এমআরএ’র মতবিনিময় সভায় বক্তারা
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের সেতুবন্ধন জোরদারের দাবি
৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
g ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যখন শুরু হয় তখন এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণযোগ্য তহবিলে শতভাগ অবদান ছিল দাতা সংস্থাগুলোর। এখন সে অবস্থার অবসান হয়ে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এখন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিলের বড় অংশের যোগান দিচ্ছে দেশের কার্যরত ব্যাংকগুলো। তাই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সেতুনবন্ধন আরো জোরদার করার কথা বলা হয়। আর এ উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক প্রতিনিধিদের নিয়ে গতকাল রাজধানীতে আয়োজন করা হয় আঞ্চলিক মতবিনিময় সভার।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির (এমআরএ) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা অঞ্চলের ১৮০টি এনজিও এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক, শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের ৫৫ জন প্রতিনিধি, নেটওয়ার্কিং এজেন্সি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং এমআরএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান লাইলা বিলকিস আরা বলেন, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ঢাকা অঞ্চলে কার্যরত ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আর্থিক সেতুবন্ধন তৈরি করা। সেটা হলে উভয় পক্ষই বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়াসহ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ঋণের চাহিদা পূরণে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংযোগ হলে রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের সম্প্রসার হবে। এতে ঋণের চাহিদা যোগান দেয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন জোরদার হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমির প্রিন্সিপাল কেএম জামশেদুল জামান বলেন, দেশের অর্থের প্রবাহ বাড়ানোরা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ খাতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. নূরুন নবী তালুকদার বলেন, ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২১ শতাংশে নামিয়ে আনা যায় কিনা সে বিষয়ে যাচাই-বাচাই করা উচিত।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, চলমান বৈশ্বিক মন্দার প্রেক্ষিতে ইউরোপ ও জাপানের মতো উন্নত দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও আমাদের অর্থনীতি একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এমনকি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতিতেও আমাদের অর্থনীতির তেমন ক্ষতি হয়নি। এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটাই অন্তর্ভুক্তিমূলক। আর এ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর ভূমিকা পালন করে চলেছে। আজকের মতবিনিময় সভাটি গুরুত্বপূর্ণ দুটি আর্থিক খাত অর্থাত্ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম রূপকার। কেননা, আপনারাই উত্পাদন খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকাকে সচল রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

মতবিনিময় সভায় বলা হয়, ২০১১ সালের জুন ৯১টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছিল ২৩৫৮ কোটি টাকা। ২০১৩ এর জুনে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮০টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৫১৪৯ কোটি টাকা; যা ক্ষুদ্রঋণ খাতে মোট ঘূর্ণায়মান তহবিলের প্রায় ১৭ শতাংশ। এখনো এ খাতে ঋণ প্রদানের সুযোগ ও চাহিদা উভয়টাই রয়েছে। দরিদ্র জনসাধারণের কল্যাণে ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো অধিক পরিমাণে ঋণ প্রদান করতে পারে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন