পোশাক রপ্তানির বিদ্যমান করহার আরো ৫ বছর বহাল রাখার দাবি
এনবিআরের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনায় পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
পোশাক রপ্তানির বিদ্যমান করহার আরো ৫ বছর বহাল রাখার দাবি
গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান দশমিক ৩০ শতাংশ উেস করহার আগামী ৫ বছরের জন্য বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তারা। সেই সঙ্গে এ করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত করা, গার্মেন্টস কোম্পানির আয়কর বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে পূর্বের ন্যায় ১০ শতাংশ করা, গার্মেন্টস খাতের কর্মপরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহার করার দাবিও জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম এ দাবি জানান।

এছাড়া আগামী তিন বছরের জন্য সব ধরনের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানি মূল্যের উপর নগদ সহায়তা বিদ্যমান দশমিক ২৫ শতাংশের স্থলে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়া, কমপ্লায়েন্ট কারখানার জন্য ৬ শতাংশ ঋণের স্বার্থে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ রাখা, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা, শিল্পঘন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবিও জানানো হয়।

এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দীনের সভাপতিত্বে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ খাতের নেতা ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রানা প্লাজার পর গার্মেন্টস খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের পর শেয়ারড ভবনে কোন বিদেশি ক্রেতা (বায়ার) অর্ডার দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ৪০ শতাংশ কারখানা এখনো শেয়ারড ভবনে। এ সব কারখানায় ১৪ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। দ্রুত এসব কারখানা স্থানান্তর করা দরকার। যে সব কারখানা স্থানান্তর করতে চায় তাদের বাজেটে বিশেষ সুবিধা দেয়া উচিত। কেননা কমপ্লায়েন্ট কারখানা ছাড়া আর কেউ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না।

কারখানাকে কমপ্লায়েন্ট করার জন্য বেশ কিছু নিরাপত্তা সামগ্রীর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে সরকার। এই তালিকায় আরো কিছু সামগ্রীকে যুক্ত করা, এসব সামগ্রী ও যন্ত্র আমদানিতে বিদ্যমান ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়।

গার্মেন্টস খাতের জন্য বিভিন্ন পণ্য ও সেবার যোগানদার, পরিবহন ঠিকাদার ও সিকিউরিটি সার্ভিস সেবার ক্ষেত্রে এনবিআরের দাবিকৃত বিগত বছরের ভ্যাট প্রত্যাহার করা, প্রি-ফেব্রিকেটেড (স্টিলের কাঠামো) ভবনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রথা বাতিল করা, এসব ভবনের অগ্নি নিরোধক কালার কোটিং আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর মওকুফ করা, গ্রীন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্নি নির্বাপক আধুনিক বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, এলইডি বাল্ব, টিউব লাইট আমদানিকে শুল্ক সুবিধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়।

রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ তদারকির জন্য শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটকে প্রদত্ত দায়িত্ব বাতিল করা, এ শিল্পের অডিট কার্যক্রমের জন্য দলিলাদি দাখিলের সময়সীমা বিদ্যমান ৩ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস করা, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি মেয়াদ শেষে অনুপযোগী হওয়ার পর বিনাশুল্কে বিক্রয়ের সুবিধা দেয়ারও দাবি জানানো হয়।

এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এ সময় বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি আসলাম সানি, বিজিএপিএমইএর সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী, বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দীন পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্ব তৈরির উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। এ জন্য উভয় পক্ষেরই দায় রয়েছে। তবে বাজেটে ন্যায়সঙ্গত দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন