প্রাথমিক শিক্ষার দৈন্যদশা ঘুচবে কিভাবে
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ইমানুল সোহান

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মূলত একটি মানবশিশুকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে শেখায়। মেরুদণ্ড শক্ত হওয়ার ভিত্তি গড়ে ওঠে সেখান থেকে। যার নিবিড় পরিচর্যার কাদামাটি রূপ নেয় একটি সুন্দর পুতুলে। অবুঝ মনে বপন করা হয় শিক্ষা নামক একটি অমূল্য বীজ। কিন্তু অঙ্কুরেই সেই বীজ যদি কীটনাশকে আক্রান্ত হয়, তাহলে সেখান থেকে ভালো ফসল পাওয়া মোটেই কাম্য নয়। কিন্তু সে দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা।

প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ১৯৯৩ সালে। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার নাজুক দশা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা ছাত্রদের দ্বারা ক্লাস চালিয়ে নেন, আর শিক্ষকেরা ঘুমান—এই দৃশ্যটি গ্রাম অঞ্চলে প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৯৫ লাখ। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক ঘাটতি দেড় লাখ। অথচ জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কের) হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতি ৪৬ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকা বাঞ্ছনীয়। অথচ দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতি ৬৮ জন শিক্ষার্থীর জন্যে একজন শিক্ষক রয়েছেন। এখনও দেশে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার দেওয়া অনুপাত অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায়ই দৈনিক পত্রিকায় দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধানশিক্ষক না থাকার খবর। একটি প্রতিষ্ঠানের যদি অভিভাবক না থাকেন তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের কী হতে পারে? প্রাথমিক শিক্ষার আরেকটি চিত্র প্রায়শই দেখা যায়, প্রধানশিক্ষকরা নানা কৌশলে বাড়ির পাশে পোস্টিং নেন। ফলে নিজের ইচ্ছেমতো সাংসারিক কাজ সেরে বিদ্যালয়ে যান।

বর্তমানে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরানো অনেক শিক্ষার্থী নিজের শ্রেণির নাম বলতে পারলেও লিখতে পারে না। অথচ প্রাথমিক শিক্ষার পিএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ শতাংশের বেশি। যারা নিজের নাম লিখতে পারে না তারা পরবর্তী সময়ে গিয়ে কী করে তা দেখা যায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময়। বিল্ডিংয়ের ভিত্তি যদি ভালো হয় তাহলে সেই বিল্ডিংটি হয় মজবুত। তেমনি একজন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক ভিত্তি যদি ভালো হয় তাহলে  সেই শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে গিয়ে ভালো করে।

বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক পরিবর্তন এনেছেন। এসব পরিবর্তনের বেশিরভাগই ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার বাড়ছে। বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা বই পাচ্ছে। এসব সত্ত্বেও কিছুৃ প্রতিবন্ধকতা প্রাথমিক শিক্ষায় রয়েছে। যেগুলো প্রাথমিক শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষকরা ক্লাসে মনোযোগী হোন। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট আছে সেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা। যাতে সর্ব্বোচ মেধাবীরা তাঁদের যোগ্যতা দিয়ে শিক্ষক পেশায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন তা নিশ্চিত করা। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকলে তা দূর করা। কোমলমতি শিশুদের খেলাচ্ছলে পাঠদান নিশ্চিত করা। সর্বোপরি অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। তাহলেই প্রাথমিক শিক্ষা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থায় রূপ নেবে। 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন