সম্ভাবনার খাত সাইকেল
আবীর বসাক০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
আজকের দিনে ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর একটি চমত্কার ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হলো সাইকেল। বাহনটি যে শুধু দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয় তা-ই নয়, শরীরচর্চার প্রধান উপকরণও বটে। নিয়মিত সাইক্লিং শরীরকে যেমন রাখে সুস্থ তেমনি মনে আনে বাড়তি প্রফুল্ল­তা। তাই জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে পরিবেশবান্ধব এই যানটির চাহিদা আকাশচুম্বী।

বর্তমানে দেশের প্রকৌশল শিল্পজাত পণ্য রপ্তানিতে বাইসাইকেল ধীরে ধীরে বাড়ছে।  দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জায়গা দখল করছে এই বাহনটি। মূলত যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, গ্রিস ও ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইকেল রপ্তানি করা হয়। তাছাড়া আমেরিকার বাজারেও এদেশের সাইকেলের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক হারে। তাই সর্বোত্কৃষ্ট ও গুণগতমানের সাইকেল তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক মানের কারখানা। এসব কারখানা থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার সাইকেল রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রকৌশল শিল্পজাত পণ্য রপ্তানিতে বাইসাইকেলের অবদান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ১ হাজার ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার সাইকেল রপ্তানি হয়েছিল। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।

এক দশক আগেও দেশীয় চাহিদা মেটাতে আমদানি করতে হতো বাইসাইকেল। কিন্তু সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে সাইকেল রপ্তানিতে শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ। পরিবেশবান্ধব বলে ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বে সাইকেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় দুই চাকার এই বাহন রপ্তানিতে আশা দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। তবে গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকট, যোগাযোগ খাতের দুরবস্থা, শ্রমিক অসন্তোষ, অবকাঠামোগত অসুবিধা, প্রণোদনার অভাবে উদ্যোক্তারা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন রপ্তানিমুখী এই খাতটি থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লুসিনটেলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সাল নাগাদ  বৈশ্বিক বাজারে ৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের বাইসাইকেলের চাহিদা সৃষ্টি হবে। এই বিশাল বাজার দখলের একটি সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে বড় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা এবং সরকারের সুনজরের প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তাদের শর্তবিহীন প্রণোদনার সুযোগ, ব্যাপক প্রচারণা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে আশা করা যায় ভবিষ্যতে এদেশের সাইকেলশিল্প নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে।

সাইকেল রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা তাইওয়ান, শ্রীলংকা কিংবা থাইল্যান্ডের মতো এদেশের সাইকেলশিল্পও অর্থনীতির চিত্র পালটে দিতে পারে। তুলে ধরতে পারে এদেশকে মডেল হিসেবে গোটা বিশ্ব দরবারে। তাই দেশীয় শিল্পব্যবস্থাপনায় সাইকেল রপ্তানির বিকাশ ও বৈপ্ল­বিক পরিবর্তন সৃষ্টিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন