তামাক্কথা
 ইকবাল খন্দকার ৩১ মে, ২০১৫ ইং
তামাক্কথা
 

পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে, তাই পুরোনো কৌতুক বলা যেতেই পারে। এক ধূমপায়ী বেশ ভাবগাম্ভীর্যের সহিত তার বউকে বলল, ‘টিভিতে দেখলাম তামাকের উপর বেশ দীর্ঘ একটা প্রতিবেদন দেখাল। তামাক খেলে কী কী ক্ষতি হয়, তামাক খেলে কেন মানুষের মৃত্যু হয় ইত্যাদি বিষয় ছিল প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে তামাক আসলেই খুব খারাপ জিনিস।’ বউ বলল, ‘শুধু মনে হলেই তো হবে না। তামাকের ব্যাপারে তোমাকে একটা সিদ্ধান্তে পৌছাতে হবে।’ ধূমপায়ী লোকটা বলল, ‘সিদ্ধান্ত আমি নিয়ে ফেলেছি।’ বউ সাগ্রহে জানতে চাইল, ‘কী সিদ্ধান্ত নিয়েছ?’ লোকটা সাবলীলভাবে বলল, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি ছেড়ে দেব।’ বউ অত্যন্ত খুশি হয়ে বলল, ‘খুবই ভালো, খুবই ভালো। একটু দেরিতে হলেও সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তুমি নিয়েছ, এই জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’ লোকটা বলল, ‘তুমি ভুল করছ বউ। আমি সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি। আমি বরং টিভি দেখা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে টিভিতে তামাকবিরোধী প্রতিবেদন দেখায়, সেই টিভি কি দেখা উচিত, তুমিই বলো!’

পাঠক, এই হলো অবস্থা। যারা তামাকজাত পণ্য কেনে, খায়, তারা দুনিয়ার সব ছাড়তে পারে, কিন্তু তামাক ছাড়তে পারে না। আবার কেউই ছাড়তে পারে না, এমনটা বলাও ঠিক হবে না। কারণ অনেকেই কিন্তু সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। যদি নাই ছাড়ত, তাহলে প্রতিবছর তামাকমুক্ত দিবস কাদের নিয়ে পালিত হয়? কাদের উদ্দেশে পালিত হয়? আমার এক বড় ভাই কয়েক মাস হলো বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে তার সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতাম প্রায়ই। কিন্তু বিয়ের পর তাকে আর সেভাবে পাওয়াও যাচ্ছিল না, তাই আড্ডা দেওয়াও হচ্ছিল না। অনেকদিন পর তাকে পেয়ে প্রথমেই কোলাকুলিটা সেরে নিলাম। তারপর বললাম, ‘ভাই চলেন বসে আড্ডা দিই।’ বড় ভাই আমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলেন। দুই ভাই বসলাম আড্ডা দেওয়ার জন্যে। আমার জানামতে ভাই চেইন স্মোকার। যে কারণে তার সঙ্গে সবসময়ই দেশলাই থাকে। কিন্তু সেদিন প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে আড্ডা চলার পরও যখন দেখলাম তিনি সিগারেট ধরাচ্ছেন না, তখন জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী ভাই, সিগারেট ছেড়ে দিলেন নাকি?’ বড় ভাই বললেন, ‘অনেকটা সেরকমই। শুধু সেরকম না, আসলেই সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি। আসলে বিয়ে করার পর বাসায় আর সিগারেট খাওয়ার সেই পরিবেশ নেই তো, তাই আস্তে আস্তে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ আমি হেসে বললাম, ‘বুঝতে পেরেছি, ভাবি খুবই ভদ্র ফ্যামিলির মেয়ে। তাই তিনি কোনোভাবেই চান না আপনি বাসায় সিগারেট খান। কি, ঠিক বললাম না?’ বড় ভাই বললেন, ‘অবশ্যই ঠিক বলিসনি। তোর ভাবি ভদ্র ফ্যামিলির মেয়ে, সে সিগারেট অপছন্দ করে, এই জন্য আমি ছেড়ে দিয়েছি, এগুলো কোনো কথাই না। আসল কথা হচ্ছে, সে সাংঘাতিক ধরনের জাঁদরেল। তাই আমি সিগারেট ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ আমি বললাম, ‘এইবার বুঝতে পেরেছি, ভাবি হয়তো তোমাকে সিগারেট খেতে দেখলে লাঠি নিয়ে তেড়ে যায় মারার জন্য। তাই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।’ বড় ভাই বললেন, ‘তোর কোনো অনুমানই সঠিক না। অতএব অনুমান করা বাদ দিয়ে আমার কথা শোন। তোর ভাবি কিছু একটা হলেই রেগে যায়। এতই রেগে যায় যে, পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলে। এসময় সে চিত্কার চেঁচামেচি করে কী বলতে থাকে জানিস? বলতে থাকে সংসারে নাকি আগুন লাগিয়ে দেবে। তার এই কথাটা শুনেই আমার ভয় লাগে, তাই আমি বাড়িতে দেশলাই-ই নিতে চাই না। কারণ দেশলাই থাকাটা রিস্কি। যেকোনো সময় কাঠি খুলে ঘষা দিয়ে....। এভাবে দেশলাইয়ের অভাবে ভুগতে ভুগতে একদিন সিগারেট খাওয়াই ভুলে গেলাম।’ বড় ভাইয়ের কথা শেষ হওয়ার পর আমি দশ সেকেন্ডের একটা বিরতি নিলাম। তারপর অতি উল্লাসের সহিত বললাম, ‘বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে যেন আপনার বউয়ের মতো ভাবি আসে। তাহলে সব বেটা সিগারেট ছাড়তে বাধ্য হবে। আমরা প্রতিদিনই তামাকমুক্ত দিবস পালন করতে পারব।’

আমার এক চাচাকে আমি জীবনে কোনোদিন গোঁফ রাখতে দেখিনি। এখন তার বয়স সত্তরের কাছাকাছি। কদিন আগে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বয়স তো অনেক হলো। এখনো কি গোঁফটা রাখা যায় না? এত বয়স্ক একটা মানুষের মুখ গোঁফবিহীন থাকলে কেমন লাগে না?’ চাচা বললেন, ‘গোঁফ যে রাখব, যতদিন না বদভ্যাসটা ছাড়তে পারছি, ততদিন গোঁফ রাখি কী করে বল।’ আমি বললাম, ‘কিসের বদভ্যাস বলেন তো?’ চাচা বললেন, ‘এই যে বিড়ি ভাই!’ আমি বললাম, ‘বিড়ি খাওয়া তো অবশ্যই ছাড়তে হবে। কিন্তু এই বিড়ি খাওয়া না খাওয়ার সঙ্গে গোঁফ রাখা না রাখার সম্পর্ক কি বলেন তো?’ চাচা বললেন, ‘সম্পর্ক তো অবশ্যই আছে। গোঁফ রাখা অবস্থায় বিড়ি খেলে দেশলাইয়ের কাঠির আগুন থেকে বিড়ি ধরানোর সময় আগুন লেগে গোঁফ পুড়ে যায়। তখন এই আঁকাবাঁকা গোঁফ সোজা করার জন্যে ছুটতে হয় নাপিতের দোকানে। বাড়তি খরচ।’

পরিশেষে কথা হচ্ছে, যে যেভাবেই বলুক না কেন, ধূমপান করা কিন্তু আসলেই বাড়তি খরচের কাজ। রোজ একশ দুশ টাকা খরচ তো আছেই, ফুসফুসে ফুটো হয়ে গেলে আরও বড় অংকের খরচ। অতএব হুঁশিয়ার!

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন