বাবা-মা কি ভেবেছেন
বাবা-মা কি ভেবেছেন
আজকের শিশুই একদিন জাতির উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আলো দেবে। কিন্তু এই শিশুদের বেড়ে ওঠার যথাযথ পরিবেশ কি আমরা দিচ্ছি? একটি শিশু বড় হয়ে কী হবে তা নির্ভর করে শিশু কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে। পরিবেশ হচ্ছে শিশু-কিশোরদের প্রথম শিক্ষক।

বর্তমান সময়ের শিশুরা বেশ আধুনিক হবে। অনেক কিছু জানবে তারা। জানবে না কেন? বয়সের চেয়ে বড় মোবাইল ফোন, কথা বলার চেয়ে অধিক মেগাবাইট খরচ বহনে তারা সক্ষম। দুষ্টুমির জন্য পাশের বাড়ির চাচির নালিশ শুনতে হয় না তাদের বাবা-মাকে। কারণ তারা সময়ই পায় না দুষ্টুমি করার। সারাক্ষণ স্কুল, কোচিং তারপর ইন্টারনেট সব মিলিয়ে আজকের শিশুদের সৃজনশীল ভাবনার কোনো সময় নেই। খুব ভোরে শিশু জাগবে, বিকেল হলে খেলতে যাবে—এই রকম পরিবেশ  আর ফিরে আসবে কি না সন্দেহ। তাই তো তাদের যথাযথ মেধা বিকাশ হচ্ছে না। তাদের মুখে নেই মায়াকাড়া হাসি। মানুষের সঙ্গে, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তারা ব্যর্থ। কোনটি ঠিক কোনটি ভুল তারা পরিমাপ করতে পারে না। তাই আমাদের সঠিক পরিবেশ তাদেরকে সৃষ্টি করে দিতে হবে—যে পরিবেশে কোচিং দূষণ থাকবে না। এই কোচিং আজ প্রতিটি শিশুর খেলার সময়, বিনোদনের সময়কে টেনেহেঁচড়ে নিয়ে গেছে।

কোনো শিশুই বিনোদন ছাড়া থাকতে পারে না। তার অবুঝ মন খেলতে চায়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চায়। কিন্তু সেই বিনোদনের অধিকার কি আমরা তাদের  দিচ্ছি? খেলার বাহানা করলে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার কথা বললে কম্পিউটারে গেইম ওপেন করে দেওয়া হয় তাদের। কারণ একটাই—বন্ধুদের সঙ্গে মেশা ঠিক নয়, পড়ালেখায় যে মারাত্মক ক্ষতি হবে। তাই আজকের শিশু অরুণরাঙা প্রভাত চেনে না, দেখে না আবীররাঙা সন্ধ্যাকাশ, রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিন, নক্ষত্রখচিত নভোমণ্ডল।

কিন্তু বাবা-মা কি একটিবার চিন্তা করেছেন শিশুর হাতে কী ধরিয়ে দিয়েছেন? শিশুর হাতে মাউস ধরিয়ে দেননি দিয়েছেন ‘রিমোট’। কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে দেননি দিয়েছেন নেশার সামগ্রী। কারণ এই শিশুই আস্তে আস্তে কম্পিউটার গেইমের প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে। ধ্বংসযজ্ঞের গেইম খেলে বিকৃত মন-মানসিকতা তৈরি হবে। এই শিশু-কিশোররা পিস্তলের গোলাগুলিতে ভয় পাবে না। তাদের মন-মগজে গোলাগ্ুলির শব্দ মোবাইল ফোনের রিংটোনের মতো হয়ে যাবে। তাই শিশু-কিশোরদের কম্পিউটার গেইম নয় বাস্তব খেলার সুযোগ দিতে হবে। এমনকি ধাক্কা দিয়ে খেলার মাঠে পাঠিয়ে দিতে হবে।এই খেলার মাঠের শিশুটি একদিন হয় ক্রিকেটার মুশফিক হবে না হয় ড. ইউনূস হবে। আমরা তো চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এমন বিশ্ববিখ্যাত মানুষের কাতারে থাকবে।

মৌলভীবাজার

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন