আমরা শান্তি চাই
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
আমরা শান্তি চাই
যেহেতু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মূলোত্পাটন করা এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি, সেহেতু এ প্রসঙ্গে আরো বেশি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

সরকার ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও যথাসাধ্য কৌশল অবলম্বন করছেন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও কাজ করছেন। দেশের তিন লাখ মসজিদে ওলামা-মাশায়েখগণ শান্তির সপক্ষে এবং সন্ত্রাসের বিপরীতে ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করছেন। আমরা সেগুলোর সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। আমাদের বিবেচনায় নীচের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে সন্ত্রাস দমন সম্ভব হবে বলে আমরা দৃঢ় আস্থা পোষণ করছি।

১. জনগণ আশা করে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো রাজনীতি না করে দেশের অর্থনীতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সার্বিক অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলো দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে একাত্তরের সাহসের মতো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করবেন। ২. এ মুহূর্তে আমাদের যা করণীয় তা হচ্ছে জনগণের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলা। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই ঐক্য গড়ে তুলতে জনগণ বদ্ধপরিকর। ৩. কারা এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা, কী তাদের পরিচয়, কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিচালক, অর্থ জোগানদাতা, কী তাদের উদ্দেশ্য, এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা একান্ত অপরিহার্য। অন্যথায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মূলোত্পাটন করা অসম্ভব। ৪. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা যেমন প্রয়োজন, মুসলিম জঙ্গিবাদ দমনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, মুসলিম অধ্যুষিত এবং ইসলামী শাসনে পরিচালিত দেশগুলোর সহযোগিতা তেমনই প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে এদেশের বিপ্লবী জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই যথেষ্ট বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ৫. সরকার সাম্প্রতিককালে ‘ভাড়াটিয়া নিবন্ধন’ ফরম পূরণ করে এক কপি থানায় জমা দেওয়ার জন্য এবং এক কপি নিজের নিকট সংরক্ষণ করার নির্দেশ জারি করেছে। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে পালন করা হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে সহজসাধ্য হবে। কিন্তু অনেক বাড়ির মালিকই যথাযথভাবে এই সরকারি আদেশ পালনের পরিবর্তে রীতিমতো অগ্রাহ্য করে চলেছেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এই আদেশের শতভাগ বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক বলে আমরা মনে করি। ৬. জনমনে ভীতির সঞ্চার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মূল লক্ষ্য। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অধিকতর সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে— যাতে কোনো নিরীহ মানুষ কোনো অবস্থাতেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হন। ৭. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হলে অবশ্যই বস্তিবাসী ও মেসের সদস্যগণের তালিকা প্রস্তুত করে নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। ৮. একাত্তরে  দেশের ৯৭ ভাগ মানুষই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সারা দেশ ছিল এক বৃহত্ পরিবারের মতো। প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা দেশের যে কোনো প্রান্তেই বিচরণ করেছেন— সেখানেই তারা মমতাময়ী মায়ের স্নেহ পেয়েছেন। বর্তমানে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন— তারা প্রথমেই বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন নিজের পরিবার থেকে। অতএব এরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিপরীত স্রোতধারায় বহমান জঙ্গি। অতএব এদের পরাজয় এবং ধ্বংস অনিবার্য। ৯. আমরা দেখতে পাচ্ছি, আবার জেগে উঠেছে বাংলার মানুষ। প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি এ দেশের কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুর, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। আমরা আশা করি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগই পাবে না। ১০. দেশের প্রায় দিন লাখ মসজিদে সন্ত্রাসবিরোধী বক্তৃতা হচ্ছে। আমরা আশা করি, ইসলাম সম্পর্কে কোনো ভুল ব্যাখ্যা এ দেশের মানুষ কিছুতেই গ্রহণ করবে না। আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলিম স্কলারদের আহ্বান জানাতে চাই— আপনারা কোরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে ইসলামের শান্তির বাণী বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরুন। তা হলে ইসলাম সম্পর্কে সকল বিরূপ ধারণার অবসান ঘটবে নিঃসন্দেহে।  ১১. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্কলারগণ অনুরূপ গ্রন্থ সম্পাদনা এবং প্রকাশনার মাধ্যমে দেশের সকল প্রান্তে সন্ত্রাসের বিপরীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে পারেন। ১২. আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতের রেকর্ড বাজানো, প্রতিবছর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পালন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশাত্মবোধক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন- দেশপ্রেমিক ছাত্রশক্তিকে উজ্জীবিত ও সুসংহত করতে পারে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলোকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ১৩. মা-বাবা-অভিভাবকদের কর্তব্য হবে নিজেদের সন্তানগণের প্রতি অধিকতর মনোযোগী হওয়া। তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি নজরদারি বাড়ানো এবং সর্বোপরি তাদের সাথে নিয়মিত মত বিনিময় করা।

আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা সর্বজনীন শান্তি ও নিরাপত্তা চাই। আমরা সত্যি জানি না, কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা আমাদের কোমলমতি সন্তানদের বিভ্রান্ত করছেন। আমরা আশা করি তারা সকলেই উপলব্ধি করছেন— প্রচলিত নিয়মিত নীতির বিরুদ্ধে নতুন মতবাদ উপস্থাপন করলেই কিংবা ইসলামের নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করালেই মানুষ সে মতবাদ গ্রহণ করবে না।

আমরা অনুরোধ করব আপনারা সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ নয়, শান্তির পথে ফিরে আসুন। নিজের ক্ষতি করা থেকে, দেশ ও জনগণের ক্ষতি করা থেকে এবং বিশ্বের ক্ষতি করা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখুন। তা হলেই শুধু আপনার নিজের, আপনার দেশ ও জাতির এবং সর্বোপরি এই গ্রহের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।

n লেখক :গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন