নব্বইয়ের দশকের তরুণদের স্বপ্নের হিরো
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
নব্বইয়ের দশকের তরুণদের স্বপ্নের হিরো

 

মনে করে দেখুন তো আপনার কৈশোরে হাজারো শৃঙ্খলার বন্ধনের বাইরে গিয়েও পাশের বাড়ির টেলিভিশনটির দিকে চোখ রাখতেন কিনা? বা তাড়াহুড়ো করে ঘরের কাজ শেষে আয়োজন করে টিভির সামনে বসার তাড়নায় ভুগতেন। অতীতের সেই মুহূর্তগুলো স্যাটেলাইটের হাজারো বিনোদনের মাঝে আজ স্মৃতি হয়ে আছে। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ডাবিং করা মেগা সিরিয়ালের হিরোরা সেই সময়ের তরুণদের দৈনন্দিন জীবনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। চলুন জেনে আসি সেই হিরোদের কথা।

 

ম্যাকগাইভার

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল ‘ম্যাকগাইভার চাকু’। যা মূলত সুইস আর্মির ব্যবহূত চাকু হিসেবেই দেখানো হয়েছিল জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘ম্যাকগাইভার’-এ। নব্বইয়ের দশকের এমন কোনো লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন যে কিনা এ টিভি সিরিয়ালটি দেখেনি। সমগ্র পৃথিবীতে অসম্ভব জনপ্রিয় একটি সিরিয়াল হলো ‘ম্যাকগাইভার’। বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। উপস্থিত বুদ্ধি ও হাতের কাছে পাওয়া জিনিস দিয়ে তিনি কি বড় বড় কাজগুলোই না করে ফেলতেন। বাংলাদেশে তখন অনেক ছেলে ইঞ্জিয়ার হতে চেয়েছিল এই ‘ম্যাকগাইভার’ দেখে।

 

রোবোকপ

‘শহরে একজন নতুন নাগরিক এসেছে, যার নাম... রোবোকপ’ এই বলে রোবোকপ শুরু হতো। অর্ধেক মানব আর অর্ধেক মেশিন। আর এই অদ্ভুত মানবের নামই ছিল রোবোকপ। বাংলাদেশের অনেকেই ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রোবোকপ’ ছবিটি দেখেননি। তাদের কাছে তখন টিভি সিরিয়াল হিসেবে পরিচিত এই ‘রোবোকপ’ সিরিজটিই ছিল একমাত্র আনন্দের উত্স। রোবোকপ রোবট, তার হাঁটার স্টাইলটা একটু আলাদা। তরুণরা তখন রোবোকপ স্টাইলে হাঁটার প্র্যাক্টিস করত। বিষয়টাতে অন্যরকম একটা মজা ছিল।

 

রবিন হুড

নব্বইয়ের দশকের তরুণীরা রবিন হুডের স্বপ্নে বিভোর থাকতেন। আর তরুণদের মাঝে ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি রাখার রীতির প্রচলন শুরু হয়। তত্কালীন বিটিভিতে প্রচারিত হওয়া জনপ্রিয় টিভি সিরিজগুলোর একটা ছিল ‘রবিনহুড’। এটি ওই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিয়াল। প্রতি দুই পর্বে একটি কাহিনি শেষ করা হতো।

হারকিউলিস

‘আলিফ লায়লা’র পর ‘হারকিউলিস’ ছিল দারুণ জনপ্রিয় বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে। হারকিউলিসের অতিমানবীয় কাজকর্ম মুগ্ধ হয়ে দেখত দর্শকরা। রূপকথা আর অ্যাকশনের মিশ্রণে অসাধারণ এক টিভি সিরিয়াল ছিল ‘হারকিউলিস’।

সিন্দাবাদ

‘আরব্য রজনী’ ভিত্তিক আরেক জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ছিল ‘সিন্দাবাদ’। সাগরের গুপ্তধন আর জলদস্যুদের কল্পকাহিনি নিয়ে নির্মিত সিরিজটি সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রচারিত হতো বিটিভিতে। ‘আলিফ লায়লা’ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ‘The New Adventure of Sindabad. কানাডিয়ান এই মেগাসিরিয়ালটি তখন সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় ছিল। বাংলাদেশেও এই সিরিয়ালটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সিন্দাবাদ, মেভ, লঙ্গার, ডোবার ও ফিরোজ—এই চরিত্রগুলো এই মেগা সিরিয়ালের প্রধান চরিত্র ছিল।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন