বড়োই লজ্জা লাগে
আবু বকর সিদ্দিক২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
ধানের দেশ বাংলাদেশ, গানের দেশ বাংলাদেশ। আগে এ দেশের মানুষ গান গেয়ে ধান কাটত, মাঝি-মাল্লারা দূরে কোথাও যেতে ভাটিয়ালি গাইত। জারি, সারি, মুর্শিদি সবার মুখে মুখে ফিরত। লালনের গানের আধ্যাত্মিক মহিমায় আবিষ্ট ছিল গ্রামীণ সমাজ। তখন সন্ধ্যা নামলেই বাড়ি বাড়ি গানের আসর, নাটক, যাত্রা, গাজীর গান ইত্যাদির মহড়া চলত। হিন্দু সমাজে পূজা-অর্চনার মাধ্যমেই তো সংগীতাচার হতো। চলত নামযজ্ঞের মাধ্যমে কৃষ্ণলীলার মাহাত্ম্য উপস্থাপন। বস্তুতপক্ষে গ্রামীণ সমাজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতির কারণে ধর্মান্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাংস্কৃতিক চেতনা লোপ পাওয়ায় মানুষের মধ্যে অপসংস্কৃতি বাসা বেঁধেছে। আমাদের পবিত্র ধর্মে যেখানে হত্যাকে বলা হয়েছে পাপ আর আত্মহত্যাকে মহাপাপ; সেখানে প্রকৃত ধার্মিক কখনো আত্মঘাতী জঙ্গি হতে পারে না। আল্লাহ পৃথিবীতে শুধু মানুষই পাঠান নাই, জীবজগতে হাজার হাজার প্রাণের জন্ম দিয়েছেন। অগণিত প্রজাতি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তা তাঁকে নীরব এবাদতের মাধ্যমে স্মরণ করতে বললেও মানুষই একমাত্র প্রাণী যে সরব প্রার্থনা করে তাঁর নৈকট্য লাভে মরিয়া। আজ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের এত উত্কর্ষের পরেও যখন বিশ্বব্যাপী ধর্ম ও জাতিভেদের কারণে মনুষে মানুষে হানাহানি চলতে দেখি তখন মনুষ্য সমাজের একজন ভাবতে নিজেকে বড়োই লজ্জা লাগে।

বিশ্বব্যাপী উত্থিত ঢেউ বাংলাদেশেও লেগেছে। আমরা সকলেই এর অবসান চাই: আর এ কারণেই আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ খেলাধূলার পুনর্জাগরণ প্রয়োজন। ধর্মীয় গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তার কথা বলে আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির মূল আকর্ষণ যাত্রাপালাকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে, তার অবসান ঘটাতে হবে। সকল নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনি সকল মানুষের মনন ও চেতনা বিকাশে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করার দায়িত্বও সরকারের। আর মনকে পরিশুদ্ধ করতে পারলে অশ্লীলতা, কূপমণ্ডকতা, সংকীর্ণতা ও ধর্মান্ধতা সবকিছুই দূর হয়ে যাবে অবলীলায়।

ঝিনাইদহ

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন