ব ই প ড়া
অভ্যাসটা পুরোনো, কিন্তু বরাবরই চকচকে
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
অভ্যাসটা পুরোনো, কিন্তু বরাবরই চকচকে

ইশরাত বিনতে আফতাব

 

 

 

কোনো এক অশিক্ষিত জাতিকে যদি মানসিকভাবে শিক্ষিত করতে চাও তাহলে তাদের দিকে কিছু বই ছুড়ে দাও—প্রবাদটি নেহাত ভুল নয়। মানবজীবনে বই এক পরম বন্ধু, পরম আশ্রয়। জীবনের বন্ধ দরজা-জানালাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। বইয়ের পাতায় সঞ্চিত থাকে হাজার বছরের সমুদ্র-কল্লোল। অতীত ও বর্তমানের অনন্য সেতুবন্ধন হলো বই। মানুষের মনোরাজ্যের দিগন্তকে প্রসারিত করে আলোকিত মানুষ হতে বইয়ের বিকল্প নেই। কারণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে গেলে জ্ঞান অর্জন ছাড়া উপায় নেই। টলস্টয় যথার্থই বলেছেন, ‘মানবজীবনের তিনটি অনুষঙ্গ হলো—বই, বই এবং বই।’

আর এই বই পড়ার প্রথম দীক্ষা শুরু হয় ছাত্রজীবনে। ছাত্রজীবন উপন্যাস, থ্রিলার, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ পাঠের এক দারুণ প্রহর। কিন্তু সেই পাঠচক্র কিংবা বই পড়ার অভ্যাসটা আজ আর আগের মতো জমাট বাঁধা ভালোলাগায় উদ্বেল করে না তরুণদের। একটা সময়, অর্থাত্ গত দুই দশক আগেও দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারে বই-ম্যাগাজিন পড়ার একটা প্রচলন ছিল অত্যন্ত গভীরভাবে। পড়ার তালিকায় ছিল মাইকেল মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে কাজী নজরুল, জীবনানন্দ, জসীমউদ্দীন, তারাশঙ্কর, মানিক বন্দোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, সমরেশ বসু, সত্যজিত্ রায়, আহসান হাবীব, শামসুর রাহমান, বিমল মিত্র, সৈয়দ শামসুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শওকত আলী, মাহমুদুল হক, শহীদ কাদরী, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, আশাপূর্ণা দেবী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, নীরেন্দ্রনাথসহ শত শত লেখকের কবিতা, গল্প ও উপন্যাস।

কাজী আনোয়ার হোসেনের গোয়েন্দা সিরিজ ‘মাসুদ রানা’র জনপ্রিয়তার কথা তো এক প্রজন্ম আগেও ছিল কিংবদন্তিতুল্য। কবিতা সাহিত্য, কথাসাহিত্য, নাট্যসাহিত্যের প্রতি যে টান অনুভব করত এক প্রজন্ম আগের তরুণ ও যুব সমাজ; সেখানে আজ জায়গা করে নিয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া। এই প্রজন্মের তরুণদের কাছে বইয়ের চেয়ে ছোট একটি মোবাইল মনিটরই হয়ে উঠেছে সর্বাধিক প্রিয়। সঙ্গে রয়েছে বিদেশি অসংখ্য টিভি চ্যানেল। বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজে গত তিন দশক আগেও যে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তোলার প্রবণতা লক্ষ করা যেত, সেখানে আজ ঠাঁই পেয়েছে কম্পিউটার আইটেম, প্যাডসহ প্রযুক্তির উত্কর্ষের সর্বশেষ সংযোজন। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের মন হয়ে উঠেছে যান্ত্রিক, শেকলবন্দি।

তবে এই যান্ত্রিক সময়েও আমাদের উচিত বইয়ের জন্য সময় বের করা। কারণ বই শাশ্বত, বই চিরতরুণ। যুগে যুগে, কালে কালে সভ্যতার ক্রমবিকাশে বই আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্ছে। সত্য, সুন্দর আর কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে হলে বই পড়া অবশ্যম্ভাবী। সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সমাজনীতিসহ জ্ঞানের এক অফুরান ভাণ্ডার হলো বই। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এসে নতুন প্রজন্ম বই পড়া ভুলে যাচ্ছে। অথচ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগতকে প্রসারিত করতে হলে বই পাঠে মনোযোগী হতে হবে। একটি ভালো বই অশান্ত মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। বই পড়ার এই রঙিন অধ্যায়কে বিবর্ণ হতে দেওয়া যাবে না কোনোভাবেই। শুভ হোক বইয়ের সঙ্গে ভ্রমণ!

মডেল : শাহজালাল জোনাক

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৬
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২১সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন