ইচ্ছে পূরণের পথে
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
ইচ্ছে পূরণের পথে
l শেখ হাসান হায়দার

 

ছোটবেলায় নাটক, সিনেমা কিংবা বিভিন্ন টিভি শোতে সুপার হিরোদেরকে নিজস্ব পোশাকেই দেখে অনেকেরই মনে হতো—আমাদের সব সমস্যা সমাধান করতে ভিনগ্রহ থেকে হয়তো আসবে এমন কোনো সুপার হিরো। পরনে থাকবে যার সুপার হিরোর পোশাক আর মুহূর্তের মধ্যেই সে করে দেবে সব সমস্যার সমাধান। কিন্তু মোনালিসা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তার কথা সোজাসাপ্টা—সমস্যা আমাদের, সমাধানও আমাদেরকেই করতে হবে।

নড়াইলে জন্ম হলেও বাবার চাকরির কারণে তিনি গিয়েছেন দেশের অনেক জেলায়। দেখেছেন দরিদ্র মানুষের কষ্ট, দুর্দশা। তাই তো ছোটবেলা থেকেই ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের নিঠুর থাবা থেকে বাঁচাতে চান দেশকে, তথা পৃথিবীকে। শুধু ভেবেই কিন্তু বসে নেই তিনি, কাজ করে যাচ্ছেন তার এ স্বপ্ন নিয়ে। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ; আর এদেশকে ক্ষুধা আর দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে কৃষির ওপরই বেশি জোর দিতে হবে—এ কথা মোনালিসা অনেক আগেই অনুধাবন করেছিলেন। তাই তো অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হলেও তিনি শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে দুটি বিষয় বেশ তাড়াতাড়ি বুঝতে পারেন তিনি। একা তার পক্ষে এত বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই সুপার হিরোরা আসলেই পৃথিবীতে আছে এবং তারা ভিনগ্রহের নন। এক্ষেত্রে সুপার হিরোরা হচ্ছেন—শিক্ষক। আর তাদের সুপার পাওয়ার হলো সুশিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থী। একজন শিক্ষক লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেন জ্ঞানের আলো; শিক্ষার্থীদের মাথায় যদি দারিদ্র্য আর ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশের কথা ঢুকিয়ে দেওয়া যায়—ব্যস তাহলে একদিন না একদিন তা পূরণ হবেই। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষকদের দেখে অনুপ্রেরণা পেয়ে সিদ্ধান্ত নেন—হবেন শিক্ষক, ছড়াবেন জ্ঞানের আলো। ছোটবেলা থেকে বরাবরই পড়ালেখায় অত্যন্ত ভালো মোনালিসা। আর এবার তো স্বপ্ন পূরণের পথে আরও কয়েক ধাপ এগোলেন তিনি। শেষ করলেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন; আর এখানেও নিজের মেধার পরিচয় দিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে পেয়েছেন স্বর্ণপদক তাও আবার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে। মোনালিসা সবসময় বাবা-মা আর শিক্ষকদের থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন; আর বিয়ের পর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকেও পেয়েছেন সমর্থন। তারা সবসময় ১৬ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশের প্রাণশক্তি কৃষি নিয়ে তার ভাবনার কথা, তার স্বপ্নের কথায় উত্সাহ দিয়েছেন। সম্প্রতি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তারই বিশ্ববিদ্যালয় শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার তার স্বপ্নপূরণের আসল পথের শুরু। তার ইচ্ছা, পিএইচডি শেষ করে কৃষিবিদ হিসেবে দেশের কৃষিকে আরও উন্নত কীভাবে করা যায় তা নিয়ে কাজ করা, অন্যদিকে শিক্ষক হিসেবে আরও শিক্ষার্থীকে কৃষি বিষয়ে উত্সাহিত করা।

মোনালিসা জানান, এখন অনেক শিক্ষার্থীই কৃষি নিয়ে পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আর এখন তো চাকরির ক্ষেত্রেও কৃষিবিদদের চাহিদা অনেক। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যাংক ও বিসিএসেও কৃষিবিদদের জন্য রয়েছে সুবিধা। তরুণদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, আর পোশাকে নয় হূদয়ে ধারণ করা সুপার হিরো হয়েই তারা বদলে দেবে বাংলাদেশ—এমন প্রত্যাশা তার।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন