ঢাকায় ফেলুদা
৩১ মে, ২০১৫ ইং
ঢাকায় ফেলুদা
 

আন্তর্জাতিক গাঁজাখুরি গল্পকার সম্মেলন চলছে ঢাকায়। লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু সেখানে আমন্ত্রিত। সাথে জুটেছি ফেলুদা আর আমি তোপসে। এয়ারপোর্টে নেমেই ফেলুদা বলল, ‘বুঝলি তোপসে আসল বাঙালিয়ানা, আতিথেয়তা পাবি এই বাংলায়। এখানে কেউ ‘দাদা খেয়ে এসেছেন না গিয়ে খাবেন’ জাতীয় ডায়ালগ দেয় না।’ জটায়ুর হাতব্যাগ ভর্তি তার গত পূজায় বের হওয়া বই ‘মেলবোর্নে ঝোল’। ঢাকার লেখক বন্ধুদের জন্য। হোটেলে আসার পথে জটায়ুর শখ হলো ফার্মগেট থেকে সস্তায় চাইনিজ মোবাইল কিনবেন। গাড়ি পার্ক করে আমরা তিনজন হাঁটছি। এক জিন্স প্যান্টওয়ালা ডাক দিল, ‘মামা একদাম পাঁচশ, দিমু নাকি?’ জটায়ু তো কিনে ফেলে প্রায়। পরে ফেলুদা লুঙ্গি পড়ে নিজের জন্য একটা ট্রায়াল দিল। হঠাত্ ভিড়ের মধ্যে কে যেন দিল ধাক্কা। ভয়ে আমার বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। আমার অবশ্য প্রায়ই বুক ‘ঢিপ’ করা, ‘ছ্যাঁত’ করার রোগ আছে। লোকটা জটায়ুর ব্যাগ নিয়ে দৌড় দিয়েছে। আমার সুপারম্যান ফেলুদা তখন লুঙ্গি পড়া। ধাওয়া করার প্রশ্নই আসে না। বিষণ্ন মনে আমরা হোটেলে এলাম। ‘বুঝলি তোপসে। আমি থাকতে এরকম কেলেঙ্কারির কোনো মানেই হয় না। আমি হয় চোরকে ধরব, না হয় গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেব।’ আমি মনে মনে ভাবলাম, ‘দাদা এটা ঢাকা। এত সহজ না।’ পরের দুইটা দিন মন খারাপ করে আমরা সম্মেলনে যোগ দিলাম। ফেলুদা এরমধ্যে জেনে ফেলেছে, ঢাকার প্রশাসনকে সিসি ক্যামেরার কথা জিজ্ঞেস করে ছিঃ ছিঃ শোনার কোনো মানে হয় না। ছিনতাইকারীরা সিন্ডিকেট করে অপকর্ম করে। কেউ কোনো তথ্য দেবে না। অতএব, জীবনে প্রথম পরাজয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আমরা ঢাকা ঘুরতে লাগলাম। সেদিন জটায়ুর শখ হলো, গুলিস্তানের রাস্তার ভেলপুরি খাবে। অগত্যা কাগজের ঠোঙ্গায় আমরাও নিলাম। হঠাত্ ফেলুদা বলল, ‘দেখি তোপসে, তোর ঠোঙ্গা।’ আমার এই দাদা প্রায়ই আমার খাবারে ভাগ বসায়। মন খারাপ করে দিলাম ঠোঙ্গা। ‘দেখুন জটায়ু, আপনার উপন্যাসের পৃষ্ঠা। এটা নীলক্ষেত মার্কা ফটোকপি প্রিন্ট না। মানে আপনার বয়ে আনা বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে ছিঁড়ে ঠোঙ্গা বানানো হয়েছে। এই পুরিওয়ালা। তুমি কোথায় এই কাগজ পেয়েছ?’
‘বাংলাবাজার থেকে সের দরে কিনছি।’
‘কোন দোকান থেকে, চিনিয়ে দিতে পারবে?’
‘পাত্তি ছাড়েন।’
এরপর বাংলাবাজার সেই দোকানে গেলাম। দোকানদার জানাল, সে বইগুলো এখন ঠোঙ্গা হয়ে সারা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার কাছে কত লোকই তো কাগজ বিক্রি করে। কয়জনের চেহারা মনে থাকে।
পরাজিত সৈনিক ফেলুদা বলল, ‘ভালোই হয়েছে। আপনার গাঁজাখুরি গল্প এদেশে কেউ পড়ত বলে মনে হয় না। বইগুলোর একটা গতি হলো।’ জটায়ু কটমট করে ফেলুদার দিকে তাকাল। তার আচরণ হাইলি

সাসপিসাস মনে হচ্ছে।
(বি.দ্র. সেই ভেলপুরি খেয়ে আমরা এখনো টাইফয়েডে ভুগছি।)

আহাদ আদনান, মাতুয়াইল, ঢাকা।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন