স্মরণ
নীলিমা ইব্রাহিমের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য
মালেকা বেগম১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
নীলিমা ইব্রাহিমের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য
১৯২১-এর ১১ অক্টোবর নীলিমা ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন। প্রয়াত নীলিমা আপার ৯৬তম জন্মদিন স্মরণে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা।

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এম.এ পর্বের পড়া শেষ করে (১৯৬৬ সালে) ১৯৬৭ সালে ভর্তি হই সমাজবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বার মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষার্থী হিসেবে; তখন তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি নীলিমা ইব্রাহিম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে স্বপ্রতিষ্ঠিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। নানা কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অফিসে যাওয়া-আসার সূত্রে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁর সঙ্গে অন্তরঙ্গ-সমীহপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নারী আন্দোলনের ঐতিহ্যপূর্ণ সংগ্রামী কর্মকাণ্ডের পথযাত্রায়।

নীলিমা আপা ছিলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা সমিতি’র সভানেত্রী। আমি তখন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। কবি সুফিয়া কামাল আমাদের সংগঠনের সভানেত্রী ছিলেন। বিভিন্ন ইস্যুতে, নারী আন্দোলনের এই দুই সংগঠন সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি নেওয়া ও উদযাপন করার পরিকল্পনা কার্যকরি করতে পারতাম।

‘মহিলা সমিতি’কে তখন আওয়ামী লীগের মহিলা সংগঠন ও ‘মহিলা পরিষদ’কে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মহিলা সংগঠন বলে অনেকেই ভাবতেন। কিন্তু নীলিমা ইব্রাহিম আপা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন না বা অক্ষরে অক্ষরে আওয়ামী লীগের মতাদর্শে ‘মহিলা সমিতি’ পরিচালনাও করতেন না। অন্যদিকে সুফিয়া কামাল খালাম্মা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন না বা কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ম-নির্দেশ অনুসরণে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পরিচালিত হতো না। উভয়েই বাংলাদেশের নারী আন্দোলন পরিচালনা করতেন জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে।

আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছিল এঁদের স্নেহ-প্রীতি ভালোবাসার স্নেহডোরে থেকে নারী আন্দোলনের দীক্ষা পেয়েছি। তাঁরা নিজ নিজ সংগঠনের কর্মসূচি পালনের সময় বৃহত্তর নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন।

নীলিমা আপাকে আমি জেনেছি সাহিত্য সাধনার নানা পথপরিক্রমায়। জেনেছি তিনি বহুবিধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কাজগুলো সুসম্পন্ন করতে গিয়ে বহু বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সারা জীবনের স্মৃতিকথা লিখে গেছেন আপা। বিন্দু বিসর্গ শিরোনামে বইটি প্রকাশ করেছিল ‘সাহিত্য বিলাস’ ১৯৯১ সালে। পুরো জীবনের ইতিহাস পড়ে তাঁকে জেনেছি আরো গভীরভাবে। তাঁর বিশ্লেষণ, ভাবনা, সিদ্ধান্ত, স্নেহ, ভালোবাসা, কর্মজীবন, সাহিত্য ও জ্ঞান সাধনা জানা যায় এই বইটি পড়ে।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো: প্রবন্ধ গবেষণা—শরত্ প্রতিভা (১৯৬০), অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি (১৯৯৫), আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রথম খণ্ড-১৯৯৬, দ্বিতীয় খণ্ড- ১৯৯৭), বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব (১৯৯৬)। গল্প— রমনা পার্কে (১৯৬৪)। উপন্যাস— বিশ শতকের মেয়ে (১৯৫৮)। নাটক— দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪)। অনুবাদ— এলিনর রুজভেল্ট (১৯৫৫), কথাশিল্পী জেমস ফেনিমোর কুপার (১৯৬৮)। ভ্রমণকাহিনী— শাহি এলাকার পথে পথে (১৯৬৩)। আত্মজীবনী— বিন্দু বিসর্গ (১৯৯১) ইত্যাদি। পুরস্কার— বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), জয়বাংলা পুরস্কার, ভারত (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬), বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬)।

বহু উত্থান-পতন, বহু কৃতিত্ব, বহু অর্জন নীলিমা আপার জীবনকে সার্থক করেছে। তাঁর সন্তান স্নেহ, স্বামীর ভালোবাসা পূর্ণ জীবন আলেখ্য থেকে তাঁকে চেনা যায় নতুন নারী ও ব্যক্তি রূপে।

তাঁর জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালিত হবে ১৪ অক্টোবর ‘মহিলা সমিতি’ মঞ্চে। তাঁর পিএইচডি সন্দর্ভ রচিত হয়েছিল উনিশ শতকের নাটক বিষয়ে। সেই কথা মনে রেখে মহিলা সমিতির মঞ্চে নাটক বিশারদ রামেন্দু মজুমদার আলোচনা করবেন।

তাঁর জন্মদিনে জানাচ্ছি আবারো শ্রদ্ধা।

n লেখক :নারী নেত্রী

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন