স্বপ্নচারী তরুণেরা
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
মুহাম্মদ শরীফ

 

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে স্বপ্ন নিয়ে। আসলে এটি কেবল উক্তি নয়, বলা যায় স্বপ্নের সঠিক সংজ্ঞা। তিনি বলেছিলেন—স্বপ্ন তা নয়, যা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে; স্বপ্ন তা, যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।

স্বপ্নের কথাটি বলার আগে অন্য একটি স্বপ্নের কথা বলতে চাই। স্বপ্নটা পঁচিশ বছর আগের। কুমিল্ল­া উপজেলার দেবিদ্বারের প্রত্যন্ত এলাকার একটি গ্রাম মুগসাইর। তখন এ গ্রামে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করলে গভীর আগ্রহে সবাই দলে দলে ঐ শিক্ষার্থীকে দেখতে যেতেন। নিরক্ষরতা এখানকার স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল। শিক্ষালাভের ব্যাপারে এ গ্রামের মানুষের তেমন আগ্রহ ছিল না। তার অনেকগুলো কারণের প্রধান একটা কারণ ছিল, এই গ্রামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না-থাকা। আর শিক্ষালাভ করতে হলে এ গ্রামের মানুষকে যেতে হতো অনেক দূরে। যার ফলে শিক্ষিত ব্যক্তি এ গ্রামে তেমন চোখে পড়ত না। কিন্তু পঁচিশ বছরে পেরিয়ে মুগসাইর আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত গ্রামগুলোর একটি। এখন প্রত্যেকটা পরিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায়। এই গ্রামের ছেলেরাই হয়েছে ডক্টর, প্রফেসর, সাংবাদিক, সফল ব্যবসায়ী, পুলিশ, সেনা সদস্য; করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকরি। পঁচিশ বছর আগে যা ছিল স্বপ্ন, আজ সেটা বাস্তব!

কী এমন অলৌকিক কাণ্ড ঘটেছে, যা গ্রামটিকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে! তবে তা অলৌকিক নয়, লৌকিক। সেই গ্রামে মাত্র একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গ্রামবাসীরা মিলে। কিছু লোক জমি দিয়েছেন। কেউ ঝাড় থেকে বাঁশ দিয়েছেন। কেউ টিন দিয়েছেন। যার কিছু নেই, সে শ্রম দিয়েছিল। সম্মিলিতভাবে গড়ে উঠেছিল মুগসাইর এগার গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। যার মাধ্যমে গ্রামটি অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। গ্রামবাসীর স্বপ্ন উঠেছে জ্বলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সেই আলোর দীপ্তি এখনো পূর্ণতা পায়নি! এই না-পাওয়া শূন্যতা পূরণ করতে আবার স্বপ্ন দেখছে একদল তরুণ। আমি সেই তরুণদের স্বপ্নের কথাই বলছি। তরুণদের দাবি মুগসাইর গ্রামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার। কেননা এই গ্রামসহ আশপাশের এগারোটি গ্রামে কোনো কলেজ নেই। যার ফলে এসএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার দরজায় পা রাখতে পারে না। কারণ কলেজে পড়তে হলে হয় তাদের ৮ কিলোমিটার পেরিয়ে থানা সদরে যেতে হয়, নয়তো ১৫ কিলোমিটার পেরিয়ে উপজেলা সদরে। ছেলেরা কলেজে অনেক কষ্ট করে ভর্তি হতে পারলেও, মেয়েদের জন্য তা হয়ে দাঁড়ায় সীমাহীন কষ্টের। ফলে এখানকার মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় এসএসসি পাসের পরেই।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু ছেলেবেলায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কাছে স্কুলঘর মেরামতের জন্য দাবি জানাতে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন। এবং বঙ্গবন্ধুর দাবি পূরণ করেছিলেন শেরে বাংলা! কলেজের দাবিতে সোচ্চার ঐ গ্রামের তরুণদের মাঝে যেন সেই তরুণ বঙ্গবন্ধুর দেখা মেলে। মুগসাইর গ্রামের তরুণদের স্বপ্নের কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হোক। বাস্তবায়ন করা হোক তাদের স্বপ্ন। যার মাধ্যমে এই গ্রামটিসহ এগিয়ে যাবে আশেপাশের এগারোটি গ্রাম।

ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুুমিল্লা

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন