উপমহাদেশের ঐতিহ্যের সন্ধানে বাংলাদেশের তরুণদের ভারত ভ্রমণ
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
উপমহাদেশের ঐতিহ্যের সন্ধানে বাংলাদেশের তরুণদের ভারত ভ্রমণ
সম্প্রতি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের একশ জন তরুণ এক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে এসেছে। এই রাষ্ট্রীয় সফরের উদ্দেশ্য ছিল দুদেশের সংস্কৃতি ও ভাব বিনিময়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আদানপ্রদান। গত বছরের ৪ থেকে ১১ ডিসেম্বর—মোট ৮ দিনের এই সফরের প্রথম দিনে ভারতের জাতীয় জাদুঘর দর্শনের মধ্যদিয়ে ভারত ভ্রমণের সূচনা করেন তরুণ দলটি। এরপর ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেট দর্শন এবং ভারতের জনপ্রিয় বা দ্রুত যাতায়াতমাধ্যম হিসেবে পরিচিত মেট্রো রেলে চড়ার মধ্যদিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের ভ্রমণ।

দ্বিতীয় দিনে দিল্লির রাজঘাটে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর সমাধি সৌধ, দিল্লির লাল কেল্লা এবং বিখ্যাত জুমা মসজিদ দেখে বেড়ায় তরুণ দলটি। মোগল সম্রাট শাহজাহান অপরূপ কারুকার্য খচিত মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৬৪৪ সালে শুরু করে ১৬৫৬ সালের মধ্যে ৫০০০ শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এর প্রকৃত নাম ‘মসজিদ-ই-জাহান-নুমা’। তারপর সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির বাসভবনে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে তরুণ দলটি।

তৃতীয় দিনে তরুণরা দেখতে যায় আগ্রায় অবস্থিত স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে মোগল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত তাজমহল। এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৩১ সালে এবং শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। তত্কালীন ৩২ কোটি মুদ্রা ব্যয়ে ২০,০০০ শ্রমিকের শ্রমে ২২ বছরে এই অমর স্থাপনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া তরুণ দলটি দেখতে যান সম্রাট আকবরের আগ্রার কেল্লা, যেখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মোগল সম্রাজ্যের স্মৃতিবিজরিত বিভিন্ন মহল। এটি সম্রাট আকবর তৈরি করেন আট বছরে (১৫৬৫-১৫৭৩)। এখানে আছে সম্রাট শাহজাহানের শোবার ঘর, কারাগার, তার দুই কন্যা রওশনারা ও জাহানারার শীত ও গ্রীষ্মে থাকার জন্য দুটি আলাদা মহল। সম্রাট আকবরের হিন্দু স্ত্রীদের জন্য নির্মিত বিভিন্ন দেব-দেবী ও ফুল ইত্যাদির প্রতিকৃতি অবলম্বনে তৈরি মনোরম মহল ও মন্দির। এছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের স্তূপ ও আঙুর বাগান। পারস্যের নির্মাণশৈলীতে নির্মিত এই ঐতিহাসিক আগ্রার কেল্লাই বেশিরভাগ তরুণের মনে দাগ কেটেছে।

চতুর্থ দিনে তরুণরা ভ্রমণ করে প্রবাসী ভারতীয় কল্যাণ কেন্দ্র ও কুতুব মিনার। ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সম্রাজ্যের সূচনালগ্নে দিল্লিজয়ের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯৩ সালে ২৩৮ ফুট উঁচু এই মিনারটি নির্মাণ করেন।

পঞ্চম দিনে তরুণরা আহমেদাবাদে এসে দর্শন করেন মহাত্মা গান্ধীর অমরাবতী আশ্রম, যেখানে আশ্রয় পেয়েছে হাজারো অসহায় শিশু। মহাত্মা গান্ধীর বিখ্যাত সুতা কাটার চরকাটি এই আশ্রমে সংরক্ষিত আছে। অতঃপর ভারতের গর্ব টাটা ন্যানো গাড়ির কারখানা পরিদর্শন করেন তরুণরা। বিকালে তরুণরা যোগ দেন গুজরাট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে। সন্ধ্যায় শুরু হয় দুই দেশের তরুণদের যৌথ পরিবেশনায় চোখ ধাঁধানো সাংস্কৃতিক উত্সব। এই সাংস্কৃতিক উত্সবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গুজরাটীয় নাচ গারবা।

ষষ্ঠ দিনে তরুণরা দর্শন করেন আদলাজ স্টেপ ওয়েল। এই কুয়াটি মাহমুদ বেগ তার স্ত্রী রুদাবাঈয়ের জন্য ১৪৯৯ সালে নির্মাণ করেন। এই কুয়াতে মৌসুমি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখা হতো। স্থাপনাটির নির্মাণশৈলীতে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটানো হয়। তরুণরা ডান্ডি কুটির ও বিরুভাই আম্বানী ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজিও ঘুরে দেখেন।

সপ্তম দিনে তারা কলকাতায় স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ দিনে তরুণরা বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেন, হুগলী নদীর তীরে প্রিন্সেস ঘাট, দুই বাংলার গর্ব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করেন। এই সফরে তরুণরা উপমহাদেশের মোগল শাসনামল, ব্রিটিশ শাসনামল ও বর্তমান ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে উচ্চ ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন