ডাক্তারি নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ডাক্তারি নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং
জিনাত জাহান খান

 

আপনি কি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী? বাংলা মিডিয়ামে বা ইংরেজি ভার্সনে পড়েছেন বা পড়ছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে আমি আপনার সমপর্কে একটি তথ্য নিঃসন্দেহে বলে দিতে পারি। আর তা হলো, আপনি আপনার জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় তথা উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য অ্যাডমিশন টেস্ট দেওয়ার আগে এ প্রশ্নটি অবশ্যই শুনেছেন—‘কী পড়তে চাও? ডাক্তারি নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং?’

আমাদের দেশের অধিকাংশ ব্যক্তি কোনো শিক্ষার্থীর বুদ্ধিমত্তা বিবেচনার জন্য বিচিত্র মাপকাঠি ব্যবহার করেন। এ মাপকাঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাই সর্বেসর্বা। বিশ্ব জয় করার সামর্থ্য যেন শুধু তাদেরই থাকে। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও মোটামুটি ভালো। তবে জীবনে ভালো কিছু করার জন্য বেশ বেগ পেতে হবে। আর কলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোনো বিবেচনা ছাড়াই অসফল ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনেকে এটা স্বীকার না করলেও নিজেদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বা সাইন্স ছাড়া বিকল্প ভাবতেই পারেন না।

এখন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ভেদ রয়েছে সে সমপর্কে বলি। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রের জীবনের লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ার এবং ছাত্রীর ডাক্তার হওয়া যেন  বাঞ্ছনীয়। যদি এরকম লক্ষ্য না হয়, তবে সে উন্নতি করার অযোগ্য বলে ঘোষিত হয়। এ সম্পর্কিত কিছু প্রচলিত উপদেশ এরকম—‘মেয়ে  মানুষের ডাক্তারি পড়াই ভালো। ছেলেদের তো ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়লে কোনো  ভবিষ্যত্ নাই। তুমি সাইন্সের শিক্ষার্থী হয়ে কমার্স বা আর্টসের বিষয় কেন পড়বে?’ অর্থাত্ কেউ ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারুক বা না পারুক, তাকে পড়তেই হবে। এ কেমন যুক্তি!

জীবনে উন্নতির জন্য বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীই হতে হবে এবং ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারই হতে হবে নাকি? চেষ্টা বা ইচ্ছা থাকলে যে কোনো ক্ষেত্র থেকেই উন্নতি সম্ভব। আর এর বাস্তব উদাহরণ সারা  বিশ্বজুড়েই রয়েছে। বেশি দূরে না গিয়ে বাংলাদেশেরই কয়েকজন সফল ব্যক্তির কথা বলি, যাঁরা প্রচলিত এই ভাবধারার বাইরে গিয়েও উন্নতির শিখরে  উঠেছেন। শিরীন শারমিন চৌধুরী, বাংলাদেশের প্রথম নারী সিপকার হিসেবে এদেশের নারীদের অন্যতম আদর্শ বিবেচিত হন। তিনি ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং নয় বরং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস কিংবা তারেক মাসুদের মতো প্রতিভাশালী চলচ্চিত্র পরিচালকও প্রচলিত এই সফল হওয়ার পথ অবলম্বন না করেও বিকশিত হয়েছেন। এরকম আরো অগণিত উদাহরণ রয়েছে।

অবশ্যই দেশে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজনীয়তা আছে। আর যাঁদের ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা অবশ্যই নিজেদের সাধ্যমতো তা পূরণের চেষ্টাও করবেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে  তা পড়তে বাধ্য করা যাবে না। আমাদের সমাজে অধিকাংশ মা-বাবাই তাঁদের ইচ্ছা জোর করে সন্তানদের ওপর  চাপিয়ে দেন। নিজেদের সন্তানদের ইচ্ছা এবং যোগ্যতা বিবেচনা না করে লোকদেখানো প্রতিপত্তি রক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পড়ার জন্য সন্তানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। তবে একথা ভুললে চলবে না যে, পড়াশোনা  কখনো জোর করে বা চাপে পড়ে হয় না। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো বিশেষ গুণ ও দক্ষতা থাকে। তা পাঠ্যক্রমের ভেতরের কোনো বিষয়ও হতে পারে, আবার পাঠ্যক্রমের বাইরের কোনো বিষয়ও হতে পারে।     

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন