সিএনজি চালকদিগের বাহারি সেবা
২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
সিএনজি চালকদিগের বাহারি সেবা
ইকবাল খন্দকার

 

আমার এক প্রতিবেশী কানে একটু কম শোনেন। কেউ যদি ‘মাথা’ বলে, তিনি শোনেন ‘ছাতা’। কখনো কখনো ‘কাঁথা’ও শুনে বসেন।       তার সঙ্গে গতকাল যখন কথা হচ্ছিল, তিনি বেশ দুশ্চিন্তার সহিত বলে উঠলেন, ‘একটা বিষয় কোনোভাবেই আমার মাথায় ঢুকছে না। এটা কীভাবে সম্ভব? সম্ভব হওয়ার তো কোনো কারণই দেখি না। নাকি মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার নতুন কোনো সিস্টেম চালু করেছে!’

আমি বললাম, ‘এভাবে আধ্যাত্মিক কথাবার্তা বলতে থাকলে সারাজীবনেও মূল জিনিস জানা হবে না। এর চেয়ে ভালো হয় এসব কথা বাদ দিয়ে কী বলতে চান, সেটা সরাসরি বলে ফেললে।’

প্রতিবেশী বললেন, ‘শুনলাম সিএনজি চালকেরা নাকি লেপের মাধ্যমে সেবা দিবে। এটা কীভাবে সম্ভব? সিএনজিতে এত জায়গা কোথায় যে, লেপ নিয়ে ঘুরবে? আর লেপ নিয়ে যদি না-ই ঘুরতে পারে, মানে সিএনজিতে যদি লেপ না-ই থাকে, তাহলে লেপের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কথা যে বলছে, এটা কীভাবে?’

প্রতিবেশীর কথা শুনে আমি ঝাড়া দুই মিনিট হাসলাম। হাসির ধকল যখন একটু কমে এলো তখন বললাম, ‘ভাইজান, আপনি কানে একটু কম শোনেন তো, তাই হালকা সমস্যা হয়ে গেছে। সিএনজি চালকেরা লেপের মাধ্যমে সেবা দেবে না। সেবা দেবে অ্যাপের মাধ্যমে। কোথায় অ্যাপ আর কোথায় লেপ। কোথায় গোলাপ শাহ, আর কোথায় মাকড়সা।’

পাঠক, আমার প্রতিবেশী যতই উল্টাপাল্টা তথ্য দিক, এটাই কিন্তু সত্য যে, সিএনজি চালকেরা এখন থেকে অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দেবে। এটা যাত্রীদের জন্য আনন্দের খবর হলেও কারো কারো মনে কিন্তু এরমধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। তেমনই এক পাবলিক আমার এক বড়ভাই। তিনি বললেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দিলে যাত্রীদের আর বাসায় পৌঁছাতে হবে না। সারাদিন রাস্তায়ই কাটাতে হবে।’

আমি বললাম, ‘এটা কী ধরনের কথা। সিএনজিওয়ালারা অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দিলে যাত্রীদের জন্য সেটা বাড়তি সুবিধা হওয়ার কথা। অথচ আপনি বলছেন যাত্রীদের নাকি বাসায়ই পৌঁছাতে হবে না। সারাদিন রাস্তায় থাকতে হবে। আপনার কথার মাজেজা যদি একটু পরিষ্কার করেন।’

বড়ভাই পরিষ্কার করলেন, ‘পুলিশ সিএনজি চালকদেরকে এত সান্টিং দেয়, তবু তারা মিটারে যেতে চায় না। কী বলে? বলে মিটার নষ্ট। যাদের মিটার নষ্ট থাকতে পারে, তাদের অ্যাপের অবস্থা যে কেমন থাকবে, এটা তো খুব সহজেই বোঝা যায়। যাত্রীদেরকে বলবে, অ্যাপ তো একটু প্রোবলেম করতেছে, আপনারা একটু বসেন, মেরামত কইরা লইয়া আহি। ব্যস, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাবার।’

আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এই যে সিএনজি চালকেরা অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে তোর মতামত কী? মানে তুই কি খুশি? নাকি তোর কোনো আপত্তি আছে?’

বন্ধু বলল, ‘আপত্তি-বিপত্তি কিছুই নেই, তবে একটা অনুরোধ আছে।’

আমি বললাম, ‘কী অনুরোধ, ঠাস করে বলে ফেল।’

বন্ধু বলল, ‘অনুরোধটা সিএনজি চালকদের কাছে। তাদের কাছে সবিনয় মিনতি, অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দেন বা না দেন, দয়া করে চার্জারের মাধ্যমে একটু সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’

আমি বললাম, ‘চার্জারের মাধ্যমে সেবা! এটা আবার কী ধরনের সেবা?’

বন্ধু বলল, ‘সিএনজিতে ওঠার পর দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থাকলে বেশিরভাগ সময়ই মোবাইলে চার্জ থাকে না। এসময় সিএনজি চালকেরা যদি একটু চার্জের ব্যবস্থা করে দেয়। মানে আমার অ্যাপ দরকার নেই। দরকার চিকন পিনের চার্জার!’

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন