জিমেইল ল্যাবের ৭ ফিচার
২৯ মে, ২০১৫ ইং
জিমেইল  ল্যাবের ৭  ফিচার
জিমেইলের প্রচলিত সব ধরনের ফিচারের বাইরেও জিমেইল ল্যাবের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় এবং চমকিত হওয়ার মতো বিভিন্ন ধরনের ফিচার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অনেক নতুন ফিচারই জিমেইল ল্যাবে দীর্ঘদিন ব্যবহূত হয়ে গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনের পর যুক্ত হয় জিমেইলে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফিচারের পাশাপাশি এই ল্যাবে রয়েছে পাগলাটে ধরনের অনেক ফিচারও। এই লেখায় জিমেইল ল্যাবের সাতটি ফিচারের কথা জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত ইমেইল সেবার একটি গুগলের জিমেইল। একাধিক ইমেইল সেবা ব্যবহার করেন কিন্তু জিমেইল ব্যবহার করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এমনিতেই নানা ধরনের ফিচারে জিমেইল অনেক বেশি সমৃদ্ধ। তারপরেও পরীক্ষামূলক নতুন নতুন ফিচারের জন্য জিমেইল ল্যাব নামে রয়েছে বিশেষ একটি অংশ। এখানে প্রতিনিয়তই যুক্ত হয়ে যাচ্ছে পরীক্ষামূলক নানা ধরনের সেবা। আজগুবি ধরনের কিছু ফিচারেরও দেখা মিলবে এই জিমেইল ল্যাবে। জিমেইল ল্যাবটি সক্রিয় করে নিলেই এমন ফিচারগুলো আপনিও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

জিমেইল ল্যাবের ব্যবহার

জিমেইল ল্যাব ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে কোনো অপশন সক্রিয় করার প্রয়োজন নেই। জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ডানপাশের গিয়ার আইকনে ক্লিক করে যেতে হবে সেটিংস অপশনে। সেখান থেকে প্রবেশ করতে হবে ল্যাব মেন্যুতে। এখানেই তালিকা আকারে পাবেন নানা ধরনের পরীক্ষামূলক সব ফিচার। এসকল ফিচারের প্রতিটির ডান পাশেই পাবেন ‘Enable’ এবং ‘Disable’ রেডিও বাটন। যেকোনো ফিচারের ‘Enable’ বাটনটিতে ক্লিক করে ওপরের দিকে থাকা ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করলেই সক্রিয় হয়ে যাবে জিমেইল ল্যাবের ফিচারটি। এভাবে জিমেইল ল্যাবের যত খুশি ফিচার চালু করে নিতে পারবেন আপনার অ্যাকাউন্টে। একইভাবে কোনো ফিচারকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে হলে ‘Disable’ ক্লিক করে ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। কোনো ফিচার ব্যবহার করতে গিয়ে যদি গোলমাল করে ফেলেন এবং জিমেইল ল্যাবের সব ফিচারকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে জিমেইলের মূল ইনবক্সে ফেরত আসতে চান, তার উপায়ও রয়েছে। এর জন্য ওয়েব ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে https://mail.google.com/mail/u/0/?labs=0 ওয়েব ঠিকানা লিখে প্রবেশ করলেই জিমেইল ল্যাবের সব ফিচার নিষ্ক্রিয় হয়ে প্রবেশ করতে পারবেন মূল জিমেইল ইনবক্সে। এবারে দেখে নিই জিমেইল ল্যাবের চারটি প্রয়োজনীয় ফিচার।

পাঠানো মেইল ফেরত আনা

দরকারি ইমেইলটি পাঠিয়ে দিয়েই হয়তো বুঝতে পেরেছেন কোনো একটা ভুল করে ফেলেছেন। এবার উপায়? এই উপায়টি করে দিতেই জিমেইল ল্যাবে যুক্ত হয়েছে ‘আনডু সেন্ড’ ফিচারটি। এই ফিচারটি চালু করলে আপনার নির্দিষ্ট করা ৫, ১০, ২০ বা ৩০ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত আপনি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন আপনার পাঠানো ইমেইলটি। এই ফিচারটি চালু করা হলেই প্রতিবার জিমেইল থেকে ইমেইল পাঠানোর পর ইমেইল পাঠানোর বার্তার সাথে সাথে ‘undo’ অপশনটি হাজির হবে। এতে ক্লিক করলেই ইমেইলটি আর পৌঁছাবে না প্রাপক বরাবর। ফলে ইমেইলে কোনো ভুল থাকলে সেটি সংশোধন করে পুনরায় পাঠানোর সুযোগ পেয়ে যাবেন সহজেই।

ইমেইলের পূর্ব-নির্ধারিত উত্তর

যাদের অনেক বেশি ইমেইল প্রতিদিনই চালাচালি করতে হয় তাদের অনেক ক্ষেত্রেই একাধিক ইমেইলের একই জবাব পাঠাতে হয়। মোবাইলের মেসেজের ক্ষেত্রে কিছু টেমপ্লেটের মাধ্যমে মেসেজের উত্তর পাঠানোর সুবিধা থাকলেও জিমেইলে সরাসরি এই সুযোগটি নেই। এই সীমাবদ্ধতাটি দূর করবে জিমেইল ল্যাবের ‘Canned Responses’ ফিচারটি। এই ফিচারটির মাধ্যমেও আগে থেকেই নির্ধারিত কিছু উত্তর পাঠাতে পারবেন একই ধরনের ইমেইলের জন্য; প্রতিবার আলাদা আলাদা করে একই উত্তর লিখতে হবে না। এর জন্য জিমেইল ল্যাবে গিয়ে প্রথমেই ক্যানড রেসপন্স ফিচারটি সক্রিয় করে নিতে হবে। এরপর জিমেইলের কম্পোজ অপশনে গিয়ে ইমেইলের মূল বডিতে লিখতে হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি। এরপর ইমেইল উইন্ডোর ডানপাশের নিচের দিককার অ্যারো চিহ্নতে ক্লিক করে ক্যানড রেসপন্স অপশনটি নির্বাচন করে দিতে হবে। সেখান থেকে ‘নিউ ক্যানড রেসপন্স’ নির্বাচন করে এই উত্তরটির একটি নাম দিয়ে সংরক্ষণ করে নিতে হবে। এভাবে আপনার প্রয়োজন হয়, এমন অনেকগুলো প্রত্যুত্তর আগে থেকেই লিখে রাখতে পারবেন। পরে কোনো ইমেইলের উত্তর দিতে গিয়ে আবারও ওই অ্যারো চিহ্নে ক্লিক করে ক্যানড রেসপন্সে ক্লিক করে তালিকা থেকে আপনার প্রয়োজনীয় প্রত্যুত্তরটি বেছে নিতে পারবেন সহজেই।

প্রিভিউ প্যান

িঁজমেইল ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণত প্রতিটি ইমেইলকে আলাদা আলাদা করে খুলতে হয়। সাধারণভাবে কোনো প্রিভিউ প্যান না থাকায় প্রতিদিন বেশি পরিমাণ ইমেইল দেখতে হলে সময়ের ব্যয় হয় প্রচুর। এই ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকার জন্য ব্যবহার করতে পারেন জিমেইল ল্যাবের প্রিভিউ প্যান ফিচারটি। এই অপশনটি সক্রিয় করলে জিমেইলের ওপরের কোণার গিয়ার আইকনের নিচে প্রিভিউ প্যান চালু ও বন্ধ রাখার অপশনটি চালু হয়ে যাবে। এরপর প্রিভিউ প্যান চালু রাখলে তা আনুভূমিক ও উলম্ব—দুইভাবেই দেখতে পারবেন। উলম্বভাবে প্রিভিউ প্যান সক্রিয় করলে ইনবক্সের বাম পাশে থাকবে ইনবক্সে থাকা ইমেইলগুলোর তালিকা। আর তখন ইমেইলগুলো স্ক্রল করে করেই ডান পাশে দেখতে পারবেন ইমেইলগুলোর প্রিভিউ। আবার আনুভূমিকভাবে প্রিভিউ প্যান চালু করলে ওপরের অংশে থাকবে ইমেইলের তালিকা, আর নিচের দিকে প্রতিটি ইমেইলের প্রিভিউ চলে আসবে।

অটো-অ্যাডভান্স

যাদের প্রচুর ইমেইল নিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য প্রতিটি মেইল আলাদা করে খুলে নিয়ে সেটি নিয়ে কাজ করার পর নতুন মেইল খুলতে আবার ফিরতে হয় ইনবক্সে। এতে করে বেশ ভালো পরিমাণ সময় নষ্ট হয়ে যায় প্রতিদিন। অটো-অ্যাডভান্স ফিচারটি জিমেইল ল্যাব থেকে সক্রিয় করে নিলে কোনো মেইল নিয়ে কাজ শেষ করার পর তা ডিলিট করে দিলে বা আর্কাইভ করে রাখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পরের বা আগের ইমেইলে চলে যেতে পারবেন। খুব ছোট্ট এই ফিচারটি বেশি ইমেইল নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সময় সাশ্রয়ের জন্য বেশ কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে।

কুইক লিংক

জিমেইলে সাধারণভাবেই ইমেইলগুলোকে ক্যাটাগরি হিসেবে সাজানোর জন্য বেশকিছু অপশন রয়েছে। তারকাচিহ্নিত করে গুরুত্বপূর্ণ ইমেইলগুলোকে যেমন আলাদা করা যায়, তেমনি নির্দিষ্ট ধরনের কাজের জন্য ইমেইলের আলাদা ফোল্ডারও করা যায়। এর বাইরেও আপনার নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন কাজের জন্য জিমেইল ল্যাবের কুইক লিংক ফিচারটি বেশ কাজের হতে পারে। এটি সক্রিয় করলে জিমেইলে বুকমার্ক করা যায়, এমন যেকোনো অপশন কুইক লিংকে সংরক্ষণ করা যায়। এর মধ্যে রাখা যাবে জিমেইলে সার্চ করা যেকোনো তথ্য, কোনো নির্দিষ্ট ইমেইল, নির্দিষ্ট ইমেইল ফোল্ডার বা লেবেল, কোনো লিংক ইত্যাদি। এরপর জিমেইলের বাম পাশের সাইডবারে কুইক লিংকে গেলেই এখানে সংরক্ষিত যেকোনো আইটেমে প্রবেশ করতে পারবেন এক ক্লিকেই।

অ্যাপ সার্চ

জিমেইলের পাশাপাশি আপনি যদি নিয়মিত গুগল ডক এবং গুগল সাইটগুলো ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এই জিমেইল ল্যাবের এই ফিচারটি আপনার অনেক কাজকে সহজ করে দিতে পারে। এই ফিচারটি সক্রিয় করে নিলে জিমেইল থেকেই যেকোনো তথ্য সার্চ করলে তা জিমেইলের পাশাপাশি গুগল ডকস এবং গুগল সাইট থেকেও আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সার্চ করে দেখাবে। সার্চ রেজাল্টে শুরুতে জিমেইলের লিংকগুলো আসার পর নিচের দিকে দেখাবে বাকি দুইটি সাইটের সার্চ রেজাল্ট। ফলে গুগল সংক্রান্ত সব সার্চ জিমেইল থেকেই সেরে নিতে পারবেন।

কাস্টম কিবোর্ড শর্টকাট

কিবোর্ড শর্টকাট আমরা সকলেই ব্যবহার করে থাকি। কাজের সময় কিবোর্ড শর্টকাটগুলো প্রচুর সময়ের সাশ্রয় করে থাকে। সাধারণভাবে জিমেইলের জন্যও রয়েছে বেশকিছু কিবোর্ড শর্টকাট। কিন্তু এই কিবোর্ড শর্টকাটগুলো আপনার মনমতো নাও হতে পারে। আর কিবোর্ড শর্টকাটের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে তা আপনার কাজের গতি বাড়ানোর বদলে বরং কমিয়ে দিতে পারে। তাই নিজের মতো করে জিমেইলে কিবোর্ড শর্টকাট কাস্টমাইজ করে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে জিমেইল ল্যাবে। এই অপশনটি সক্রিয় করে নিয়ে আপনি সহজেই আপনার প্রয়োজনমতো যেকোনো কাজের জন্য কিবোর্ড শর্টকাট তৈরি করে নিতে পারবেন। তাহলে আপনার কাজের গতি নিয়ে আর চিন্তিত হতে হবে না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৯ মে, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পড়ুন