এক বছরে গ্র্যাজুয়েট!
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার কথা শুনে গ্রামে নাকি হইচই পড়ে গিয়েছিল। গ্রামের অনেকে নাকি বাড়িতে হাজির হয়েছিল আমাকে দেখার জন্য। যাই হোক, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বছর পরের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চলছিল তখন। পুরো ক্যাম্পাস কালোতে ছেয়ে গেল। খুব লোভনীয় পোশাক। জিভে পানি এসে গেল। উত্তেজনা চেপে রাখতে পারলাম না। শেষমেশ গায়ে জড়িয়েই নিলাম। বন্ধুরা তুলে দিল ছবি। ভালো দেখা যাচ্ছিল ছবিটা, তাই সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে পোস্ট করলাম। ফ্রেন্ডলিস্টে গ্রামের অনেকে ছিল। তারা আমাকে এই পোশাকে দেখে অবাক হলো। গ্রাম দিয়ে আওড়াতে শুরু করল—আমাদের মাসুম অ্যাডভোকেট হয়ে গেছে। এরমধ্যে কীভাবে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় ভালোভাবে চলা যায়—অনেকে এই ফন্দি এঁটে ফেলল।

অন্যদিকে আমার চতুর দুলাভাই এলাকার কয়েকজন মেয়ের বাবাকে বলল—সোনায় সোহাগা একটা ছেলে আছে, হাতছাড়া কইরেন না! এমন ছেলে ইদানীং পাওয়া যায় না। অনেকে মনে মনে আমাকে জামাই সাজে সাজিয়ে রাখল। এক বছরের মাথায়ই তারা আমাকে গ্র্যাজুয়েট বানিয়ে ফেলল! আর এত সব ঘটনার আমি কিন্তু কিচ্ছু জানতাম না।

একদিন বাড়িতে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি এক মুরব্বি। উনি নাকি আমাকে দেখতে এসেছেন। মুরব্বি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন—এই তোমাদের অ্যাডভোকেট ছেলে! নাক চাপলে এখনো দুধ বের হবে দেখছি।

আমি তো শুনে ‘থ’ বনে গেলাম।

মাসুম সরকার আলভী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন