প্রশ্ন ফাঁস রোধ কি অসম্ভব?
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
প্রশ্ন ফাঁস রোধ কি অসম্ভব?

মো. শাহরিয়ার জামিল

 

ফটোকপির দোকানে প্রশ্ন পাওয়া গেলেও মাননীয় মন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি বলে এটাকে গুজব বলে চালিয়ে দিতে চান। আবার প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা না করে ফাঁসের গুজব যারা রটাবে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টা অস্বীকার করা হলেও এই অভিযোগে অনেককেই গ্রেফতার করা হয়। আসলে যে কী ঘটে তা শুধু আল্লাহই জানান।

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই অনুষ্ঠিত পরীক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হচ্ছে। আবার অনেকের ভর্তি বাতিলও হয়। অবস্থার পর্যবেক্ষণ ও কর্তাদের কথা শুনে মনে হয়, একটা কথা মিথ্যা হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, কথাটা কর্তারা বলেছেন।

যাই হোক, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে একটা ফর্মুলা দিচ্ছি। ফরমুলাটা পুরাতন হলেও কার্যকর বলেই আমার বিশ্বাস। যদি কর্তারা গ্রহণ করেন তাহলে আশা করি কিছুটা হলেও উপকার হবে। আর যদি গ্রহণ না করেন তবে এটা উলুবনে মুক্তা ছড়ানো হবে, নাহয় হবে অরণ্যে রোদন। আমার এই মুক্তা তো মূল্যহীন। তাই ক্ষতির আশঙ্কা নেই। যাই হোক, আমার প্রস্তাবটা তুলে ধরছি।

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির। এর ব্যবহার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সক্ষম বলেই মনে করি। একেকটা মোবাইল অপারেটর কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে একটা বার্তা পাঠায়। এ রকম বার্তা প্রত্যেকটা মোবাইল অপারেটর দিনে কয়েক বার পাঠিয়ে থাকে। একেকটা ওয়েব সাইট দিনে কত শত লোক ব্রাউজ করছে, তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ডাউনলোড করছে।

উপর্যুক্ত পদ্ধতি দুটির যে কোনো একটি বা এরূপ অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব।

বর্তমানে যে পদ্ধতিতে প্রশ্ন করে রেখে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয় তাকে কোনোভাবেই যুগোপযোগী পদ্ধতি বলা যায় না। এই পদ্ধতি বহাল রেখে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা অসম্ভব। তাই এই সনাতন পদ্ধতিটি পরিহার করা আবশ্যক।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রে একটি কম্পিউটার (যা প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকার কথা ) ও কয়েকটি ফটোকপি মেশিন প্রয়োজন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরকে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হবে যাতে শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে থাকা কম্পিউটার থেকে প্রবেশ করা যাবে, অন্য কোনো কম্পিউটারে তাতে প্রবেশাধিকার থাকবে না।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর অনেকগুলো (হতে পারে কয়েক শ) প্রশ্ন করে রাখবে যেগুলো থেকে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা পূর্বে বেশ কয়েকটা (হতে পারে দশটা ) প্রশ্ন ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর কম্পিউটার থেকে প্রশ্নপত্রগুলো ডাউনলোড করে এক কপি করে প্রিন্ট করে রাখা হবে।

এই কাজ শুরুর পর কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মচারী কেন্দ্রর বাইরে যেতে পারবে না এবং বাইরের কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।

পরীক্ষা শুরুর পনেরো মিনিট আগে কোন প্রশ্নে পরীক্ষা হবে তা জানানো হবে। তারপর কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশ্নটি প্রয়োজন অনুপাতে ফটোকপি করিয়ে নেবেন। পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট আগে রুমে রুমে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে।

অনুরূপভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে ই-মেইল করেও প্রশ্ন প্রেরণ সম্ভব। সব সময় উভয় প্রস্তুতিই রাখতে হবে যাতে এক পদ্ধতিতে সমস্যা হলে অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন