পাবলিক বাসে মহিলা আসন
প্রজ্ঞা আহম্মদ জ্যোতি০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
পাবলিক বাসে মহিলা আসন
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা এখন পুরুষের পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি বৈষম্যের মাত্রা কমেনি। যার উদাহরণ পাবলিক বাসে ‘মহিলা আসন’। শুনে হয়তো মনে হতে পারে এটি মহিলাদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা।  কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এটি হলো ইঞ্জিনের ওপর ৭/৮ জন বসার জন্য সংরক্ষিত আসন। বাকি আসনগুলোতে অধিকার নেই নারীদের। মহিলাদের আসন ইঞ্জিনের ওপর কেন, তা আমার মাথায় ঢোকে না। আমার মায়ের সঙ্গে দেখি প্রায়ই বাসচালক এবং হেলপারের তর্ক লেগে যায় তাঁদের আসন কেন ইঞ্জিনের ওপর, তা নিয়ে। বাসচালকদের ধারণা নিরাপত্তা খাতিরেই এই ব্যবস্থা। শুধু তাই নয় এই ৭/৮ টি সিট নিয়েও চলে তুমুল ভাগাভাগি। এই আসনগুলো শুধুই মহিলাদের জন্য নয়, শিশু প্রতিবন্ধীদের জন্যও। এই নিয়মও উদ্ভট। একটি পাবলিক বাসে আসনের তুলনায় তিনগুণ মহিলা যাত্রী থাকেন। ওই ৭/৮টি আসনে সিট পেলে তো ভাগ্য ভালো, না পেলে ঠেসাঠেসি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারী যৌন হয়রানির শিকার হন পাবলিক বাসে।

পুরুষের আসনে মহিলাদের জায়গা না হলেও ঠিকই মহিলা আসনে পুরুষের জায়গা হয়। যে কারণে  ‘সিট নেই’ বলে মহিলাদের অনেক সময় বাসেই উঠতে দেওয়া হয় না। মহিলা তো মহিলাই তাদের  কি পুরুষের মতো ব্যস্ততা আছে—এই কথা এখনো শোনা যায়, যার প্রতিফলন আমরা এই ব্যাপারে দেখতে পাই। তারাও যে পুরুষের মতো কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত, তার কোনো তোয়াক্কা নেই। কখনো কখনো মহিলা সিট ভরে গেলেও যদি মহিলাদের বাসে ওঠানো হয় তখন কিছু পুরুষ যাত্রী অহেতুক কটু কথা  বলেন। অনেক সময় মহিলা আসনে পুরুষ যাত্রী বসে থাকলেও মহিলা দেখেও বোধহীন কিছু পুরুষ আসন ছাড়েন না। উঠতে বললেই শুরু করেন উলটাপালটা তর্ক। গত কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে বাসে উঠলাম। উঠে দেখলাম এক লোক তাঁর শিশুকন্যা ও স্ত্রীর মাঝে মহিলা সিটে বসে আছেন। আমাকে দেখেও আসন ছাড়লেন না। বরং হেলপারকে গালাগাল শুরু করলেন—‘সিট ফুল থাকা সত্ত্বেও যাত্রী নিলা ক্যান, চোখ নাই তোমার।’ একটু পর বাসের আরেকজন যাত্রী উঠে যাওয়ায় আমি লোকটার সামনের আসনে বসলাম। যার ফলে তাঁর সঙ্গে তাঁর শিশুকন্যার কথোপকথন শুনতে পাচ্ছিলাম। শুনলাম তিনি তাঁর কন্যাকে বাসে যেতে যেতে রাস্তাগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন আর রাস্তাগুলো কেন কার নামে হয়েছে তার ইতিহাসও বলছিলেন। বুঝতে পারলাম তিনি পড়ালেখা জানা একজন। কিন্তু শিক্ষিত হলেও তিনি যে মানবিকবোধ সম্পন্ন নন, তাতে সন্দেহ কী। কিন্তু এত জ্ঞান বিলানোর পরও তাঁর শিশুকন্যা কি পিতার কাছে সঠিক জ্ঞান পাচ্ছে? সে তো স্বচোখেই তার বাবার মানবিক বোধহীনতার প্রমাণ  পাচ্ছে। সবশেষে বলব—এই দেশে শিক্ষার হার হয়তো বাড়ছে কিন্তু সব নাগরিক এখনো নারীকে মানুষ ভাবার বোধ সম্পন্ন হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন