মার্কিন ভিসা আবেদনে লাগবে ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
মার্কিন ভিসা আবেদনে লাগবে  ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদ। ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রির অভিযোগে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে ফেবকুকের নাম। এর আগেও মার্কিন নির্বাচনে ফেসবুকের প্রভাব লক্ষ্যনীয়। সম্প্রতি মার্কিন সরকার ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে ভিসা আবেদনকারীর বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে যাচাই বাছাই করবে বলে দ্য গার্ডিয়ানে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রস্তাবিত আইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। বিস্তারিত লিখেছেন মোজাহেদুল ইসলাম

ট্রাম্প প্রশাসন চায় আমেরিকার ভিসা পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনতে।  তাদের প্রস্তাবিত দাবি অনুযায়ী মার্কিন ভিসা পেতে হলে ভিসা আবেদনকারীকে দিতে ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য। প্রস্তবিত এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়নের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিকে চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন অভিবাসীর অপেক্ষায় ও আতঙ্কে রয়েছে- কীভাবে এই তথ্য সংগ্রহ করবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী ভিসা আবেদনকারীদের নাম তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ই-মেইল অ্যাড্রেস, ফোন নম্বর এবং সম্প্রতির ৫ বছর যে দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছে তার তথ্য আরো অনেক তথ্যের প্রয়োজন হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে - যারা আমেরিকার ভিসা পেতে চান তাদের প্রায় প্রত্যেকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা কি করছেন তার তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করতে চান। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর ফলে, মার্কিন ভিসার আবেদনকারীদের প্রায় সবাইকে তাদের ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। ভিসার আবেদনের আগেকার পাঁচ বছরে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় কী পরিচিতি ছিলো - তার সকল তথ্য জানাতে হবে আবেদনকারীকে। যারা ইমিগ্র্যান্ট এবং নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চান - তাদের সম্পর্কে তথ্য যাচাই বাছাই করার জন্য এই তথ্য ব্যবহূত হবে। তাদেরকে আরো দিতে হবে গত পাঁচ বছরের সব টেলিফোন নাম্বার, ইমেইল ঠিকানা এবং ভ্রমণের ইতিহাস। আবেদনকারীদের জানাতে হবে যে তারা আগে কোন দেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন কিনা। এ ছাড়াও আবেদনকারীর কোন আত্মীয় সন্ত্রাসবাদী কাজে জড়িত ছিলেন কিনা তাও জানাতে হবে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স এবং জার্মানির নাগরিকদের - যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা পান - তাদের ওপর এ প্রস্তাবের কোন প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ভারত, চীন বা মেক্সিকোর মতো দেশের ভ্রমণার্থীরা সমস্যায় পড়তে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০১৫ সালে সেন্ট বার্নাডিনোতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১৪ জন নিহত হবার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি শুরু হয়। কারণ কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল যে মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে আক্রমণকারীদের উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হবার আভাস ছিলো, কিন্তু তারা তা চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এর পর গত মে মাসে নিয়ম করা হয় যে কর্মকর্তারা প্রয়োজনে কারো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্মকান্ড পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন। নাগরিক অধিকার গ্রুপগুলো এধরণের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল রেজিস্ট্রার এ প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষে। রাষ্ট্রে আসতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নতুন ভিসা আবেদনপত্রটি সম্পর্কে মার্কিন নাগরিকের মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রকাশের পর থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকরা এ বিষয়ে মতামত দেয়ার সুযোগ পাবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ধারণা, নতুন নিয়ম চালু হলে ৭ লাখ ১০ হাজার অভিবাসী ও অভিবাসী নয় এমন ১ কোটি ৪০ লাখ ভিসা আবেদনকারী এর আওতায় আসবেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে ব্যক্তিগত ও সোস্যাল মিডিয়ার তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি আবেদনকারীর গত পাঁচ বছরে ব্যবহূত ফোন কিংবা মোবাইল নম্বরের বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হবে। তবে কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতো বিশেষ ভিসার আবেদনকারীরা এর আওতায় থাকবেন না।

আপনার সব তথ্য ফেসবুক এবং গুগলে রয়েছে। আপনি কি প্রস্তুত?

ফেসবুক এবং গুগল তাদের সেবা প্রদাণের বিপরীতে যে তথ্যগুলো জমা রেখেছে তা তাদের প্রয়োজনের অনেক বেশি। কীধরেনের তথ্য তারা সংগ্রহ করে তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো-

গুগল জানে আপনার পূর্ব অবস্থান

আপনার মোবাইল ফোনটি চালু করলেই প্রত্যেক বার গুগল আপনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে যদি অবস্থান ট্র্যাকিং সার্ভিসটি চালু করে রাখেন। মোবাইলে এই সুবিধাটি ব্যবহারের শুরুর দিন থেকে আপনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যগুলো গুগলে দেখতে পাবেন। আপনি আপনার অবস্থান সাংক্রান্ত তথ্যটি জানতে চাইলে গুগলের goo.gl/n3XdpY এই লিংকটিতে প্রবেশ করতে পারেন। এখানে প্রবেশ করলে গত ১২ মাসে আপনি কোথায় অবস্থান ট্র্যাকিং দিয়েছেন তার তথ্য দেখতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এই অবস্থানে থাকার সয়ম জানার পাশাপাশি বর্তমান অবস্থান থেকে আপনি পুনরায় সেখানে যেতে চাইলে কতো সময় লাগবে তাও প্রদর্শন করবে।

গুগল আপনার সব জানে যা আপনি অনুসন্ধান করছেন এবং ডিলিট করছেন

গুগল আপনার ডিভাইসে ব্যবহূত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। হতে পারে-আপনি আপনার ডিভাইস থেকে কী কী অনুসন্ধান করেছেন, কী কী ডিলিট করেছেন এবং কোনা ফোন নম্বর সংরক্ষণ করেছেন ও ডিলিট করেছেন তার তথ্য। এই বিষয়ে যদি আপনি নিজে জানতে চান তাহলে goo.gl/66ez6v এই লিংকে প্রবেশ করতে পারেন। এই লিংকটিতে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন বিস্তারিত। লিংকটিতে ক্লিক করলেই নতুন একটি পেজ চালু হবে এবং সেখানে দেয়া নির্দেশনানুযায়ী আপনি দেখতে পাবেন কোন সাইটগুলোতে আপনি ভিজিট করেছেন এবং কোন কোন তথ্য আপনার সংরক্ষিত রয়েছে।

ফেসবুকসহ অন্য সাইটগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপনীয়তা বর্জন করে ব্যবহারকারীরা

গুগলে আপনার একটি বিজ্ঞাপন প্রোফাইল রয়েছে

গুগল আপনা অবস্থান, লিঙ্গ, বয়স, শখ, পেশা, আগ্রহ, সম্পর্কের তথ্য, আপনার ওজন এবং আপনার আয় নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রোফাইল তৈরি করে। এই প্রোফাইল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবেশ করতে পারেন এই লিংকটিতে goo.gl/J9ZQZG। এই লিংকে প্রবেশ করলে জনতে পারবেন আপনা কী কী ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে গুগল।

গুগল জানে আপনি কোন অ্যাপগুলো ব্যবহার করেন

গুগল আপনা ব্যবহূত প্রতিটি অ্যাপের এক্সটেনশন তথ্য সংরক্ষণ করে। তারা জানে আপনি এগুলো কী পরিমানে ব্যবহার করছেন এবং  কোথায় এগুলো ব্যবহার করছেন। এর মানে হলো- আপনি ফেসবুকে কার সঙ্গে কথা বলছেন, কোন দেশে কথা বলছেন, কী কথা বলছেন এবং কখন আপনি ঘুমিয়ে থাকেন। এই তথ্য জানতে চাইলে ভিজিট করতে পারেন এই লিংকটিতে goo.gl/cwsokA।

গুগলে আপনার সমস্ত ইউটিউব ইতিহাস রয়েছে

গুগল আপনার ইউটিউব এর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। এ তথ্যও তারা জানে যে কখন আপনি সন্তানের পিতা/মাতা হতে যাচ্ছেন। যদি আপনি এই তথ্য সংরক্ষণে আগ্রহী হন এবং আপনি যদি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন। আপনি কোন ধর্মের অনুসরণ করেন এবং কোন ধর্মকে অনুসরণ করেন না সে তথ্যও সংরক্ষণ করে ইউটিউব। তথ্যগুলো যাচাই করতে প্রবেশ করতে পারেন  goo.gl/VmNk3Z  এই লিংকটিতে।

ফেসবুকও আপনার ওপর ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করে

আপনার সমস্ত তথ্য ডাউনলোড করে নিতে পারবেন একটি লিংক থেকে। এই তথ্য ৬০০ মেগাবাইট এর অধিকও হতে পারে। এমনকি ৪ লাখ এর অধিকও হতে পারে। এই তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের বার্তা অদান-প্রদান এর ইতিহাস। এছাড়াও আপনি যে অডিও বার্তাগুলো পাঠিয়েছেন সেগুলোর তথ্য এখানে রয়েছে। প্রদত্ত লিংকে ক্লিক করলেই দেখতে পারবেন কাঙ্খিত সেই তথ্যের ইতিহাস। লিংকটি হলো goo.gl/KARsp8।

গুগল জানে আপনি কখন কোন ইভেন্টে যোগদান করেছেন

গুগলের কাছে আপনার সেই তথ্যও রয়েছে যে ইভেন্টগুলোতে আপনি যোগদান করেছেন। শুধু তাই নয়, আপনি কখন এবং কোথায় এই ইভেন্টগুলোতে যোগদান করেছেন তারও তথ্য রয়েছে গুগলের কাছে। ইভেন্টটি কী বিষয়ের ছিলো তাও জানে গুগল। এছাড়াও আপনি ই-মেইলের মাধ্যকে কী লেনদেন করছেন, কী কী ডিলিট করেছেনসহ বিস্তর তথ্য রয়েছে গুগলের কাছে।

 সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান ও এবিসি নিউজ

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন