দেশীয় চিনি শিল্প রক্ষায় নতুন উদ্যোগ
আমদানি নিয়ন্ত্রণে ২০% নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ ও ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ
রিয়াদ হোসেন২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
দেশীয় চিনি শিল্প রক্ষায় নতুন উদ্যোগ
দেশীয় চিনিকলগুলোকে রক্ষা করতে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার উদ্যোগ নিল রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চিনি আমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নতুন করে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চিনি আমদানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ট্যারিফ মূল্যও ঠিক করে দিয়েছে। অপরিশোধিত চিনি প্রতি টন ৩২০ মার্কিন ডলার ও পরিশোধিত চিনি প্রতি টন ৪শ ডলারের নিচে দাম ধরা যাবে না। গতকাল বুধবার এনবিআর এ বিষয়ে আলাদা দুটি আদেশ (এসআরও) জারি করেছে। এতদিন চিনি আমদানিতে নামমাত্র শুল্ক ছিল। অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি আমদানিতে যথাক্রমে ২ হাজার টাকা ও সাড়ে ৪ হাজার টাকা শুল্ক (স্পেসিফিক ডিউটি) ছিল। এর বাইরে ৪ শতাংশ হারে অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) আরোপ ছিল। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির শুল্ক হবে টনপ্রতি যথাক্রমে ৭ হাজার ও সাড়ে ১০ হাজার টাকা।

দেশীয় চিনিকলগুলোর হাতে হাজার হাজার টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও দেদারসে চিনি আমদানি হচ্ছে। ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুণতে থাকা চিনিকলগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাই পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে দেশীয় চিনিকল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন থেকেই চিনির উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

অবশ্য চিনির উপর নতুন এ শুল্ক আরোপের ফলে খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সামপ্রতিক পেঁয়াজের বাজারের মত চিনির বাজারও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।  

বর্তমানে আমদানিকৃত চিনি পরিশোধন (রিফাইন) করে বেসরকারি উত্পাদকেরা খুচরা পর্যায়ে বাজারে বিক্রি করছে ৪০ টাকা কেজি দরে। আর দেশীয় চিনি ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। মিল গেটে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়। ঢাকা চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের গেটে ৪২ টাকায়। আমদানিকৃত চিনি রিফাইন করার পর রং ধবধবে সাদা হওয়ায় এ চিনিতে ক্রেতার আগ্রহ বেশি। অন্যদিকে এ চিনির দামও দেশীয় চিনির তুলনায় কিছুটা কম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ব্যবসায়ী কত টন চিনি আমদানি করছে, কত মূল্যে আমদানি করছে এবং বাজারে কত মূল্যে তা সরবরাহ করছে এ ব্যাপারে সরকারের একটি জোরালো ও কার্যকরী মনিটরিং নেই। অন্যদিকে চিনি মিল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় চিনি শিল্পকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে আমদানিকারকরা কম দামে চিনি বিক্রি করছেন। দেশীয় চিনিকল লোকসান গুণতে গুণতে একসময় নি:শেষ হয়ে গেলে তখন আমদানিকারকরা একচেটিয়া ব্যবসা করবে।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৫ টি চিনি কলে এখন অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন চিনি। যার আর্থিক মূল্য প্রায় সোয়া পাঁচশ’ কোটি টাকা। আর চিনির চাহিদা বছরে ১৪ লাখ টন। চাহিদার ৯২ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মাত্র ৮ শতাংশ চিনি উত্পাদন করেও রাষ্ট্রায়ত্ত কলগুলো তা বিক্রি করতে পারছে না। ১৯৭২  সাল থেকে এই কর্পোরেশনের লোকসান প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন