মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন

এমদাদুল হক সরকার

 

১৬ই ডিসেম্বর সকালে স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় কথা হচ্ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে। তিনি আফসোস করলেন, শোষণ-নিপীড়ন মুক্ত দেশে সকলে মিলে সুখে-শান্তিতে বসবাস, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখার জন্য তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন। অথচ এখন বিজয় দিবস উদযাপন মানে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া, ফটোশুট আর গানবাজনা। এই ১৬ই ডিসেম্বরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ৪৭ বছরে পা রেখেছে।

নিপীড়ন-শোষণের অবসান ঘটানোর জন্য, আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন। তবে তাঁদের আরো কিছু স্বপ্ন ছিল। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল—দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিত্সা, আইন সব ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাবে। দারিদ্র্য দূর হবে, শিক্ষার হার বাড়বে, বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার চর্চা হবে, অন্যায়-অবিচার কমবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। এসব ছাড়াও সাধারণ মানুষের জীবনের মান বাড়াতে যা যা প্রয়োজন, সেসব সাধারণ স্বপ্ন। দেশের মানুষ দুবেলা পেট পুরে খেতে পারবে, মাথার ওপরে ছাদ থাকবে, পরনের কাপড় থাকবে, তাদের কাজ থাকবে, বাচ্চারা স্কুলে যাবে, মনের শান্তিতে নিজের ধর্ম-সংস্কৃতির চর্চা করবে। সবাই মিলেমিশে থাকবে, চুরি-ডাকাতি- ছিনতাই-খুন-ধর্ষণের সংখ্যা কমে যাবে।

৪৬ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, শিল্প, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য আছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকেও আমাদের অগ্রগতি অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বেশি। তবে আমরা এখনো সকলের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই ব্যর্থ।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও জনগণের লালিত স্বপ্ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত হয়নি। একটি দেশকে পুনর্গঠনের জন্য ৪৬ বছর কম সময় নয়। দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির আবর্তে জনজীবন আজ দুর্বিষহ ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনজীবনে হতাশা ও নৈরাজ্য বিরাজমান। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি। আধুনিক বিশ্বের উন্নয়ন ও সুবিধা আজো স্পর্শ করতে পারেনি, পারেনি সামাজিক অধিকার ও মানবধিকার নিশ্চিত করতে। যে অর্থনৈতিক মুক্তি ছিল বিজয়ের অন্যতম প্রত্যাশা—বিগত চার দশকে তার পূরণ হয়েছে সামান্য। শিল্পের বিকাশ ও প্রসার ঘটেছে নগণ্য। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এর অন্যতম। এবং এই অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে তৈরি হয়েছে নানান অরাজকতা, অবনতি হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। দেশে হত্যা, গুম, ধর্ষণ, ঘুষ, অপহরণ, অর্থ আত্মসাত্ ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। সামপ্রদায়িক হামলা বাড়ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে।

সর্বোপরি যে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, সহিষ্ণু ও সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন শহীদেরা দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতি পরিচালিত হবে—এটাই প্রত্যাশিত। রাজনীতিতে পথ ও মতের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু সেটি কখনোই সংঘাত সৃষ্টির কারণ হতে পারে না। শুধু দিবসভিত্তিক চেতনা নয়, সব সময় মানুষ নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারবে; দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবে—এটাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন