শিশুদের শিক্ষাসামগ্রী
১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
শিশুদের শিক্ষাসামগ্রী
মু. তৌহিদুল ইসলাম

চার বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে মা ডাক্তারের কাছে এলেন। শিশুটির পা ভেঙেছে। ডাক্তার জানতে চাইলেন, তোমার পা ভাঙল কিভাবে? শিশুটি বলল, সুপারম্যানের মতো লাফ দিতে গিয়ে। ডাক্তার বললেন, কেন এমনটি করতে গেলে? শিশুর স্বভাবসুলভ উত্তর, আমি সুপারম্যান হতে চাই। সুপারম্যান লাফ দিলে তো পা ভাঙে না!

শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। যেহেতু তাদের নিজস্ব বিচার-বিবেচনা শক্তি কম থাকে তাই অন্যদের থেকে তারা যা দেখে তাই শেখে এবং সেগুলোই করতে চায়। তাদের ভালোলাগা, মন্দলাগা, আগ্রহ, অনাগ্রহ ইত্যাদি তৈরি হয় চারপাশের পরিবেশ থেকে। এজন্য তার সামনে সবকিছু এমনভাবে উপস্থাপন করা দরকার যেন তা থেকে সে নির্মল বিনোদন পায় ও কিছু শিখতে পারে। আমাদের চিন্তা করা দরকার কাকে আমরা শিশুদের সামনে আইডল হিসেবে উপস্থাপন করব। ভূত, গল্প, সিনেমা ও কার্টুনের চরিত্রগুলোর মধ্যে যে কোনো কিছু করে ফেলার অস্বাভাবিক রকমের ক্ষমতা ও শক্তি থাকার কারণে সেগুলোকে শিশুরা অবচেতন মনে সত্যি বলে বিশ্বাস করে ও তার মতো হতে চায় বা করতে চায়! শিশু বয়সে এমন কোনো বিষয় তাদের সামনে উপস্থাপিত হওয়া উচিত নয় যাতে তারা বিভ্রান্ত হয় ও ভুল শিক্ষা গ্রহণ করে।

আমরা যদি শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে, তাদের স্কুলব্যাগে এমন সব পুতুল বা কার্টুনের ছবি থাকে যেসব ছবির আসলে কোনো অর্থ নেই! নিছক আনন্দ বা আকর্ষণের জন্যই এই ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। লক্ষ করে দেখবেন, এই ছবির বাচ্চা মেয়েগুলো স্বল্প কাপড় পরা। যা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই যায় না! আবার প্লে বা নার্সারির শিশুদের ব্যাগের মেয়ে পুতুলগুলো দেখতে মনে হয় অ্যাডাল্ট! লেখার খাতার কভারে দেওয়া থাকে বিদেশি কার্টুনের ছবি বা ভূতের ছবি! পানির বোতল, জুতা, চুলের ক্লিপ, ঘড়ি, চকলেট, চুইংগাম বা শিশু খাবারের মোড়কের মধ্যে থাকে নায়ক-নায়িকা বা কার্টুনের ছবি। এমনকী এমনও দেখা গিয়েছে কলমের গায়ে নায়িকার ছবি। খেলনাও তৈরি হয় বারবি ডলের আকৃতিতে বা বিদেশি কোনো সিরিয়ালের শিশু চরিত্রকে সামনে রেখে। ঈদের সময় বাচ্চাদের পোশাকেও এর ছাপ আমরা লক্ষ করি। এভাবে অবচেতন মনে শিশুরা এই চরিত্রগুলোকে তাদের ভাবনায় ঠাঁই দিচ্ছে। এগুলোকেই তাদের কল্পনার জগতের সঙ্গে মিশিয়ে নিচ্ছে ও আইডল মনে করছে। যা এই কচি বয়সে একেবারেই বেমানান! এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের অবস্থা কি ঐ ‘সুপারম্যান বাচ্চা’র মতোই হবে না?

তাই শিশুদের শিক্ষাসহ অন্যান্য যে উপকরণ রয়েছে তা সত্যিকার অর্থেই শিক্ষামূলক হওয়া দরকার। যা থেকে আমাদের শিশুরা ভালো কিছু শিখবে। যেমন: শিশুদের জন্য অত্যন্ত মজাদার মিনা কার্টুন বা সিসিমপুরের মতো শিক্ষণীয় কার্টুন থাকতে পারে। থাকতে পারে কোনো মনীষীর বাণী, দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। আমাদের জাতীয় ব্যক্তিত্বদের ছবি ও কিছু কথাও থাকতে পারে।  অলীক কল্প-কাহিনি তাদের সামনে উপস্থাপন না করে বাস্তব ও আকর্ষণীয় বিষয়গুলোই তাদেরকে দেওয়া উচিত। যাতে করে আমাদের শিশুরা বিদেশি সাংস্কৃতির প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি লালন ও ধারণ করতে পারে। আমাদের দেশের যাঁরা মহত্ ও বড়ো মনের মানুষ রয়েছেন তাঁদেরকে চিনতে পারে, তাঁদের মতো বড়ো মানুষ হতে পারে সেই বিষয়গুলোকে শিশুদের শিক্ষা ও অন্যান্য সামগ্রীর মাঝে নিয়ে আসা দরকার।

ন্যাশনাল ল’ কলেজ, ঢাকা

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন