গরিবের কাছে যাওয়ার বদলে গরিবের অর্থ ধনীর কাছে পাচার হচ্ছে। বস্তুত, এই উল্টোমুখী অবস্থা চলছে যুগ যুগ ধরে। আদিম সাম্যবাদী সমাজ বিলুপ্ত হয়ে শোষণভিত্তিক দাস সমাজের পত্তনের যুগ থেকে। এই উল্টোমুখী ধারা চলছে আজও। অর্থ ও বিত্তের উল্টোমুখী প্রবাহ অব্যাহত থেকেছে। শুধু তাই নয়, তার মাত্রা ক্রমাগত বেড়েছে এবং এখনো বাড়ছে।

সোভিয়েত বিপ্লবের পর সেদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এই ‘প্রকৃতি-বিরোধী’ প্রবণতাকে সেই দেশে বন্ধ করা ও বিশ্বব্যাপী তাকে থমকে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সাত দশক ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন দেশে দেশে শোষণমুক্তির বিপ্লবী আন্দোলন ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে আন্তরিকভাবে যথাসম্ভব সহায়তা দিয়েছে। নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশগুলোকে নিঃশর্ত সহায়তা প্রদান করেছে। এসব করতে গিয়ে সে তার জাতীয় সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করেছে। ফলে, নিজ দেশের মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি আনার কাজ তাকে ব্যাহত করতে হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে সোভিয়েত অর্থনীতিকে এক পর্যায়ে পুঁজিবাদী অর্থনীতির সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। এ কারণসহ অন্য আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে সে দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিলুপ্তি (আমার মতে যা কিনা সাময়িক) ঘটেছে। ইতিহাসের দৃষ্টান্ত ও যুক্তিতর্ক দিয়ে তাই একথা বলা যায় যে, স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে যেভাবে নদীর পানি ওপর থেকে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়, তার মতোই যদি অর্থ ও বিত্তের প্রবাহকে, যাদের বেশি আছে তাদের থেকে যাদের কম আছে তাদের দিকে প্রবাহিত করা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে সমাজতন্ত্রই একমাত্র নিশ্চিত ভরসা হতে পারে। যে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থায় বর্তমান দুনিয়া পরিচালিত হচ্ছে, সেই ব্যবস্থা বহাল থাকলে যুগ যুগের ধারার অর্থ ও বিত্ত উল্টোমুখে প্রবাহিত হতেই থাকবে। তেমনটিই এখন চলছে।

বাংলাদেশ এখন ‘নিম্ন মধ্যম আয়ের’ দেশের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বলা হলেও আসলে তা এখনো একটি স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ। উন্নত বিশ্বের সাথে এ দেশের আর্থিক সামর্থ্যের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে হ্রাস করতে হলে, বর্তমান ‘খোলা বাজার অর্থনীতির’ বৈশ্বিক ব্যবস্থায়, যে অর্থ-সম্পদ দেশ থেকে বিদেশে যায় তার চেয়ে বেশি অর্থ-সম্পদ বিদেশ থেকে দেশে আনা নিশ্চিত করতে হবে। এটি না করতে পারলে, আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন যতোই বৃদ্ধি পাক না কেন, তা ধনী দেশের সাথে আমাদের আর্থিক শক্তির ব্যবধান কমানোর বদলে আরো বাড়াতে থাকবে। আমাদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক সাফল্যের বড় অংশটিই চলে যাবে বিদেশে। আমরা কার্যত হয়ে থাকবো ধনী দেশগুলোর সম্পদ বৃদ্ধির যোগানদাতা। এর ফলে বৈশ্বিক বৈষম্য আরো প্রসারিত হতে থাকবে এবং আমরা উন্নতির আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে ক্রমাগত আরো পিছিয়ে পড়তে থাকব।

দেশ থেকে কি পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ বিদেশে পাচার হয়, সে সম্পর্কে একটি দৈনিকের গত ২৪ জুন সংখ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাক লাগানো বিস্ময়কর তথ্যবহুল চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে যে, এদেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির (জিএফআই) প্রস্তুতকৃত একটি গবেষণালব্ধ তথ্যকে ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ অর্থ পাচার’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ হলো ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪২০ কোটি টাকারও বেশি। এই পরিমাণ আমাদের চলতি বছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি এবং আমাদের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। লেস ডেভেলাপড কান্ট্রিস (এলডিসি) বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জিএফআই-এর গবেষণা তথ্য অনুসারে গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে ২০১২ ও ২০১৩ সালে। এই সময়ে পাচার হয়েছে যথাক্রমে ৫৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ৭৭ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। এ হিসেব অনুযায়ী ২০১৩ সালে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা দেশের শিক্ষা বাজেটের প্রায় ৪ গুণ ও স্বাস্থ্য বাজেটের ৮ গুণেরও বেশি ছিল। পাচার হওয়া ওই অর্থের ২৫ শতাংশ হারেও যদি কর পাওয়া যেত তাহলে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ, কিংবা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ তিনগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হতো। সে বছর দেশ থেকে মোট যে অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছিল তা ছিল বাংলাদেশের বিদেশ থেকে পাওয়া ঋণ সাহায্যের সাড়ে তিন গুণ বেশি এবং মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি’র) সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। জিএফআই-এর গবেষণায় জানা যায় যে পাচার হওয়া অর্থের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই ঘটে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেনের আড়ালে। এক্ষেত্রে সিপিডি’র বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট গবেষণা তথ্য তুলে ধরেছে। সেগুলোর মধ্যে একটি তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, ২০১৩-১৫ সময়কালে বিদেশ থেকে যত চাল বাংলাদেশে আনা হয়েছিল তার আমদানি মূল্য দেখান হয়েছিল টনপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার ডলার। অথচ সে সময় বিশ্ব বাজারে চালের গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৫০০ ডলারেরও কম। এভাবে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা সম্ভব হয়েছিল। শুধু চাল নয়, সব ক্ষেত্রেই আজও চলছে একই ধরনের কারবার।

সিপিডি’র প্রতিবেদন থেকে দেখা যাচ্ছে যে গত দুই অর্থবছরে সুইস ব্যাংকসমূহে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসেবের সংখ্যা ডবল হয়েছে। পাচার করা অর্থ দিয়েই এসব একাউন্ট খোলা হয়েছে। আরেক তথ্য থেকে দেখা যায় যে গত ১৩ বছরে মালয়েশিয়ার ‘মাই সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচিতে ৩ হাজার ৬১ জন বাংলাদেশি অর্থ পাঠিয়েছে। কেবল ধনী দেশ জাপান ও জনবহুল অগ্রসর দেশ চীন এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে আছে। কানাডার কিছু শহরে পাচারের টাকায় গড়ে উঠেছে বাংলাদেশিদের ‘বেগম পাড়া’। আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ নানা দেশে বাংলাদেশের অর্থ পাচারকারীরা বাড়ি-ঘর কিনেছে। এসব দেশসহ ইউরোপের দেশে দেশে তাদের অনেকে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ফেঁদে বসেছে। এমনকি, ব্যাংক পর্যন্ত খুলে বসেছে।

এতো গেল শুধু অবৈধ পথে পাচার হওয়া টাকার হিসেব। দেশ থেকে বৈধ-অবৈধ উভয় পথে বেরিয়ে যাওয়া টাকার মোট পরিমাণ যে আরো অনেক বেশি তেমন ধারণা করাটা অযৌক্তিক হবে না। বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিকাংশ দেশের সাথে আমাদের ঘাটতি বিরাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই ঘাটতির পরিমাণ বিপুল। সেই ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে ঋণ-সাহায্য ও বিদেশি বিনিয়োগ দ্বারা। এসব যত বেশি বেশি করে দেশ আসছে, ততই বেড়ে চলেছে প্রদত্ত সুদ ও স্থানান্তরিত মুনাফার পরিমাণ। বৈধ পথেও পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থ-সম্পদ।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার সম্পর্কে গত ৬ মে ভারতের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত অমিত বসুর গবেষণালব্ধ একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে স্থানান্তর হয়েছে ৪৯ হাজার ১৩ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে এই পরিমাণ হলো প্রায় ৩৮ লাখ কোটি টাকা। অর্থাত্ এদেশের গত ১০ বছরের বাজেটের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা। সিপিডি’র রিপোর্টে উল্লিখিত পাচার হওয়া টাকার পরিমাণের চেয়ে তা হলো ৮/৯ গুণ বেশি। আনন্দবাজার পত্রিকার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ইত্যাদি উন্নত ধনী দেশসহ ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া এই অর্থ ভোগ করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রফতানি খাতে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। আয়ের ৮০ শতাংশ নানা পথে বিদেশে চলে যাচ্ছে। কম দামে যন্ত্রপাতিসহ উত্পাদন সামগ্রী কিনে বেশি দাম দেখিয়ে হরহামেশাই অর্থ পাচার করা হচ্ছে। পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্টরা এরূপ পাচারের সাথে বেশি পরিমাণে জড়িত। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্য লুটপাটকারীদের অপ্রদর্শিত আয় (কালো টাকা) নানা পথে পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে।

গত ৯ মে তারিখে অপর একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ সম্পর্কে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হিসেবের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। পত্রিকাটির নিজস্ব তথ্যানুসন্ধান সূত্রে সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে— ধান্দাবাজ এমএলএম, ভুঁইফোড় হায় হায় কোম্পানি ও কিছু ভুয়া এনজিও গত এক দশকে আড়াই লাখ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। এর প্রায় সবটাই চলে গেছে বিদেশে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকার আরেকটি বড় অংশ গেছে শেয়ারবাজার থেকে। ১৯৯৬ সালের ধসের সময় পাচার হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ ধসে বিদেশে চলে গেছে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। অবৈধ ভিওআইপি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন চক্র লুটে নিয়ে প্রতিবছর পাচার করছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ ১০ বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারি লুটপাটের প্রতীক হয়ে রয়েছে। এ ধরনের শুধু তিনটি ব্যবসায়ী গ্রুপই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে লুটে নিয়েছে ১২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। এর থেকে আরো অনেক বেশি হলো বেসরকারি ব্যাংক থেকে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ। তাছাড়া বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, অর্থাত্ দশ বছরে ২ লাখ কোটি টাকা, হুণ্ডির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। লুটপাটের এসব তথ্যের কোনো শেষ নেই।

এতো গেল শুধু অর্থ পাচারের কথা। দেশের সম্পদ পাচার হচ্ছে আরো নানাভাবে। দেশ ক্রমাগত ফতুর হচ্ছে। এভাবে চললে দেশ আগাবে কি করে? তার মাঝেই সাধারণ মানুষ বেঁচে-বর্তে আছে কোনো রকমে। যদিও মুষ্টিমেয় পাচারকারীরা কপাল খুলে বিস্ময়কর সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছে। তাই, দেশের অর্থ-সম্পদ পাচার হওয়ার অর্থ হলো, একদিকে দেশ ফতুর হওয়া, অন্যদিকে সমাজে শোষণ ও শ্রেণি বৈষম্য বৃদ্ধি পাওয়া।

দেশের অর্থনীতি এখন বহুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের লুটেরা চক্রের সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে। লুটপাটের প্রক্রিয়া শুধু অব্যাহতই থাকছে না, দিন দিন তার পরিমাণ স্ফীত হচ্ছে। লুটেরা চক্রগুলোকে নিবৃত্ত করার মতো কোনো শক্তি যেন না থাকে সেজন্য তারা চলতি রাজনীতির প্রভাবশালী কর্ণধার, প্রশাসন ও সমাজের ওপর মহলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে সৃষ্টি হয়েছে লুটেরাদের শক্তিশালী চক্রব্যূহ। অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনীতি, মিডিয়া জগত্, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রশাসন ইত্যাদিসহ সরকার, রাষ্ট্র ও সমাজের সবকিছুরই চালকের স্থায়ী আসন আজ দখল করে আছে সেই শক্তি। তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ‘সিস্টেমের’ ভেতর থেকে এই অশুভ চক্রব্যূহ ছিন্ন করা যাবে না। জাগ্রত জনতার সচেতন প্রতিরোধের দ্বারা গড়ে ওঠা বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থান ব্যতীত তাদেরকে রুখবার মতো আর কোনো শক্তি এখন নেই। সেরূপ একটি গণবিপ্লবের পথে এগিয়ে যাওয়াই এখন প্রধান কর্তব্য। অন্যথায় ‘দেশের সম্পদ দেশে রাখা’ যাবে না।

n লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)


 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন