গৌরারং জমিদার বাড়ির
হারানো ইতিহাস খুঁজছে ‘উড়ন্ত’
১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
হারানো ইতিহাস খুঁজছে ‘উড়ন্ত’
মো. বুরহান উদ্দিন

 

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

শহরতলীর গৌরারং জমিদার বাড়িটি এখন পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে কম সময়ে ওখানে পৌঁছা যায়। দর্শনীয় পুরোনো এই বাড়িটিকে ঘিরে শিল্পীদের আগ্রহ বেড়েছে। শিল্পকর্মীদের সংগঠন ‘উড়ন্ত’ এবার সুনামগঞ্জের গৌরারং জমিদার বাড়ি এবং ধর্মপাশার সুখাইড়ের জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস এবং এই প্রত্নসম্পদগুলোর সঙ্গে পুনরায় মানুষের সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর আব্দুজ জহুর সেতু পার হয়ে হাতের বাম দিকে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের ৩ কিলোমিটার যেতেই দুশ বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ি। সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হতে পারে। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বন্ধ হওয়ার পর এখন তা কেবলই অতীত। বর্তমানে জমিদার বাড়ির একাংশের ক্রয়সূত্রে মালিক নেপাল চক্রবর্তীর ছেলে বিজিত চক্রবর্তী। ১৮০০ সালের শুরুর দিকে জমিদার রাজেন্দ্র কুমার চৌধুরী ও রাকেশ রঞ্জন চৌধুরী গৌরারং জমিদারি পত্তন করেন। এরপর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে নগেন্দ্র কুমার চৌধুরীর হাত ধরে জমিদারি বিস্মৃতি লাভ করে। তার পুত্র নিরঞ্জন চৌধুরী। কয়েক বছর আগে তিনিও মারা গেছেন। নিরঞ্জন চৌধুরীর পরিবারের মধ্যে  ছেলে অঞ্জন চৌধুরী বর্তমানে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত। দুশ বছরের পুরোনো হলেও গৌরারং জমিদার বাড়ির শিল্পসম্মত স্থাপত্যশৈলীতে রয়েছে ৬টি আলাদা ভবন, রং মহলের দেওয়ালে নর-নারী ও লতাপাতার ছবি, অন্দর মহল, সিংহাসন, জলসা ঘর ইত্যাদি। যা আজও মানুষকে আকৃষ্ট করে।

বাড়ির অধিকাংশ দালান শ্যাওলা জমে নষ্ট হয়ে গেছে, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। রাজবাড়ির মূল ভবনের ভিতরে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

রং মহলের সম্মুখভাগে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি পুকুর, মূলভবনের ডান পাশে রয়েছে আরও একটি দিঘি, যেখানে জমিদার বাড়ির নারীরা গোসল করতেন। যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয় জল বারান্দা। পুকুর পাড়ের জমিদারি ঘাট আজও অক্ষুণ্ন রয়ে গেছে। অসংখ্য ছোট-বড় গাছগাছালি পুরাতন এই বাড়িটিকে যেন আগলে রেখেছে।

গত ২৮ আগস্ট থেকে এই বাড়ির হারানো ইতিহাস খোঁজার কাজ করছে উড়ন্ত আর্টিস্ট কমিউনিটি। এই সংগঠনে ভারতের ৫ জন শিল্পী কাজ করছেন। এরা হলেন অনুপম সাইকীয়া, ভানু প্রতাপ, জিনসন জোসেফ, লালিত পাটল ও ঋত্বিক কর। বাংলাদেশি শিল্পী রয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন আসিফ কাদের সিদ্দিক, শামছুল কবির সিনিন, আনন্দ আহসান, শাহরিয়ার খান শিহাব, শামস জামান ও তারেক হাসান।

উড়ন্তর কিওরেটর সাদিয়া মিজান বললেন, ‘আগামী ৫ ও ৬ অক্টোবর শিল্পীদের কাজ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। যেখানে নান্দনিক কিছু উপস্থাপনা এবং নতুন ধরনের শিল্পকর্ম থাকবে।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন