সত্য সুন্দরও...
সাইফুল ইসলাম জুয়েল৩১ মে, ২০১৫ ইং
সত্য সুন্দরও...
এই তো মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। মুঠোফোনে মিসডকলের মাধ্যমে অচেনা নম্বরে রায়হান নামের একটি ছেলের সাথে পরিচয় হয় আবিরের। কয়েকদিন পরে পরিচয় বন্ধুত্বে গড়ায়। রায়হানের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয় আবির। রায়হান তার আরেক বন্ধু জামসেদের সাথেও আবিরকে পরিচয় করিয়ে দেয়। আবিরের সাথে দু’জনারই একটি চমত্কার সম্পর্ক গড়ে ওঠে—বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আবিরকে তার মোবাইল বন্ধুরা প্রায়ই বেড়াতে যাওয়ার জন্য বলে। অনেকদিন পরে, একদিন সেই সুযোগ মিলে যায় তার। রায়হানরা ওকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার পরে একটি নির্জন ঘরে আটকে রাখে। আবিরের বউকে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে দু’ লক্ষ টাকা দাবি করে। আবিরের বউ রায়হানের মোবাইলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিশ হাজার টাকা পাঠায়। তারপর থেকেই তার নম্বর বন্ধ। ওদিকে আবিরকে ওরা তুলে দেয় আরেক গ্রুপের কাছে। তারা ওকে নিয়ে অন্যত্র পালানোর পথে ভাগ্যক্রমে আবির উদ্ধার পেয়ে যায়। পুলিশের একটি ভ্যান ছিল কাছাকাছি। তা দেখে ও চিত্কার করা মাত্রই ভয়ে ওর ‘নতুন’ অপহরণকারীরা পালাতে চেষ্টা করে।

আবির ফিরে আসে তার বাড়িতে। সে জানে—রায়হান কিংবা জামসেদ নামে আসলে কোনো ব্যক্তিই ছিল না। যারা ছিল তারা একদল কপট লম্পট। বন্ধুত্বের বেশ ধরে মানুষকে অপহরণ করা, মুক্তিপণ হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই যাদের উদ্দেশ্য। এদের কাছে বন্ধুত্বের মতো একটি অমূল্য সম্পর্কের কোনো দামই নেই...

বন্ধুত্ব কিংবা প্রেমের মাধ্যমে ছেলে কিংবা মেয়েদের এভাবে প্রতারণায় ফেলার বহু ঘটনা আমরা দেখেছি, শুনেছি। এদের কাছে প্রেম-ভালোবাসা নিছকই ফেলনা।

আবার, মাত্রই কয়েকদিন আগের ঘটনা। স্ত্রী দেহ ব্যবসা করতে রাজি না হওয়ায়, তাকে পিটিয়ে জখম করেছে লম্পট স্বামী। বিয়ে কত সুন্দর একটি সম্পর্ক। এই স্বামীর কাছে সেই সম্পর্কের যে কোনোই দাম নেই। যারা সম্পর্কের মূল্য বোঝে না, তাদের কাছে অবশ্য কোনো সম্পর্কই আশা করা যায় না। টাকাকে যারা ধ্যান-জ্ঞান করে, টাকার জন্য যারা পশু হয়ে যায়, তারাও তো একসময় কোনো না কোনো সম্পর্কের বাঁধনে থেকেই বড় হয়েছে। কিন্তু আফসোস, তাদের সে বোধোদয়টি নেই।

অনেক আগ থেকেই প্রচলিত, কৃষকরা মানুষের প্রকৃত বন্ধু। এটা প্রমাণিত সত্য। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা শস্য উত্পাদন করে। কিন্তু চিরকাল কৃষকদের হাহাকার শুনে আসছি আমরা। ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না তারা। গত কয়েক বছরেও অনেক ঘটনা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উত্পাদন মূল্যের চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে পণ্য। গুদামে থাকতে থাকতে পণ্যে পচন ধরেছে। তারপর বিষাক্ত ফরমালিনের প্রয়োগ, তাদের নাভিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিল। ফরমালিন দিয়ে বছরব্যাপী তরি-তরকারি বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা, অথচ কৃষকদের অবস্থা সেই আগের রূপেই থেকে যাচ্ছে। কতিপয় কৃষকই তখন বেশি লাভের আশায় ক্ষেত থেকেই ফরমালিন দেওয়া শুরু করলেন। গাছে থাকা অবস্থাতেই বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা শুরু করলেন। ফলে আমজনতা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে লাগলেন।

কিছুদিন আগে এত খারাপের মাঝেও একটা ভালো খবর প্রকাশ পেল। রাজশাহীর কয়েকটা উপজেলার কৃষকরা প্রতিজ্ঞা করেছেন—তারা আম বা এই জাতীয় ফলে কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। ভোক্তাদের হাতে বিশুদ্ধ আম তুলে দেবেন। কেউ কীটনাশক দিলে তাকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেবেন। খবরটা শুনে যে কারোরই হূদয় জুড়িয়ে যাওয়ার কথা। এমন খবরই তো আমরা শুনতে চাই। এমন মানুষই তো আমরা আমাদের চারপাশে দেখতে চাই। আমাদের সমাজটা হবে এমন সব সত্য দিয়ে ঘেরা। সত্য অনেক সুন্দর। সত্য শুনতে কার না ভালো লাগে। সত্য সম্পর্ক, সত্য কর্ম, সত্য মানুষ। আমরা চাই ,সবাইকে নিয়ে একটি সত্য সুন্দর সমাজ—সত্য সুন্দর জীবন।


 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন