প্রয়োজন সদিচ্ছা
রিফাত মুনীর ইতি২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
 

ব্যস্ত নগরী ঢাকা, প্রতিদিনই যার দূষণের শিকার এর অধিবাসীরা। যানজট, কলকারখানার ধোঁয়া, উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে দূষণ, দুর্বিষহ করে তুলেছে জনজীবন। আশার কথা, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ, শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই এত কার্বন নিঃসরণ, এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য, এত রাসায়নিক ও ক্ষতিকর গ্যাসের ব্যবহার কমানো শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্ভব নয়। এজন্য অবশ্যই নগরের অধিবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে।

আমাদের প্রতিদিনের গৃহস্থালি বর্জ্য আমরা যথাস্থানে ফেলার অভ্যাস করেই মোটামুটি কমিয়ে আনতে পারি প্রায় অর্ধেক দূষণ। কারণ যত্রতত্র ময়লা ফেলার চেষ্টা শুধু পরিবেশদূষণ করে না বরং এটি বন্ধ করে দেয় পয়ঃনিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা মারাত্মকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি স্বরূপ। এছাড়া ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এলাকাভিত্তিক পরিষ্কার অভিযানে সহায়তা করা একজন নাগরিক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব, যা আমরা অধিকাংশ সময়ই উপেক্ষা করি, করে আসছি। এলাকায় ডাস্টবিনের সরবরাহ যথেষ্ট কি না, এর ব্যবহার যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, এগুলো পরিচ্ছন্ন ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না ইত্যাদি দেখা যেমন আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, তেমনি রাস্তার পাশের নর্দমা, খাল কিংবা অন্যান্য পরিত্যক্ত জলাশয় পরিষ্কার করা, এগুলোর প্রতি যত্নবান হতে এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বুদ্ধ করাও।

আবার ঢাকার রাস্তার পাশে খোলা পানির পাইপ কিংবা বিদ্যুতের অব্যবহূত তার শুধু অপচয় নয়, তা পরিবেশদূষণের পাশাপাশি শিশুদের নানান দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী, যা আমাদের অলক্ষ্যেই থেকে যায়। অন্যদিকে সঠিক যত্ন ও অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ঢাকার মাঠ, খেলার পার্ক, গাছপালা ও লেক। এগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করা, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বাঁচাতে প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নেওয়া, আইনকে সঠিকভাবে পরিচালিত হতে সাহায্য করা নগরবাসীর নৈতিক কর্তব্য।

ঢাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য যত্রতত্র রাস্তা কেটে বিদ্যুত্, গ্যাস বা অন্যান্য সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা অনেকাংশেই দায়ী, এটি ঢাকার যানজটের পেছনেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ব্যাপারেও নাগরিক সচেতনতা অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। দেখা যাচ্ছে, এলাকাভিত্তিক এ ধরনের সমস্যায় সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হলেও তা সমাধানের চেষ্টায় এগিয়ে আসছেন না। যে কোনো সংযোগ স্থাপন কিংবা উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপ্তি কতদিন, এই কাজ চলার সময়ে কিভাবে দূষণ রোধ করা যায়, কিংবা এই কাজ চলাকালীন সময়টুকুতে বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে নাগরিক হিসেবে কেউ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এলে তা দূষণ রোধের পাশাপাশি নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে পারে। কিন্তু তা না হওয়ায় ফলাফল— খোলা ম্যানহোলে পড়ে শিশুর মৃত্যু, রাস্তায় আবর্জনা জমা হয়ে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি, জলাবদ্ধতার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ, সর্বোপরি ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজটে আটকা পড়ে মূল্যবান সময় ও শ্রমের অপচয়।

কাজেই আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি মানুষ যদি সত্যিকারের সচেতনতা নিয়ে ভাবে যে এই শহরটা আমার, এর প্রতিটি জিনিস রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, শুধুমাত্র তাহলেই পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজ ঢাকার আন্দোলন সফল হতে পারে।

ঢাকা

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন